বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে ফয়জুল হক ওরফে কাজল শেখের দেওয়া ইস্তফাপত্র গ্রহণ করল প্রশাসন। ২০ আগস্ট বর্ধমান ডিভিশনের ডিভিশনাল কমিশনার তথা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের জারি করা নির্দেশে তাঁর পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। হঠাৎ কেন এহেন পদক্ষেপ কাজল শেখের? তা নিয়ে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে ভালো তৃণমূলে গিয়েও লাভ হল না! অনুব্রত ‘কাঁটা’তেই জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ ছাড়তে হল কাজলকে?
নির্দেশে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩-এর ১৪৪(৪) ধারার অধীনে কাজল শেখের পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে জেলা পরিষদের সভাধিপতির দায়িত্ব আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে নির্বাহী আধিকারিকের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বীরভূম জেলা পরিষদে যাওয়া কার্যত বন্ধ করেছিলেন কাজল শেখ। এরফলে থমকে ছিল স্থায়ী সমিতির বৈঠক। এই অবস্থায় জেলা পরিষদের কাজকর্ম নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। এহেন পরিস্থিতিতে বীরভূমের জেলা সভাধিপতি কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ে। বীরভূম জেলা পরিষদের ৫২ জন সদস্যের মধ্যে ১৯ জন সদস্য এই অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই ১৯ জন অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ বলে জানা যায়। এরপরেই জল্পনা ছড়ায় সভাধিপতির পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন ঋতব্রত শিবিরের এই বিধায়ক। আর সেই জল্পনা সত্যি করেই পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি।
জানা যায়, ১৯ আগস্ট সভাধিপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার চিঠি জমা দিয়েছিলেন কাজল শেখ। এরপর তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে পদত্যাগের কারণ জানাতে বলা হয়। ২০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির হন। শুনানিতে কাজল শেখ জানান, ব্যক্তিগত কারণে এবং স্বেচ্ছায় তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর উপর কোনওরকম চাপ বা জবরদস্তি ছিল না বলেও তিনি জানান। এরপর তাঁর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
নির্দেশে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন, ১৯৭৩-এর ১৪৪(৪) ধারার অধীনে কাজল শেখের পদত্যাগ অবিলম্বে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে জেলা পরিষদের সভাধিপতির দায়িত্ব আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে নির্বাহী আধিকারিকের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বীরভূমের জেলাশাসক এবং জেলা পরিষদের নির্বাহী আধিকারিককেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পরিষদের হেফাজতে থাকা সমস্ত নথি, রেজিস্টার, সিলমোহর এবং অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর বীরভূম জেলার ১১টি বিধানসভার মধ্যে ছয়টিতে জয় পায় বিজেপি এবং পাঁচটিতে জয়ী হয় তৃণমূল কংগ্রেস। হাসন বিধানসভা থেকে জয়ী হন ফায়জুল হক ওরফে কাজল শেখ। পরবর্তী সময়ে যদিও দীর্ঘদিনের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়েছেন তিনি। যোগ দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল’ তৃণমূলে। কিন্তু এরপরেও বদল হয়নি পরিস্থিতি। উলটে কাজল শেখের বিরুদ্ধেই সক্রিয় হয় দলেরই একাংশ। বিশেষ করে অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর যে সংঘাত ছিল, তা অব্যাহত থাকে ঋত তৃণমূলে গিয়েও। আর সেটাই বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে কাজল শেখের ইস্তফার অন্যতম কারণ বলেই মত রাজনৈতিকমহলের।
সর্বশেষ খবর
-
বয়স হতে হবে ৪০ এর বেশি, আর ভুঁড়ির মাপ…! ময়দান কাঁপাতে শুরু হচ্ছে ‘গণপতি’ ফুটবল
-
গণশত্রু চিনে নিন, ‘বিশ্ব মশা দিবস’-এর শপথ
-
‘স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান’, বন্দে মাতরমে ‘কাঁচি চালানো’ কংগ্রেসকে ‘মুসলিম’ তোপ শাহর
-
চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ! জখম কমপক্ষে ৫ শ্রমিক, ঘটনাস্থলে পুলিশ-দমকল
-
ভিড়ে ভরা দার্জিলিং নয়, বর্ষায় গন্তব্য হোক কুয়াশায় ঘেরা অফবিট গুজরাটের সাপুতারা