‘কালা হিরণ’ সিনেমা (Kala Hiran Movie) ঘিরে বিতর্ক যেন কিছুতেই থামছে না। কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলার অভিশপ্ত অধ্যায় নিয়ে তৈরি ছবি নির্মাতাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুপারস্টার সলমন খান (Salman Khan)। সেই মামলার শুনানিতেই গত জুলাই মাসে ভাইজানের পক্ষে সওয়াল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে ‘কালা হিরণ’-এর প্রচারঝলক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। দিল্লি হাই কোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ‘কালা হিরণ’ সিনেমার পরিচালক ভরত শ্রীনাথ ও প্রযোজক অমিত জানি।
আরও পড়ুন:
মামলার শুনানিতে সলমনের পক্ষে রায় দিয়ে সোশাল মিডিয়া থেকে সমস্তরকম প্রচারঝলক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। কিন্তু দিল্লি হাই কোর্টের রায়ে সলমনের জয় মানতে পেরে এবার সুপ্রিম দুয়ারে ‘কালা হিরণ’ নির্মাতারা।
দু’দশক আগে রাজস্থানের কোঙ্কানি গ্রামে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে সলমন খানের বিরুদ্ধে। তখন থেকেই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নিশানায় সুপারস্টার। একাধিকবার বলিউডের ভাইজানকে খুনের হুমকি দিয়ে খবরের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। সংশ্লিষ্ট মামলায় ২০১৮ সালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় দু’রাত জেলেও থাকতে হয় বলিউড সুপারস্টারকে। তবে সেসময়ে জামিনে ছাড়া পেলেও আজও কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা মামলার মীমাংসা হয়নি। সলমন খানের জীবনের সেই ‘অভিশপ্ত অধ্যায়’ নিয়েই সম্প্রতি ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ সিনেমার ঘোষণা করেন অমিত জানি। এরপরই সলমন খানের আইনজীবীর পক্ষ থেকে নোটিস পাঠানো হয় সিনেমার পরিচালক ভরত শ্রীনাথ ও প্রযোজক অমিত জানিকে। ওই আইনি নোটিস মারফৎ আপাতত ছবিমুক্তি স্থগিত রাখতে এবং সিনেমার প্রচারমূলক যাবতীয় কনটেন্ট সমাজ মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলতে বলা হয়। শুধু তাই নয়, চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা না করলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় প্রযোজককে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাতাদের কোনও উচ্চবাচ্য না দেখে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ভাইজান। সেই মামলার শুনানিতে সলমনের পক্ষে রায় দিয়ে সোশাল মিডিয়া থেকে সমস্তরকম প্রচারঝলক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। কিন্তু দিল্লি হাই কোর্টের রায়ে সলমনের জয় মানতে পেরে এবার সুপ্রিম দুয়ারে ‘কালা হিরণ’ নির্মাতারা।

এর আগে দিল্লি উচ্চ আদালতে শুনানির সময় তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়েছিলেন প্রযোজক অমিত জানি। তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়, “ওই টিজার অনলাইনে আসার ফলে সলমন খানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।” প্রযোজকের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, “এটা কী ধরনের বিষয়বস্তু? গতবার কিছু না বলায় আপনারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন, মনে হচ্ছে। আপনার মক্কেল নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন। তাঁর আচরণ দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে…। এই টিজার যতক্ষণ জনসমক্ষে থাকবে, ততক্ষণ সলমন খানের সুনাম নষ্ট হবে। আমি আপনাদের প্রতি নমনীয় ছিলাম, কিন্তু আপনারা শোধরানোর পাত্র নন। একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও এমনটা করা যায় না।” এদিন শুনানির সময় ফের ওই টিজার দেখানো হয় কোর্ট রুমে। যা দেখে বিচারপতি জ্যোতি সিং বলেন, “যে বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন, তা নিয়ে ছবি তৈরি করার অর্থ আদালতেরও অবমাননা। ভাবমূর্তি অনেক কষ্টে তৈরি হয়। একবার সেটা নষ্ট হলে ভুগতে হয়।” দিল্লি আদালতের এহেন রায় মেনে নিতে না পেরেই এবার সুপ্রিম দুয়ারে গেলেন ‘কালা হিরণ’ নির্মাতারা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বাড়ি থেকে এক পা বেরতে দেননি স্বামী! ৮ মাস পর উদ্ধার করল পুলিশ
-
ক্লান্তিকর খবরের ভিড়ে হস্তিশাবকের বাঁচার গল্প যেন রূপকথা!
-
লক্ষ্য দ্রুত ভোটারের নাম নথিভুক্তকরণ, ট্রাইবুনালের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কমিশনের, হবে ডিজিটাল শুনানি!
-
কেন্দ্রের অনুদানে কেনা যন্ত্রপাতি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ‘গায়েব’! কড়া শাস্তির নিদান স্বাস্থ্য দপ্তরের
-
স্ত্রী সুনীতা একা, কোমলকে আগলে গণপতি দর্শনে গোবিন্দা, ভগবানকে সাক্ষী রেখে প্রেমে সিলমোহর!