মালদহে সফল অস্ট্রেলিয়ান প্রযুক্তিতে চাষ, জেনে নিন পদ্ধতি

চলতি মরশুমে যথেষ্ট লাভবান হয়েছেন কৃষকরা৷

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০১৯, ১৫:৩২

options
link
মালদহে সফল অস্ট্রেলিয়ান প্রযুক্তিতে চাষ, জেনে নিন পদ্ধতি

বাবুল হক, মালদহ: অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তিতে কৃষিকাজ চলছে মালদহের চাঁচোল মহকুমায়। ধান, গম, ভুট্টা, পাট-সহ বিভিন্ন শস্যবীজ এখন বাড়িতে বসেই তৈরি করছেন গ্রামের কৃষক ক্লাবের মহিলারাও। সেই বীজ জমিতে না ফেলে ট্রে-তে করেই চারা তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ ধরনের ট্রাক্টরের মাধ্যমে ধানের সেই চারা রোপণ করা হচ্ছে। বিঘার পর বিঘা জমিতে সবুজ বিপ্লব ঘটেছে মালদহের চাঁচোল মহকুমা এলাকায়। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে সেই কৃষিকাজ ও কৃষিতে সংরক্ষণ পদ্ধতির অগ্রগতি দেখলেন রাজ্যের সহকারী কৃষি অধিকর্তা তথা এই প্রকল্পের রাজ্যের নোডাল অফিসার সুজন সেন। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে চাষ করে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন বলে কৃষি বিভাগের ওই কর্তা জানিয়েছেন। ওই প্রকল্পভুক্ত কৃষিজমিগুলি পরিদর্শনের পর সুজনবাবু বলেন, “রাজ্যের ৪টি জেলাতে আন্তর্জাতিক এই প্রকল্প চলছে। মালদহ, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর ও আলিপুরদুয়ারে এই সংরক্ষণ কৃষি পদ্ধতির মাধ্যমে চাষ হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে জিরো টিলেজ ও মেশিনের সাহায্য নেওয়া হয়। চলতি মরশুমেও এই পদ্ধতিতে চাষবাস করে কৃষকরা অনেক লাভবান হয়েছেন। মূলত কৃষকদের প্রতিক্রিয়া জানতেই আমরা এলাকা ঘুরে দেখলাম।”

Advertisement

[পরিকাঠামোর অভাব, চাহিদা থাকলেও থমকে চুনো মাছ চাষ]

কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় এই কর্মকাণ্ড চলছে উত্তর মালদহের সাতটি ব্লকে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই জেলায় তৈরি করা হয়েছে ১৯টি কৃষক ক্লাব। এই ধরনের ক্লাবে মহিলা সদস্যও রয়েছেন। রতুয়া-২ নম্বর ব্লকের শ্রীপুর গ্রামে ১০ বিঘা জমিতে এই কাজ করছেন বিদ্যানন্দপুর সবুজ বাহিনী কৃষক ক্লাবের সদস্যরা। চাঁচোল-২ নম্বর ব্লকে ২০ হেক্টর জমিতে সরকারি উদ্যোগে এই কৃষিকাজ চলছে। গোটা প্রকল্পের জেলার নোডাল অফিসার হিসাবে দায়িত্বে রয়েছেন মালদহের জেলা কৃষি আধিকারিক (শস্য রক্ষা) তমাল সরকার। উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই অধ্যাপক তপোময় ধর এবং অপূর্ব চৌধুরীও প্রকল্পটি দেখাশোনা করেন। উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তপোময় ধর জানিয়েছেন, “অস্ট্রেলিয়ান পদ্ধতিতে চাষ করার ফলে উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে চাষের খরচ কমেছে। চাষ করতে জলের প্রয়োজনও কমেছে। পরিবেশের কথা মাথায় রেখে চাষে জৈব সারের ব্যবহার বেড়েছে। এই পদ্ধতিতেই রাজ্যের সমস্ত চাষিই যেন কৃষিকাজ করেন তারও প্রচার চালাচ্ছে রাজ্যের কৃষি দপ্তর।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[জানেন কীভাবে মৌমাছি পালন করে হতে পারেন লাভবান?]

মালদহ জেলা পরিষদের কৃষি স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন বলেন, জেলার চাষিভাইরাও যেন সংরক্ষণ পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করেন তারও প্রচার চালাচ্ছে কৃষি দপ্তর৷ অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন। প্রচারে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। কৃষক মহলে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। চাঁচোল-২ নম্বর ব্লকের ভাকরি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার স্বনির্ভর দলের মহিলারাও ধানের বীজতলা তৈরির মাধ্যমে ওই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।” বিষয়টি নিয়ে স্বনির্ভর দলের সদস্য মোশরেফা বিবি বলেন, “স্বনির্ভর দলে ৯ জন সদস্য রয়েছে। দলের সকলে মিলে ধানের চারা তৈরি করে তা বিক্রি করছি। সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছি। ফার্মার্স ক্লাব সহযোগিতা করছে। লাভ ভাল হচ্ছে। সংসার চালাতে পারছি।” আরেক স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য মমতাজ বিবি বলেন, “এর আগে আমাদের জমিতে কাদা করে হাত দিয়ে চারা রোপণ করা হত। এখন মেশিনের মাধ্যমে আমরা কাজ করছি‌। প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করার ফলে সময় কম লাগছে এবং বিঘা প্রতি খরচ অনেকটাই কমেছে।” বিষয়টি নিয়ে এই প্রকল্পের রাজ্যের নোডাল অফিসার সুজনবাবুর সঙ্গে এদিন জমি ও কৃষিকাজ পরিদর্শন করেন মালদহ জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন, চাঁচোল-২ নম্বর ব্লকের কৃষি আধিকারিক দেবাশিস ঘোষ, মালদহ জেলা মৃত্তিকা পরীক্ষা কেন্দ্রের সহকারী অধিকর্তা মামনুর রশিদ-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।

Advertisement

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.