মিমি চক্রবর্তীর বনগাঁ অনুষ্ঠান বিভ্রাট দিন কয়েক ধরেই চর্চার শিরোনামে। মঞ্চে হেনস্তার অভিযোগে ক্লাব সদস্য তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নায়িকা। তার ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয় বনগাঁর ‘বিশিষ্ট তান্ত্রিক বাবা’কে। যদিও তিনি আপাতত তিনি জেল হেফাজতে, তবে গ্রেপ্তার হওয়ার মুখে হুঁশিয়ারি ছুঁড়েছিলেন- “এর শেষ দেখে ছাড়ব।” তবে এমন আবহেই তনয় শাস্ত্রীর শিষ্যমহলের চাঞ্চল্যকর দাবি- ‘তন্ত্রমন্ত্র এবং তুকতাকে পারদর্শী শাস্ত্রী। এমনকী বশীকরণেও সিদ্ধহস্ত।’ সেপ্রসঙ্গ উল্লেখ করেই নেটপাড়ায় অভিনেত্রীর উদ্দেশে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলা হয়েছিল, “এবার কি পার পাবেন মিমি?” যদিও এসবে কান না দিয়ে বৃহস্পতিবারই বনগাঁ আদালতে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন মিমি চক্রবর্তী। শুধু তাই নয়, আইনি কাজকর্মের পাশাপাশি সেখানকার সাতভাই কালীতলাতেও পুজো দিয়ে এসেছেন।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের মতে, বনগাঁর এই মন্দির ভীষণই জাগ্রত। এদিন সেখানেই পুজো দিয়ে একগুচ্ছ আধ্যাত্মিক মুহূর্ত ভাগ করে নেন মিমি। যেখানে নিষ্ঠাভরে মায়ের সামনে বসে একমনে পুজো দিতে দেখা গেল তাঁকে। বরাবরই ঈশ্বরে বিশ্বাসী মিমি চক্রবর্তী। শত ব্যস্ততার মাঝেও বাড়িতে লক্ষ্মী, সরস্বতী পুজো থেকে শুরু করে সমস্ত অনুষ্ঠানই পালন করেন অভিনেত্রী। নিয়ম করে শ্রাবণের সোমবার পালন করেন। শুধু তাই নয়, নিজহাতে পুজোর জোগাড়ও করেন তিনি। সেই ঝলকও বহুবার এর আগে তাঁর সোশাল মিডিয়ায় দেখা গিয়েছে। এবার বনগাঁর সাতভাই কালীতলায় পুজো দেওয়ার ঝলক শেয়ার করতেই মিমিভক্তরা পালটা দিলেন শাস্ত্রীর শিষ্যমহলকে। তাদের কথায়, ‘রাখে হরি তো মারে কে?’ কেউ বা বললেন, ‘মিমি বরাবর আধ্যাত্ম চেতনায় বিশ্বাসী এবং সৎপথে চলেন। তাই কোনও তন্ত্রমন্ত্র কিংবা তুকতাকে তাঁর ক্ষতি করার সাধ্যি কার?’ একাংশ আবার ‘বিজয়ী ভব’ বলে শুভেচ্ছা জানালেন।
View this post on InstagramAdvertisement
জানা যায়, গত ২৫ জানুয়ারি বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জ যুব সংঘে অনুষ্ঠান ছিল অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর। অভিযোগ, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁর আসার কথা ছিল। কিন্তু অভিনেত্রী পৌঁছন প্রায় একঘণ্টা পর, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ। মঞ্চে উঠতে উঠতে তাঁর পৌনে ১২টা বেজে যায়। কিছুক্ষণ পর তাঁর অনুষ্ঠান থামিয়ে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। ক্লাবের সদস্য তথা অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে মিমি বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পেয়ে তনয় শাস্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। মহিলারা ঘিরে ধরে বাধা দেয়। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় তনয় শাস্ত্রীকে। আপাতত তিনি জেল হেফাজতে। তবে তেজ কমেনি তাঁর। মিমির অভিযোগ অস্বীকার করে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “শেষ দেখে ছাড়ব।” আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি তনয় শাস্ত্রী-সহ তিনজনকে ফের আদালতে হাজির করা হবে।
বি.দ্র- সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল কোনওরকম তন্ত্রমন্ত্র বা অতিপ্রাকৃত বিষয়ে বিশ্বাসী নয় এবং সমর্থনও করে না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
প্রতীক কার! ঋতব্রতদের বিরুদ্ধে থানায় নালিশ ‘কালীঘাট তৃণমূলের’
-
গেরুয়া উত্তরীয় বনাম বোরখা, পোশাক নিয়ে বারাসত কলেজে সম্মুখ সমরে এবিভিপি-বজরং দল!
-
‘ভারতবিদ্বেষে’র হাওয়ায় প্রথম চিন সফর! কী বললেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক?
-
‘যে ইন্ডাস্ট্রিকে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা দিয়েছে…’, রণবীরকে কোণঠাসা প্রসঙ্গে বিস্ফোরক সুনীল
-
‘গুন্ডাদমন বিলে’ লুটের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তই সরকারের লক্ষ্য! কী রয়েছে খসড়ায়