Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Empty Nest Divorce

বয়স্ক দম্পতিদের মধ্যে বিচ্ছেদ বাড়ছে! ‘এম্পটি নেস্ট ডিভোর্সে’ বিধ্বস্ত প্রবীণরা

কেন বাড়ছে 'এম্পটি নেস্ট ডিভোর্স'?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৪, ২০২৬, ১৯:১৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৪, ২০২৬, ১৯:১৮

options
link
বয়স্ক দম্পতিদের মধ্যে বিচ্ছেদ বাড়ছে! ‘এম্পটি নেস্ট ডিভোর্সে’ বিধ্বস্ত প্রবীণরা zoom
বয়স্কদের মধ্যে ক্রমশ বাড়ছে 'এম্পটি নেস্ট ডিভোর্স'। ছবি: সংগৃহীত

মনে পড়ছে শিবপ্রসাদ ও নন্দিতা রায়ের ‘বেলাশেষে’ ছবির কথা। দীর্ঘদিনের দাম্পত্যের মাঝে আচমকা ছন্দপতন। বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের প্রধান সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। যা শুনেও যেন বুঝতে পারছেন না তাঁর স্ত্রী। তাজ্জব ছেলেমেয়েরাও। শুধু রিল নয়, রিয়ালেও নাকি ক্রমশ বয়স্ক দম্পতিদের মধ্যে বাড়ছে বিচ্ছেদ। যার ফলে প্রশ্নের মুখে সম্পর্কের স্থায়িত্ব।

বিয়ের পর প্রথম কয়েক বছর দাম্পত্য সম্পর্ক থাকে একরকম। যখন ইচ্ছা হচ্ছে রেস্তরাঁয় যাচ্ছেন কিংবা মুভি ডেট। আবার কখনও মন চাইল তো বাক্সপ্যাঁটরা গুছিয়ে একান্তে ছুটি কাটাতে বেরিয়ে পড়া। সন্তান জন্মের পর বদলে যায় সম্পর্কের সমীকরণ। তখন ওই খুদেকে ঘিরে দিনযাপন। তার সব চাওয়া পাওয়া পূরণের পর নিজের দিকে তাকানোর সময় পান বাবা-মায়েরা। অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, সন্তান, অফিসের চাপ সামলে হয়তো বহু দম্পতি একে অপরের দিকে তাকানোর সময়ও পান না। কবে যে শেষবার হাতে হাত ধরেছিলেন দু’জনে কিংবা মেতেছিলেন যৌনতায় – তাও ভুলে যান। তা বলে যে সবসময় সম্পর্কে ভাঁটার টান পড়ে, তা নয়। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে এভাবে দু’জনের সম্পর্কের মধ্যে খানিক শূন্যস্থান তৈরি হয়। হয়তো যৌবনে সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসার কথাও মনে হয়েছে। কিন্তু সমাজের কথা ভেবে কিংবা সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে আর বিচ্ছেদের রাস্তায় হাঁটা সম্ভব হয়নি। তাই দিনের পর দিন ‘প্রেমহীন’ দাম্পত্যকে বয়ে বেরিয়েছেন দু’জনে।

Advertisement
Empty-nest-divorce
ক্রমশ বাড়ছে ‘এম্পটি নেস্ট ডিভোর্স’। ছবি: সংগৃহীত

ইতিমধ্যে সন্তানও দিব্যি বড় হয়ে গিয়েছে। তার আলাদা জগৎ তৈরি হয়ে গিয়েছে। পড়াশোনা কিংবা চাকরির স্বার্থে বাবা-মাকে ছেড়ে দূরে গিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সন্তান। আর সেই সময় বাবা-মা সিদ্ধান্ত নেন বিচ্ছেদের। এই ধরনের বিচ্ছেদের পোশাকি নাম ‘এম্পটি নেস্ট ডিভোর্স’। তাঁরা তখন একে-অপরের আর ভরসাস্থল নন। এমনও নয় যে তাঁরা দিনরাত ঝগড়াঝাটি করছেন। কিন্তু তাঁরা আগের মতো আর একে অপরের পাশে থাকতে চান না। নিজেদের নিয়ে মেতে থাকেন। বন্ধুবান্ধব নিয়ে অনেকে মেতে ওঠেন। কেউ ওয়েব সিরিজ, সিনেমা কিংবা স্মার্টফোনের দৌলতে সদ্য শেখা সোশাল মিডিয়ায় মজে থাকেন। আবার অনেকে একা একা বেড়াতে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। বহু মহিলা পার্লারে গিয়ে সময় কাটাতে থাকেন। কেউ কেউ অবশ্য আইনি পথে পাকাপাকিভাবে বিচ্ছেদের পরিকল্পনাও করেন। যিনি বিচ্ছেদ চান তিনি সম্পর্ক থেকে মুক্তি পেলে খুশিই হন। তবে যিনি চাইছেন না, তিনি স্বাভাবিকভাবে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

কেন বাড়ছে ‘এম্পটি নেস্ট ডিভোর্স’? বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্য জীবনের না পাওয়ার তালিকা যত দীর্ঘ হতে থাকে, ততই বাড়ে এই ধরনের বিচ্ছেদের ভাবনা। বহুক্ষেত্রে দেখা যায়, বিচ্ছেদের পর তাঁরা আর অন্য কারও সঙ্গে ঘর বাঁধতেও চাইছেন না। তাঁরা শুধু সংসার জীবন থেকে মুক্তি চান। তাতেই যেন চরমসুখ। তাই ব্যস্ততার দোহাই দেবেন না। দাম্পত্য, সন্তানপালনকে ‘টিম গেম’ ভেবে দু’জনে একসঙ্গে উপভোগ করুন। তাতেই আরও শক্তপোক্ত হবে সম্পর্কের বাঁধন। 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.