তখন সবে পর্দায় মুক্তি পেয়েছে বিপাশা। কলকাতার মিনার, বিজলী, ছবিঘর তখন উপচে পড়ছে দর্শকে। উত্তম-সুচিত্রার রুপোলি জাদুতে তখন আবালবৃদ্ধবনিতা উদ্বেলিত। আর ঠিক সেই সময় গঙ্গার পশ্চিম পাড়ে সলতে পাকানো হচ্ছিল এক সর্বজনীন দুর্গাপুজোর। আশেপাশের কারখানার বিভিন্ন পদে কর্মরত, বিভিন্ন বেতনের লোকজন বছর দুয়েক ধরে ভিড় করতে শুরু করেছে হাওড়ার বোটানিক্যাল গার্ডেনের আইএইচই আবাসনে। আর সেই সব মানুষেরা মিলে সেদিন যে একরত্তি একচালার দুর্গা প্রতিমার আরাধনা করেছিল, আজ কালের নিয়মে সেই পুজোই জায়গা করে নিয়েছে হাওড়া জেলার সেরা পুজোর মানচিত্রে।
হাওড়ার অন্যতম প্রাচীন এই শ্রমিক আবাসনটি ঐতিহ্যের পরম্পরাকে সযত্নে লালন করেই পাড়ি দিয়েছে আধুনিকতার খরস্রোতে। ভারতের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নিজেদের মণ্ডপ ভাবনায় উদযাপন করা এই পুজো কমিটি এবার খোদ মহানায়ককে উদযাপন করবে বলে স্থির করেছে। বাংলার চিরজাগরুক নস্ট্যালজিয়া। ম্যাটিনি আইডল। পোর্ট ট্রাস্টের সামান্য কেরানী থেকে ইন্ডাস্ট্রি হয়ে ওঠা একটা কিংবদন্তি স্বপ্ন উত্তম কুমার। এ বছর তাঁর জন্ম শতবর্ষ। আর ভারতীয় সংস্কৃতির আঙিনায় এমন একটা গৌরবোজ্জ্বল বছরে তাঁকে নিয়ে উদযাপনের কাড়াকাড়ি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ভাবনায় অতি উত্তম হয়ে ওঠার ছবি দেখতে অবশ্যই আসতে হবে বি-গার্ডেন আইএইচই ওয়েলফেয়ার দুর্গা পূজা কমিটির মাতৃ মণ্ডপে।

উত্তমের অভিনয়ের নানা ঝলক, তাঁর ভুবনবিজয়ী হাসি, তাঁর শরীরী ভাষার প্রতিফলন দিয়ে সেজে উঠছে মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। শুধু তাই নয়, আসল চমক লুকিয়ে থাকবে আলোকসজ্জায়। পুরোনো দিনের আলোর সাজে গোটা আবাসন চেহারা নিতে চলেছে স্টুডিও পাড়ার। মূল গেট থেকে মণ্ডপ প্রাঙ্গণ পর্যন্ত উত্তমের ছবির পোস্টার দিয়ে সাজিয়ে তোলা হবে। প্রায় ২০০ মিটার মূল ফটকটি আল্পনায় রাঙিয়ে তুলবেন আবাসিকেরা। সব মিলিয়ে পুজোর ক’টা দিন এই পুজো মণ্ডপ শুধু উত্তমে নয়, ঐতিহ্যের উদযাপনে হয়ে উঠবে অতি উত্তম। সমগ্র ভাবনা প্রসঙ্গে পুজো কমিটির সম্পাদক জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “উত্তম কুমার বাংলার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। আর এ বছর তাঁর জন্ম শতবর্ষ। ফলে সব মিলিয়ে আমরা পুজোর কটা দিন এখানে বাঙালিয়ানার উদযাপন করব।” অপর এক সম্পাদক শুভ্রজিৎ দত্ত বলেন, “বাঙালি বলতে আমরা বুঝি দুর্গাপুজো, খাওয়াদাওয়া, রবীন্দ্রনাথ, ফুটবল আর উত্তম কুমার। বাঙালিকে নিজের শিকড়ের কাছে ফেরাতে আমরা বদ্ধপরিকর। তাই এর আগে আমরা হারিয়ে যাওয়া কাঠের পুতুলের কাজ করেছিলাম। আর এ বছর আমরা আমাদের নিজেদের অস্বিত্বকে, পরিচিতিকে উদযাপন করব।”
এই ‘অতি উত্তম’ থিমের মণ্ডপে পূজিত হবেন সাবেকী সাজের দুর্গা প্রতিমা। পঞ্চমীর দিন পুজোর উদ্বোধন হওয়ার কথা। সেদিনও রাজ্যপাল আর এন রবি, রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ এক ঝাঁক গুণী জন উপস্থিত থাকতে পারেন। এছাড়াও এবারের অন্যতম আকর্ষণ পূজাবার্ষিকী। আবাসিকদের উদ্যোগে এবং বেশ কিছু শুভানুধ্যায়ীর লেখা একত্রিত করে ‘কাশফুল’ নামের পূজা বার্ষিকীর উদ্বোধন হতে চলেছে মহালয়ার দিন। সেদিনই আচার্য্য জগদীশ চন্দ্র বসু ইন্ডিয়ান বোটানিক্যাল গার্ডেনের সহযোগিতায় আবাসনে বৃক্ষরোপণ এবং আশেপাশের বেশ কিছু প্রান্তিক পরিবারের জন্য বস্ত্রবিতরণের ব্যবস্থাও থাকছে। সব মিলিয়ে শুধু উৎসবের উদযাপনে নয়, রীতি মেনে পুজো এবং সেই সঙ্গে সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদান রেখেই ‘অতি উত্তম’ হয়ে উঠছে অতীতের এই শ্রমিক আবাসন।
সর্বশেষ খবর
-
‘স্ট্যান্ডিং কমিটির শীর্ষে কেন বিদ্রোহী সাংসদ?’ কাকলিতে আপত্তি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের
-
কেন কালীঘাট এলাকার একাধিক ব্যক্তির নামে সিম তুলেছিলেন সুমিত? নেপথ্যে বড় লেনদেন! তদন্তে পুলিশ
-
মেসি-ম্যাচে বঞ্চিত দর্শকদের শুভেন্দুর উপহার, উরুগুয়ে ম্যাচে ২২ হাজার টিকিট মিলবে বিনামূল্যে
-
ভারতের লড়াইকে ‘বাহবা’ দিলেন ব্রাজিল কোচ, হেরে খালিদ দুষলেন মনঃসংযোগের অভাবকে
-
‘লেনিন, মার্কস, হো চি মিন, এরা কারা?’ রাস্তার নাম বদল নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী