আজ, সোমবার থেকেই রাজ্যে গুন্ডাদমন আইনের একটি অংশ কার্যকর হল। নবান্ন থেকে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। আরও একবার জোর গলায় সেই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গত অধিবেশনেই বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল পেশ করা হয়েছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে ওই বিল পাশও হয়ে যায়। এরপর ওই বিল গিয়েছিল রাজ্যপালের কাছে। রাজ্যপাল বিলে সই করেছেন বলে প্রাথমিক খবর। দ্রুত সিএএ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। সেই কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আজ, সোমবার সন্ধ্যায় নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সিএএ সার্টিফিকেট থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বার্তা দিয়েছেন তিনি। সেখানেই গুন্ডাদমন আইন নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়ে দিলেন, “আজ, সোমবার থেকেই গুন্ডাদমন আইনের একটি অংশ কার্যকর হল পশ্চিমবঙ্গে। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না।” সরকারি সম্পত্তি নষ্টে ৩ গুণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে, তাও আবার সুদ-সমেত। পুলিশের উপর হামলা হলেই দ্রুত পদক্ষেপ হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
জুলাই মাসের শুরুতেই বিধানসভায় পাশ হয় ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। সংক্ষেপে যা ‘গুন্ডা দমন বিল’ রূপে পরিচিতি পেয়েছে। বিলটি পাশ করার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় জানিয়েছেন ‘গুন্ডামুক্ত বাংলা’ গড়তে এই বিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধানসভায় এই সংক্রান্ত পুরনো একটি আইন সংশোধন করে পাস করা হয়েছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেনেন্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। গুন্ডামি রুখতে জোড়া বিলে পুলিশ-প্রশাসনকে প্রতিরোধমূলক আটক করার ক্ষমতা প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সংস্থান আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে।
তৃণমূল আমলে সিএএ বিরোধী আন্দোলনে আগুন জ্বলেছিল মুর্শিদাবাদের একাধিক জায়গা। ট্রেন, রেল স্টেশন, সরকারি বাস আন্দোলনের নামে পোড়ানো হয়েছিল। দিন কয়েক রীতিমতো দুষ্কৃতীদের ‘মুক্তাঞ্চল’ ছিল ওই এলাকা। হাওড়ার সাঁকরাইল এলাকাতেও বিপুল সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছিল। তৃণমূল আমলে পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও দেখা গিয়েছে। নিজেকে বাঁচাতে তৃণমূল জমানায় পুলিশকে টেবিলের নিচে লুকোতেও দেখা গিয়েছিল! রাজ্যে বিজেপি সরকারের আমলে কোনও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা যাবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
হিন্দু শরণার্থীদের এদেশের নাগরিকত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছিল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। সিএএ আইনও চালু হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসা মতুয়ারাও এদেশের নাগরিকত্ব পাবেন। সেই বার্তা, আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার রাজ্যে ভোটের প্রচারে এসে দিয়েছিলেন। নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজও চলছে বাংলায়। এদিন সিএএ নিয়েও বড় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। “বাংলাদেশি শরণার্থীদের দ্রুত নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। দ্রুত সিএএ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে।” সেই কথা সাংবাদিক বৈঠকে নবান্ন থেকে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বাবা পরিযায়ী শ্রমিক, বহু কষ্টে পড়াশোনা, নিটে সফল আতাউলের স্বপ্ন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ হওয়া
-
ফি বৃদ্ধি, হয় না ক্লাস! পাক বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলকালাম, পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মাঝেই গুলি সেনা আধিকারিকের
-
লক্ষ্য পাহাড়ের উন্নয়ন, এবার কলকাতায় শমীকের সঙ্গে বৈঠকে গোর্খা নেতা গুরুং
-
প্রদেশ কংগ্রেসে আরও কোনঠাসা অধীর! বাতিল রবিবারের যোগদান, তৃণমূলীদের নিয়ে আপত্তি এআইসিসির
-
সেপ্টেম্বরেই ভারতে পুতিন! মস্কোয় বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্টকে মোদির বার্তা পৌঁছে দিলেন জয়শংকর