প্রাথমিকের ৩২ হাজার চাকরি (Primary Teacher Job Case) বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ চাকরিপ্রার্থীরা। সর্বোচ্চ আদালতে এসএলপি দায়ের করেছেন তাঁরা। মামলাকারীদের দাবি, মানবিকতার যুক্তিতে ৩২ হাজার চাকরি বহাল রাখা ‘বেআইনি’। আগামী সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা।
আরও পড়ুন:
গত ২০১৪ সালে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের (Primary Teacher Job Case) পরীক্ষায় টেট উত্তীর্ণ হন প্রায় এক লক্ষ ২৫ হাজার প্রার্থী। ২০১৬ সালে তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে পর্ষদ। টেট উত্তীর্ণদের মধ্যে থেকে ৪২,৯৪৯ জনকে চাকরি দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, ওই ৪২,৯৪৯-এর মধ্যে ৩২,০০০ প্রার্থী ‘অপ্রশিক্ষিত’। সঠিক পদ্ধতিতে ইন্টারভিউ এবং ‘অ্যাপটিটিউড টেস্ট’ না নিয়েই চাকরি দেওয়া-সহ একাধিক অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তিনি নির্দেশ দেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন প্যানেল থেকে নিয়োগ করতে হবে। যে সব শিক্ষকের চাকরি গিয়েছে, তাঁদেরও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আনতে হবে। ইন্টারভিউ এবং অ্যাপটিটিউড টেস্টের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আসতে হবে।
হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেওয়ার পর ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ ও কর্মরত শিক্ষকরা। হাই কোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ও বিচারপতি সুপ্রতীম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চের চাকরি বাতিলের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়। তবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে প্রার্থীদের চাকরি বজায় রেখেই নতুন করে ইন্টারভিউ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তিন মাসের মধ্যে সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সেই মামলা সুপ্রিম কোর্ট ঘুরে ফের হাই কোর্টে আসে। গত ২৮ এপ্রিল থেকে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হয়েছিল। টানা ছ’মাস ধরে শুনানি শেষে ১২ নভেম্বর রায়দান স্থগিত রাখে আদালত। গত ৩ ডিসেম্বর কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে দেয়। ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে প্রাথমিকের ৩২ হাজার চাকরি বাতিল হয়নি। স্বপদে বহাল রয়েছেন চাকুরিরতরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রাজস্থানের পুরভোটে জেন জি-র জয়জয়কার! স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তরুণরা
-
দেউলটি এবার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্টেশন! নাম বদলের প্রস্তাব গেল রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে, চিঠি রেলমন্ত্রকেও
-
বিশ্বকাপের ছকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দল নির্বাচন, রোহিত-হার্দিকের সুযোগ নিয়ে ফের প্রশ্নচিহ্ন!
-
‘বিগ বস’ দুর্গে দিতিপ্রিয়ার সঙ্গে বিবাদ নিয়ে জীতুকে আক্রমণ, রাজবীরের খোঁচা, ‘তোমার কেরিয়ার শেষ’
-
প্রয়াগরাজে সপা নেতাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি! যোগী সরকারকে তুলোধোনা অখিলেশের