‘সমুদ্র কিছু নেয় না, সব ফিরিয়ে দেয়’- বাংলার এই প্রবাদ বহুল প্রচলিত। কিন্তু রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) ক্ষেত্রে সেই সমীকরণের হিসেব নেহাত গুলিয়ে ফেলেছে অদৃষ্ট! রবিবার বিকেলে তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে সলিল সমাধি হয় অভিনেতার। তরতাজা প্রাণ। মাত্র বিয়াল্লিশেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি! কিছুতেই শোক সামলে উঠতে পারছেন না রাহুলের অজস্র অনুরাগী থেকে সিনেইন্ডাস্ট্রির বন্ধুরা। এমন আবহেই ভারাক্রান্ত হৃদয়ে প্রয়াত বন্ধুর জন্য কলম ধরলেন শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় (Srijato Bandyopadhyay)। বাংলার বহুল প্রচলিত বিশ্বাস-বাগধারাকে হাতিয়ার করে অরুণোদয়ের জন্য কবিতা বেঁধেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
একবার রাহুলের পডকাস্ট ‘সহজ কথা’য় অতিথি হিসেবে এসেছিলেন শ্রীজাত। সেখানেই কবি-পরিচালক এবং অভিনেতা পরস্পরের ‘লেখক সত্ত্বা’র প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। সেই আড্ডার ভিডিও ঘেঁটে দেখলে বেশ বোঝা যায় ‘লেখক অরুণোদয়’কে কতটা সমীহ করতেন শ্রীজাত, যে নিজের অপ্রকাশিত উপন্যাসও রাহুলকে পড়িয়েছিলেন।
শ্রীজাত লিখেছেন, “সমুদ্র কিছু নেয় না/ ফিরিয়ে দেয় এ-প্রবাদ তুমি মিথ্যে করলে আজ। খুচরোর মতো আয়ুর এমন ব্যয় — সূর্যাস্তকে মনে হলো দাহকাজ। তোমাকে দেখছি শুয়ে আছ টানটান/ দু’চোখ বন্ধ, সানগ্লাস লাগছে না। আকাশে উড়ছে শেকল ভাঙার গান/ এই ঘুম বহু ভালবাসা দিয়ে কেনা। দিন পুড়ে গেলে সন্ধের পথে হাঁটি/ রাতের দু’চোখ বৃষ্টিতে যায় ভিজে…/ যে ছিল শরীর, এই মুহূর্তে মাটি/ পা রাখতে ভয়… সখা ব’লে ডেকেছি যে!” শ্রীজাতর কবিতার ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে বন্ধুবিয়োগের যন্ত্রণা।

একবার রাহুলের পডকাস্ট ‘সহজ কথা’য় অতিথি হিসেবে এসেছিলেন শ্রীজাত। সেখানেই কবি-পরিচালক এবং অভিনেতা পরস্পরের ‘লেখক সত্ত্বা’র প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। সেই আড্ডার ভিডিও ঘেঁটে দেখলে বেশ বোঝা যায় ‘লেখক অরুণোদয়’কে কতটা সমীহ করতেন শ্রীজাত, যে নিজের অপ্রকাশিত উপন্যাসও রাহুলকে পড়িয়েছিলেন। অভিনেতাও বন্ধুকে নিজের লেখা পড়াতেন। লেখালেখি, গানবাজনা, সিনেমা-রাজনীতি নিয়ে তাঁদের চর্চা চলত নিরন্তর। স্মৃতির পাতা হাতড়ে রাহুলকে নিয়ে লেখা ‘কবিতাঞ্জলী’তে সেসব কথাই উজাড় করে দিলেন শ্রীজাত। কবি লিখেছেন, “শর্ত ছাড়াই ভরে দিতাম ওই মুঠো/ আয়ু বিনিময় সম্ভব হতো যদি। কে জানত তুমি পাড়ি দেবে এত দ্রুত… সমাধি’র গায়ে ছায়া ফেলে রাখে বোধি।/ বুকের বাঁদিকে বরাবরই রাখা ছিল লাল নিশান আর নীল-সাদা জার্সিটা… ছাই খুঁজে নেয় জলের অন্ত্যমিলও, এত সহজে তো নিভবে না এই চিতা! আমরা বইব এই আগুনের ভার।” কবিতার শেষপাতে প্রয়াত বন্ধুকে শ্রীজাত আবারও মনে করিয়ে দিলেন ‘যতদিন আছি, বলে যাব ভালবাসি…।’ রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে লেখা এই হৃদয়বিদারক কবিতা পড়ে চোখ পড়েছে নেটভুবনের।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
চিনের অনুমতি নেই! মানস সরোবর যাত্রায় আটকে ভারতীয় পুণ্যার্থীরা, সতর্কবার্তা দিল কেন্দ্র
-
ব্রাজিলের কাছে হেরে ইস্তফা প্রবীণ কোচের, বিশ্বকাপের মাঝেই চাকরি যাচ্ছে আর এক হেডস্যরের!
-
মিরিকে ধস, জলমগ্ন আলিপুরদুয়ার, তোর্সায় বেড়েছে জল, বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে দুর্ভোগে পর্যটকরা!
-
শিল্পের খরা কাটছে জঙ্গলমহলে! ইকো টুরিজমে ভরসা করে কর্মসংস্থানের ডাক ঝাড়গ্রামে
-
বাংলায় লিচু-বিপ্লব! অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে আকাশপথে ভিনরাজ্যে মরশুমি ফল