বিশ বাঁও জলে ‘হেরা ফেরি ৩’ (Hera Pheri 3 Row)! ফের আইনি জটিলতায় বলিউডের জনপ্রিয় কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিতর্কের সূত্রপাত সিনেমার স্বত্ব নিয়ে। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করেছিল দক্ষিণী প্রযোজনা সংস্থা ‘সেভেন আর্টস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’। এবার সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে পালটা আদালতের দ্বারস্থ হলেন নাদিয়াদওয়ালা। অভিযোগ, তাঁর কেনা ছবির স্বত্বকে জোর করে জবরদখল করার চেষ্টা করছে ‘সেভেন আর্টস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’।
আরও পড়ুন:
২০০০ সালে ‘মেসার্স কমপ্যাক্ট ডিস্ক ইন্ডিয়া লিমিটেড’-এর সুরেশ কুমার সিংঘলের কাছ থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে হিন্দি এবং দক্ষিণী ভাষা ছাড়াও অন্যান্য ভাষায় এই গল্পের রিমেক স্বত্ব আইনিভাবে কিনে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ‘হেরা ফেরি’ মুক্তি পাওয়ার ঠিক সাত দিন আগে ক’জন ব্যক্তি জোরজুলুম করে তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন।
বলিউড মাধ্যম সূত্রে খবর, প্রযোজক ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালা মুম্বইয়ের আম্বোলি থানায় ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘হেরা ফেরি’র কপিরাইট এবং রিমেক স্বত্ব নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি পারস্পরিক যোগসাজশে তাঁর আইনি অধিকার জবরদখল করতে এবং জোরজুলুম করে তাঁর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার অভিযোগনামায় উল্লেখ, ১৯৮৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মালয়ালাম ছবি ‘রামজি রাও স্পিকিং’-এর অবলম্বনে ‘হেরা ফেরি’ তৈরি হয়েছিল। ২০০০ সালে ‘মেসার্স কমপ্যাক্ট ডিস্ক ইন্ডিয়া লিমিটেড’-এর সুরেশ কুমার সিংঘলের কাছ থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে হিন্দি এবং দক্ষিণী ভাষা ছাড়াও অন্যান্য ভাষায় এই গল্পের রিমেক স্বত্ব আইনিভাবে কিনে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০০০ সালে ‘হেরা ফেরি’ মুক্তি পাওয়ার ঠিক সাত দিন আগে ক’জন ব্যক্তি জোরজুলুম করে তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন। সেই সময়ে ছবিটিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়ে গিয়েছিল। তাই মানহানি এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় আদালতের পক্ষ থেকে আমার অনুকূলে স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও, আমাকে চাপের মুখে পড়ে সেই অর্থ পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু ২৫ বছর পর আবারও সেই বিষয়টি কেন মাথাচাড়া দিল?

এপ্রসঙ্গে নাদিয়াদওয়ালার অভিযোগ, মূল ছবিটির স্বত্বাধিকারী সিদ্দিক কেএল এবং এম পল মাইকেল, যাঁরা উভয়েই জানতেন যে ছবিটির স্বত্ব অনেক আগে বিক্রি হয়ে গিয়েছে, তাঁরা ২০২২ সালের ১২মে ‘মেসার্স সেভেন আর্টস ইন্টারন্যাশনাল’-এর গোপালা পিল্লাই বিজয়কুমারের কাছে পুনরায় সেই স্বত্ব ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। প্রযোজকের অভিযোগের ভিত্তিতেই এবার গোপালা পিল্লাই বিজয়কুমার এবং এম পল মাইকেলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ৩১৮(৪), ৩৫৬ এবং ৩(৫) ধারার অধীনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ফিরোজ এও অভিযোগ করেন যে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি একটি আইনি নোটিস পান, যেখানে তাঁর প্রযোজিত ২০০৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ফির হেরা ফেরি’কে ‘অবৈধ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এবং আমার কাছে ৬০ লক্ষ টাকা এবং ছবিটির মোট লাভের ২৫ শতাংশ দাবি করেছিল। পাশাপাশি তিনি এও বলেন যে, অভিনেতা অক্ষয় কুমার, সুনীল শেট্টি এবং পরেশ রাওয়ালের নাম ব্যবহার করে তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে, যা তাঁর পেশাগত সুনাম নষ্ট করছে। খবর, এই অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং খুব শিগগিরিই ওই দুই প্রযোজককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘একজনকে বিয়ে করব, একজনকে সারারাত নাচাবো’, দুই নৃত্যশিল্পীকে কুকথা বলা সেই টিকিট পরীক্ষক গ্রেপ্তার
-
বিয়ের পরও মা-বাবার মাঝে ঘুমোন বিজয়! শ্বশুরবাড়ির কাণ্ড লেন্সবন্দি করে কী আক্ষেপ রশ্মিকার?
-
লাভ হল না ভালো তৃণমূলে যোগেও! অনুব্রত ‘কাঁটা’য় জেলা পরিষদের সভাপতি পদ ছাড়লেন কাজল
-
পাক হাই কমিশনে বুলডোজার চালাল ভারত! গুঁড়িয়ে গেল বেআইনি নির্মাণ
-
মদনের পর সিএবি’তে ফের বয়স ভাঁড়ানো! ভাইস প্রেসিডেন্ট নীতীশরঞ্জনের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি