রবিবাসরীয় রাতে সঙ্গীতজগতে নক্ষত্রপতন। জীবনাবসান প্রবীণ প্লেব্যাক শিল্পী সুমন কল্যাণপুরের (Suman Kalyanpur Death)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। জানা গিয়েছে, রবিবার লোখান্ডওয়ালার বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রবীণ শিল্পী। বার্ধক্যজনিত কারণে সুমনের মৃত্যু হয়েছে বসেই জানান ঘনিষ্ঠ বন্ধু মঙ্গলা খাড়িলকর। সুমনের মৃত্যুতে শোকাহত সঙ্গীতজগৎ। এনসিপি (এসপি) নেতা শরদ পাওয়ার এক্স হ্যান্ডলে শোক প্রকাশ করে লেখেন, ‘প্রবীণ প্লেব্যাক গায়িকা সুমন কল্যাণপুরের প্রয়াণ সংবাদ অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তাঁর মিষ্টি, সুমধুর ও হৃদয়স্পর্শী কণ্ঠ দিয়ে তিনি ভারতীয় সঙ্গীত জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন।’ প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পীর বন্ধু জানিয়েছেন, জীবনের শেষ দিনগুলোতে নিজের গাওয়া পুরনো গান শুনেছেন আর সেই স্মৃতিকে সঙ্গী করেই পরলোক গমন করেছেন।
আরও পড়ুন:
সুমন কল্যাণপুর দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ভারতীয় সঙ্গীতজগৎকে সমৃদ্ধ করেছেন। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের গভীর জ্ঞানের মাধ্যমে তিনি প্লেব্যাক দুনিয়ায় নিজের আধিপত্য স্থাপনে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি শুধু হিন্দি এবং মারাঠি ভাষাতেই নয়, অহমিয়া, কন্নড়, বাংলা এবং ওড়িয়াসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষাতেও গান রেকর্ড করেছেন। সিনেমার গানের পাশাপাশি তাঁর সুমধুর কণ্ঠে ভজন থেকে গজল, ঠুমরিকেও অলঙ্কৃত করেছেন। পদ্মভূষণ পুরস্কারপ্রাপ্ত সুমনের কণ্ঠের বিশুদ্ধতা ও গভীরতা ছিল তাঁর গায়কীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাঁর কন্ঠের জাদুতে উদ্বেলিত হয়েছিল আসমুদ্রহিমাচল। ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে মুম্বইয়ে স্থায়ী হওয়া সুমন কল্যাণপুর ছিলেন ছয় ও সাতের দশকের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ও পূজনীয় প্লেব্যাক গায়িকা।

তাঁর কণ্ঠস্বর নাকি অবিকল সুরসম্র্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের মতো! এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে সুমন বলেছিলেন, এধরনের ভাবনাকে প্রাধান্য দিতে তিনি একেবারেই স্বচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। প্রথমবার লতার সঙ্গে সাক্ষাৎকারের বিশেষ মুহূর্তও সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। সুমন কল্যাণপুরের কথায়, “অনেকেই বলেন আমার কণ্ঠস্বর লতা তাইয়ের মতো। তবে মন দিয়ে শুনলে একজন প্রকৃত সঙ্গীতবিশেষজ্ঞ সহজেই দু’জনের কণ্ঠ আলাদা করতে পারবেন। আমি প্রতিটি গান আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে পরিবেশনের চেষ্টা করেছি। মানুষ যে তুলনাই করুক না কেন আমি সেগুলো নিয়ে কখনও ভাবিত নই। আমি কখনও কাউকে অনুকরণ করিনি। কারণ আমি সবসময় নিজের গায়কির স্বতন্ত্র ধরন বজায় রাখাতে বিশ্বাস করতাম।”

আরও বলেছিলেন, “লতা দিদি এবং আমার প্রথম দেখা হয়েছিল মাঙ্গু ছবির একটি গানের রেকর্ডিংয়ের সময়। আমার বিশ্বাস তিনি আগেই আমার গান শুনেছিলেন। রেকর্ডিং রুমের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেছিলেন আমি কন্ঠস্বর বেশ ভালোই। কর্মজীবনের শুরুর দিকে কয়েকবার তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। যখনই আমাদের দেখা হয়েছে আমার মনে হয়েছে এক অদ্ভুত আত্মিক টান রয়েছে। যেন আগের কোনও জন্মের কোনও সম্পর্ক আছে।” সুমন কল্যাণপুরেক সঙ্গীতজীবন শুরু ১৯৫৪ সালে। ছয় ও সাতের দশকে তাঁর কণ্ঠের মহিমা ছড়িয়ে পড়েছিল কাশ্মীর টু কন্যাকুমারী। হিন্দি চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ শাস্ত্রীয় গানের জন্য তিনবার সুর সৃঙ্গার সংসদ পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন। ২০০৯ সালে মহারাষ্ট্র সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত মর্যাদাপূর্ণ ‘লতা মঙ্গেশকর পুরস্কার’-এ সম্মানিত হন।

১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে অত্যন্ত জনপ্রিয় গায়িকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি হিন্দি চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ শাস্ত্রীয় গানের জন্য তিনবার সুর সৃঙ্গার সংসদ পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৯ সালে লতা মঙ্গেশকর-এর নামে প্রবর্তিত লতা মঙ্গেশকর পুরস্কার-এ সম্মানিত হন তিনি। তাঁর গাওয়া জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘সাথী মেরে সাথী’, ‘ইউঁ হি দিল নে চাহা था’, ‘বুঝা দিয়েঁ হ্যায়’, ‘মেরে মেহবুব না যা’সহ আরও অনেক গান।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অনলাইনে ঠান্ডা পানীয়ের সঙ্গে আরশোলা! কড়া পদক্ষেপ ‘অগ্নিশর্মা’ শ্বেতা তিওয়ারির
-
হাই কোর্টে ধাক্কা টুলুর! খারিজ রক্ষাকবচের আর্জি, ‘মেঘের আড়ালে সব দেখছেন’, বললেন বিচারপতি
-
তৃণমূল আমলে ঘরছাড়া! গলসির বিজেপি কর্মীর সঙ্গে দেখা করে বিধায়কের দাবি, ভয় আউট, ভরসা ইন
-
২১ আগস্ট বরলক্ষ্মী পুজো, অর্থকষ্ট দূর করতে জানুন ব্রত পালনের সঠিক নিয়ম
-
খেলার ইচ্ছাই হারিয়েছিলেন, বাবার মৃত্যুর পর প্রথম গোল করে আবেগে ভাসলেন মেসি