চব্বিশ সালে দেশজুড়ে মিউজিক্যাল সফর করেছিলেন দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ (Diljit Dosanjh)। পাঞ্জাবী পপস্টারের সেই ‘দিল-লুমানাটি’ ট্যুরের পরতে পরতে জড়িয়ে ছিল বিতর্ক। বিশেষ করে ‘লেমোনেড’ এবং ‘পাঁচ তারা’ এই দুটি গানের জেরেই দেশজুড়ে কটাক্ষের শিকার হতে হয় গায়ককে। কখনও গানের কথার মাধ্যমে মদ-মাংসের প্রচারের অভিযোগ ওঠে দিলজিতের বিরুদ্ধে তো কখনও বা আবার সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে তাঁর কনসার্ট নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় তেলঙ্গানা এবং গুজরাটে। তবে বিতর্কের শিরোনামে ঠাঁই পেয়েও রেকর্ড গড়ল দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের ‘দিল-লুমানাটি’ ট্যুর। লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ভারতের মিউজিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির অর্থনীতিও চাঙ্গা করেছে তাঁর বিতর্কিত কনসার্ট।
আরও পড়ুন:
২২১ কোটির টিকিট বিক্রির পাশাপাশি স্পনসরশিপ থেকে ৩৩ কোটি টাকাও এসেছে। ‘আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়াং’-এর সমীক্ষা বলছে, কনসার্টে আগত ভক্তদের যাতায়াত, থাকা, খাবার-দাবার, কেনাকাটি এবং আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ মোট ৫৫৩ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। এর ফলে পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, প্রোডাকশনের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১.২ লক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে।
‘আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়াং’-এর এক সমীক্ষা যে রিপোর্ট পেশ করেছে, তাতে চোখ রাখলে চমকে উঠতে হয়! খবর, ২০২৪ সালে দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের ‘দিল-লুমানাটি’ ট্যুর থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করেছে ভারত। যে অঙ্ক প্রায় হাজার কোটির কাছাকাছি। ওই সমীক্ষা বলছে, চব্বিশ সালে শুধুমাত্র দিলজিতের মিউজিক্যাল ট্যুর থেকেই ৯৪৩ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৪ কোটি টাকা এসেছে কর বাবদ। দেশের মোট ১৩টি শহরে আয়োজিত হয়েছিল ‘দিল-লুমানাটি’ ট্যুর। আর চোদ্দটি কনসার্টে ৩ লক্ষ ২০ হাজারেরও বেশি দর্শক সমাগম ঘটে। যার মধ্যে কেবল দিল্লির কনসার্টে রেকর্ড সংখ্যক ভিড় হয়েছিল। মোট ৫৫ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন দিলজিতের দিল্লির শোয়ে। তবে এখানেই শেষ নয়! ওই সমীক্ষায় উঠে এসেছে আরও চমকপ্রদ তথ্য।

খবর, শুধু দেশের মেট্রো শহরগুলির বাসিন্দাই নয়, দিলজিতের শোয়ে আসা দর্শকদের প্রায় ৪৯ শতাংশই এসেছিলেন গ্রাম, শহরতলী থেকে। অন্যদিকে প্রায় ৩৮ শতাংশ দর্শক এসেছিলেন প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে। উল্লেখযোগ্যভাবে এঁদের অনেকেই দিলজিতের ভক্ত হিসেবে শোয়ের শিডিউল অনুযায়ী নিজেদের ট্যুরের মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছিলেন। ফলত, বাকি শহরগুলির পর্যটন শিল্পের অর্থনৈতিক কাঠামোতেও পাঞ্জাবি পপস্টারের কনসার্টের প্রভাব পড়েছিল। জানা যায়, ২২১ কোটির টিকিট বিক্রির পাশাপাশি স্পনসরশিপ থেকে ৩৩ কোটি টাকাও এসেছে। ‘আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়াং’-এর সমীক্ষা বলছে, কনসার্টে আগত ভক্তদের যাতায়াত, থাকা, খাবার-দাবার, কেনাকাটি এবং আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ মোট ৫৫৩ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। এর ফলে পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, প্রোডাকশনের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১.২ লক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে। আর বিশ্বজুড়ে ১৩৭ মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করেছে দিলজিৎ দোসাঞ্ঝের ‘দিল-লুমানাটি’ ট্যুর। ফলত ‘পাঞ্জাব দি পুত্তরে’র বিতর্কিত কনসার্ট যে ভারতের মিউজিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে এক মাইলস্টোন গড়ল, তা বলাই বাহুল্য।
“গবেষণার রিপোর্ট মঞ্চের নেপথ্যের ভিন্ন গল্প তুলে ধরে। পর্যটন শিল্পের মতো আরও যে জীবিকাগুলিতে আমরা প্রাণসঞ্চার করতে পেরেছি, তাতে স্পষ্ট যে আমাদের দেশে সঙ্গীত শুধু বিনোদন নয়, সেটা এমন এক শক্তি যা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, অনুপ্রাণিত করে এবং উন্নতির পথে এগিয়ে দেয়। প্রতিটি ভক্ত, যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন, নেচেছেন কিংবা আবেগে কেঁদেছেন—আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ!”
এপ্রসঙ্গে দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ বলেন, “এই গবেষণার রিপোর্ট মঞ্চের নেপথ্যের ভিন্ন গল্প তুলে ধরে। পর্যটন শিল্পের মতো আরও যে জীবিকাগুলিতে আমরা প্রাণসঞ্চার করতে পেরেছি, তাতে স্পষ্ট যে আমাদের দেশে সঙ্গীত শুধু বিনোদন নয়, সেটা এমন এক শক্তি যা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে, অনুপ্রাণিত করে এবং উন্নতির পথে এগিয়ে দেয়। প্রতিটি ভক্ত, যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন, নেচেছেন কিংবা আবেগে কেঁদেছেন—আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ! প্রতিটি শহর, প্রত্যেক আয়োজক, মঞ্চের নেপথ্য শিল্পীরা যাঁরা আমাদের দু’বাহু প্রসারিত করে বরণ করে নিয়েছিলেন- তাঁদেরও অশেষ ধন্যবাদ। আপনারাই এই ইতিহাস গড়েছেন।” এহেন তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরই দিলজিৎ দোসাঞ্ঝকে বেকারত্ব ঘোচানোর ‘মসিহা’ বলে সম্বোধন করলেন একাংশ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পরচুলা পরতেন বলেই খুন কেতন? ‘মোটিভ’ নিয়ে নয়া তত্ত্ব, মুখ খুললেন প্রয়াত তরুণের বাবা
-
বাংলার নতুন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘ম্যাট্রিক্স ওয়ান’, ক্লাসিক ছবি-সহ থাকছে একগুচ্ছ চমক
-
টাকা নিয়ে তারাতলার ত্রুটিযুক্ত প্ল্যান পাশ! মাথায় ‘ক্যামাক স্ট্রিটে’র হাত? পুলিশ হেফাজতে কালী
-
গ্রুপের শেষ ম্যাচে শুরু থেকে খেলবেন না মেসি! বিকল্প ভাবছেন কোচ স্কালোনি
-
‘অগ্নির সঙ্গে একদিন সিনেমা নিয়ে বসব’, পুরমন্ত্রীকে নিয়ে কোন পরিকল্পনার কথা জানালেন ঋতুপর্ণা?