Nana Patekar

নানা এবার মানুষ গড়ার কারিগর! সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়ার ‘সংকল্প’ অভিনেতার, কেন চর্চায় তাঁর নতুন সিরিজ?

সাতের দশকের জনতা দলের নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণের কথাও কখনও কখনও মনে করিয়ে দেয় 'সংকল্প'।

Advertisement ad
অরণী ভট্টাচার্য
অরণী ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: মার্চ ১৫, ২০২৬, ১৩:২৫

options
link
নানা এবার মানুষ গড়ার কারিগর! সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়ার ‘সংকল্প’ অভিনেতার, কেন চর্চায় তাঁর নতুন সিরিজ? zoom

পরিচালক প্রকাশ ঝাঁয়ের ছবি বা সিরিজ মানেই তাতে থাকবে আদ্যোপান্ত রাজনীতির ছাপ। এবারেও তার ব্যতিক্রম হল না। পরিচালকের নতুন সিরিজ ‘সংকল্প’ও তেমনই এক গল্প উপহার দিল দর্শককে। সিরিজে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দেখলে বোঝা যায় কূটনৈতিক চাল ঠিক কতটা মেপে দেওয়া যায়। এই সিরিজ আবর্তিত হয়েছে ‘কানহাইয়ালাল’ চরিত্রকে ঘিরে। আর সেই চরিত্রে অভিনেতা নানা পাটেকর বরাবরের মতোই স্বতন্ত্র। গুরু শিষ্যের সম্পর্কের বাইরেও যে একটা অন্যদিক রয়েছে এই সিরিজের তা ধীরে ধীরে সামনে আসে।

‘সংকল্প’ সিরিজে নানা পাটেকর, ছবি: সোশাল মিডিয়া।

বিহারের পাটনার কানহাইয়ালাল একটি গুরুকুল চালান। নীরবে সমাজের সিস্টেমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে তিনি ঘুঁটি সাজান অন্যরকম ভাবে। তিনি গুরুকুল ধাঁচের একটি ইউপিএসসি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন। আর তার নেপথ্যে ঢাল হয়ে থাকে এই গুরুকুল, কীভাবে? তাঁর কোচিং থেকেই তৈরি হয় তাঁর হাত ধরে রত্নগর্ভা ভারত মায়ের সন্তানরা। যারা দেশকে আগলে রাখেন প্রতি পদে। সেই গুরুকুলে ও কোচিং সেন্টারের মানুষ গড়ার কাণ্ডারি কানহাইয়ালাল ওরফে ‘মাট সাব’। যে চরিত্র শান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। নিঃশব্দে নিজের কাজ করে যান তিনি। বিশেষ কৌশলে এক একজন ছাত্রকে তৈরি করে আমলাতান্ত্রিক পদের জন্য তাঁদের যোগ্য বানিয়ে, তাঁদের চাকরি পাইয়ে সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়ে যান ‘মাট সাব’। যিনি তাঁর ছাত্রদের কাছে ঈশ্বর। এহেন মাট সাবের সঙ্গেই তাঁর প্রিয় ছাত্র আদিত্যর সম্পর্কের বুনোট কীভাবে পালটায় তা যদিও এই সিরিজেই বোঝা যাবে। এখন তা বেশি খোলসা করলে সিরিজ দেখার আগ্রহ কিঞ্চিৎ কমলেও কমতে পারে। সাতের দশকের জনতা দলের নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণের কথাও কখনও কখনও মনে করিয়ে দেয় ‘সংকল্প’। যিনি সাতের দশকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নতুন প্রজন্মের নেতাদের পরামর্শ দিতেন।

‘সংকল্প’ সিরিজের দৃশ্য, ছবি: সোশাল মিডিয়া।

বিহারের পাটনার কানহাইয়ালাল একটি গুরুকুল চালান। নীরবে সমাজের সিস্টেমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে তিনি ঘুঁটি সাজান অন্যরকম ভাবে। তিনি গুরুকুল ধাঁচের একটি ইউপিএসসি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন।

সিরিজে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ‘প্রশান্ত সিং’র ভূমিকায় সঞ্জয় কাপুর ও তার ছায়াসঙ্গী ‘ওয়াকার’র ভূমিকায় নীরজ কবিও বরাবরের মতো অনবদ্য। প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখতে না পারলে জনতার দরবারে তাঁকে কতটা হেনস্তা হতে হয় ও তারপর তিনি কীভাবে এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন, রাজনীতিতে নিজের স্থান ধরে রাখতে তিনি কী কৌশল অবলম্বন করেন তা দেখার কৌতূহল প্রতিটি পর্বে বাড়বে বইকি। কিন্তু এসবের পরেও যা না বললেই নয়, তা হল এই সিরিজের গতি। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, দ্বন্দ্ব, সমাজ পরিবর্তনের এক অন্য পন্থা, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার গল্প থাকলেও তা একটা সময় পর বড্ড একঘেয়ে লাগে তার এক এবং একমাত্র কারণ এর ধীরগতি। প্রতিটি পর্ব দেখতে দেখতেই মনে হয় একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি দেখছেন যেন। বিষয় নির্বাচন সঠিক হলেও এই নানাবিধ কারণে ‘সংকল্প’ যেন একটা সময়ের পর কিছুটা একঘেয়ে লাগতে শুরু করে। দর্শকের দরবারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পায়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন