পদ্মাপাড় তাঁর মাতৃভূমি। ছিল কর্মভূমিও, কিন্তু মৌলবাদের চোখরাঙানিতে বেশিদিন সাহিত্য রচনা তো দূর অস্ত, স্বদেশের মাটিতেও থাকতে পারেননি বিশ্বখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)। কার্যত তাড়া খেয়ে চলে আসতে হয় প্রতিবেশী ভারতে। দীর্ঘ তিন দশক স্বভূম থেকে নির্বাসনে লেখিকা। এদিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তসলিমা নাসরিনকে দেশে ফেরানোর কোনও উদ্যোগ তারা নেবে না। কলকাতা ছাড়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংশ্লিষ্ট ইস্যুতেই মুখ খুললেন তসলিমা নাসরিন।
আরও পড়ুন:
“আমার যে সুইডিশ পাসপোর্ট রয়েছে, ওটাতেও ভিসা দেয় না। না দিলে তো আমার …”
লেখিকার কথায়, “বাংলাদেশে অবশ্যই ফিরতে চাই। ৩২ বছর আমি নির্বাসনে আছি। আমাকে বাংলাদেশে ফিরতে দেওয়া হয় না।” লেখিকার সংযোজন, “আমার বাংলাদেশের পাসপোর্ট রিনিউ করে না সেদেশের সরকার। শুধু তাই নয়, আমার যে সুইডিশ পাসপোর্ট রয়েছে, ওটাতেও ভিসা দেয় না। না দিলে তো আমার কোনও বৈধ নথিপত্র নেই যাওয়ার জন্য।” সেই প্রেক্ষিতেই তসলিমা জানালেন, আপাতত ভারতেই থাকবেন তিনি। বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর এপার বাংলার তিলোত্তমায় নিশ্চিন্তির আশ্রয় পেয়েছিলেন বটে, তবে এখানেও থিতু হওয়া হয়নি তাঁর। ২০০৭ সালে বই বিতর্কের জেরে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক। সেই ‘লজ্জা’ কাটিয়ে দু’দশক বাদে সংস্কৃতির শহরে ফিরে আবেগী তসলিমা। বুধবার কলকাতা ছাড়ার প্রাক্কালে বিদায়বেলায় লেখিকা জানালেন, মধুর স্মৃতি নিয়ে ফিরছেন তিনি।

“জনসাধারণের এত ভালোবাসা পেয়েছি যে আমার চোখে জল চলে এসেছে…”
তসলিমার মন্তব্য, “কলকাতা থেকে খুব ভালো স্মৃতি নিয়ে ফিরছি। জনসাধারণের এত ভালোবাসা পেয়েছি যে আমার চোখে জল চলে এসেছে। খুব শিগগিরি আবার শহর কলকাতা আসব। অক্টোবরে কিংবা জানুয়ারিতে আসার কথা আছে। আর বইমেলায় তো আসবই। পুজোয় হয়তো আসা সম্ভব হবে না, কারণ সেসময়ে অন্য দেশে থাকব। যখনই কলকাতা ডাকবে, আমি আসব।” আগামী বছর কলকাতা বইমেলায় থাকছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, “বইমেলায় থাকছি। যে বইয়ের জন্য কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল সেই কলকাতাতেই আমার বই প্রকাশিত হবে। আত্মজীবনী সমগ্র ১ বেরিয়েছে। এরপর আরও অনেক ভাগ বেরবে।”
সাল ২০০৭, বই বিতর্কে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। এবার দীর্ঘ উনিশ বছর পর সেই শহর কলকাতাতে প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকার। তিলোত্তমায় পা রেখেই কখনও ঐতিহ্যবাহী ‘কফি হাউস’-এ ঢুঁ মেরে চা, পকোড়া সহযোগে নস্ট্যালজিয়ায় ভেসেছেন তো কখনও বা আবার পানিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে বেগম রোকেয়ার সমাধি ও মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ভয় দেখিয়ে অভিনেত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার বর্ষীয়ান পরিচালক
-
বাঘের মুখে প্লাস্টিক থেকে থার্মোকলের দূষণে জেরবার ম্যানগ্রোভ, শিরে সংক্রান্তি সুন্দরবনের!
-
শিয়রে শুল্কের খাঁড়া, অশনি সংকেতের মাঝেই মোদিকে ফোন ট্রাম্পের ডেপুটি ভ্যান্সের
-
দিঘার সৈকতে উঠল টন টন ইলিশ, এবার সস্তায় মিলবে রুপোলি শস্য?
-
বালোচিস্তানের সোনার খনি থেকে পাততাড়ি গোটাচ্ছে চিন! সিপিএসই-র ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন পাকিস্তান