Jojo-Poushali

মঞ্চেই দুই শিল্পীর তরজা তুঙ্গে! জোজো-পৌষালীর দ্বন্দ্ব ঘিরে তোলপাড় সঙ্গীতদুনিয়া

ঠিক কী ঘটেছিল এদিন?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ২, ২০২৫, ১৯:১৯

options
link
মঞ্চেই দুই শিল্পীর তরজা তুঙ্গে! জোজো-পৌষালীর দ্বন্দ্ব ঘিরে তোলপাড় সঙ্গীতদুনিয়া

বিশেষ সংবাদদাতা: দুই প্রজন্মের দুই সঙ্গীতশিল্পীর মনোমালিন্য ঘিরে বিনোদুনিয়ায় তরজা তুঙ্গে। শনিবার, ১ নভেম্বর টালিগঞ্জের বিজয়গড় সংলগ্ন একটি ক্লাবের পঞ্চাশ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে দুই সঙ্গীতশিল্পী পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায় ও জোজো মুখোপাধ্যায়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। ঘটনা সেখানেই শেষ নয়, বাড়ি ফিরে ক্ষোভ উগরে দেন জোজো। ঠিক কী ঘটেছিল তা জানতে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল যোগাযোগ করেছিল পৌষালি বন্দ্যোপাধ্যায় ও জোজো মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে।

Advertisement

এদিন এই প্রসঙ্গে ফোনের ওপার থেকে পৌষালী বলেন, “এদিন আমাদের আগে অনুষ্ঠান ছিল। আমার পরে জোজোদি’র অনুষ্ঠান ছিল। সাধারণত, যাঁদের পরে অনুষ্ঠান থাকে তাঁরা আগে সাউন্ড চেক করেন। সেভাবেই জোজোদি’র টিমের আগে সেসব করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি ও তাঁর টিম আগে সময়মতো পৌঁছতে পারেনি। প্রায় এক ঘণ্টা পরে পৌঁছয়। অনেকটা সময় লাগে সবটা সারতে। এক্ষেত্রেও তাই। শুধু তাই নয়, মঞ্চে জায়গা এতটাই কম ছিল যে জোজোদি’র টিম সমস্ত বাদ্যযন্ত্র রাখার পর আমাদের আর দাঁড়ানোর জায়গা ছিল না। অনেক অনুরোধ করি আমরা জোজোদি’র টিমের কাছে তাঁদের ড্রামকিটটা সরানোর জন্যও। ওটা সরালেই আমরা স্বচ্ছন্দ্যে দাঁড়াতে পারতাম। কিন্তু জোজোদি’র টিম যখন আমাদের অনুরোধ শোনে না, একটু কথা কাটাকাটি হয়। এবং আমরা মঞ্চের উপর দাঁড়াতে পারছি না সঠিকভাবে তখন বাধ্য হয়ে ক্লাবের সদস্যদের উপস্থিতিতে আমরা দেড় ফুট থেকে দু’ফুট মতো সরাই ওই বাদ্যযন্ত্রটি। তখন কোথাও জোজোদির টিমের কেউ আসেননি। এবং এই পুরো বিষয়টাই একেবারে ভুলভাবে দিদির কাছে ব্যাখ্যা করা হয়। আমার অনুষ্ঠান শেষে জোজোদি মঞ্চে উঠে মাইকে সকলের সামনে এটা নিয়ে বলেন। তারপরেও উনি থামেননি। বাড়ি ফিরে লাইভ করে উনি আবারো ওনার কথাগুলো বলেছেন। আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই, আমি ওনার থেকে অনেক জুনিয়র। আমি সিনিয়রদের কাছে নত হয়ে থাকতেই ভালোবাসি। কিন্তু যে ভুল আমি করিনি তার দায় আমি নিতে পারব না। প্রয়োজন হলে আমি এই ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করে দেব।”

Advertisement

 

Advertisement

অন্যদিকে জোজো মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের তরফে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন, “আমার যা বলার আমি লাইভে বলে দিয়েছি। ঠিক কী বলেছেন গায়িকা তাঁর ফেসবুক লাইভে? তবে এদিনের ঘটনা নিয়ে নিজের ফেসবুক লাইভে জোজো বলেছেন, “আজ এত বছর ধরে আমি একজন সঙ্গীতশিল্পী। নিজের পরিশ্রমে নিজের জায়গা নিজেকে অনেক কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়েছে। কলকাতা শহরের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে আমি অনুষ্ঠান করিনি। আজও সেভাবেই একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে আমার সঙ্গে এমন কিছু হয় যার ফলে আমার মারাত্মক রাগ হয়েছে। এত রাগ বোধহয় আমার আগে কারও উপর হয়নি। আমার জুনিয়রদের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। তবে ব্যতিক্রমীও অনেকে আছেন।”

 

জোজো আরও বলেন, আমাদের সঙ্গীত দুনিয়াটা খুব ছোট। সকলকেই কমবেশি অ্যাডজাস্ট করতে হয়। আমার টিমের সদস্যরা আগে গিয়ে সাউন্ড চেক করে রেস্টরুমে চলে যায়। এইসময় পৌষালী ও তাঁর টিমের সদস্যরা আসেন এবং আমাদের অনুমতি ছাড়াই আমাদের বাদ্যযন্ত্র সরিয়ে দেয়। আমাদের না জানিয়ে এমনটা করেছে, এটা একপ্রকার অসভ্যতা। পৌষালির টিম আমাদের সঙ্গে অসভ্যতা করেছে। ওদের উচিত ছিল আমাদের বলা। এই অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। এমনকী এটাও বলে রাখি আমি আজকের এই অসম্মানের পর আমি শোটা করতাম না। কিন্তু ওখানে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের জন্য আমি শুধু শোটা করেছি। এভাবে কারও অনুমতি ছাড়া মঞ্চ থেকে বাদ্যযন্ত্র সরানো যায় না।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.