কচ্ছে হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন, উদ্ধার পাঁচ হাজার বছর পুরনো নরকঙ্কাল

সবচেয়ে বড় সমাধিটি ২২ ফুটেরও কিছু বেশি দীর্ঘ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৯, ১২:৩২

options
link
কচ্ছে হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন, উদ্ধার পাঁচ হাজার বছর পুরনো নরকঙ্কাল

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: গুজরাতের কচ্ছ জেলার এক গ্রামে খনন করে খোঁজ মিলল হরপ্পা সভ্যতার সময়কার এক বিশাল সমাধিস্থল। যে গ্রামে এই সমাধিস্থলের খোঁজ মিলেছে, সেটি কচ্ছের লখপাত তালুকের উপকূল সংলগ্ন একটি ছোট্টগ্রাম। নাম খাটিয়া। সেখানেই গত দু’মাস ধরে খননকাজ চালাচ্ছিল কচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেরল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ ভূতাত্ত্বিক দল। সমাধিস্থলের আবিষ্কারের পর তারা জানিয়েছে, ইতিহাসের গবেষণায় এই আবিষ্কার বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কেন না এই প্রথম গুজরাতে হরপ্পা সভ্যতার সময়কার চারকোনা সমাধিস্থলের খোঁজ মিলল।

Advertisement

কচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সুরেশ ভান্ডারি এপ্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “এর আগে গুজরাতে হরপ্পা সভ্যতার লোকালয়ের যেসব নিদর্শন মিলেছে, তার সবক’টিতেই সমাধিক্ষেত্রগুলি ছিল হয় পুরো গোল, আধাগোল অথবা ডিম্বাকৃতির। যদিও গুজরাত ছাড়া ভারত বা পাকিস্তানে হরপ্পা সভ্যতার যে সব নিদর্শন রয়েছে, তার মধ্যে বেশিরভাগই চার কোণ বিশিষ্ট। ধোলাবীরার কথাই ধরা যাক। খাটিয়া গ্রাম ৩৬০ কিলোমিটার দূরের এই ধোলাবীরা হরপ্পা সভ্যতার বড় নগরকেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি বলে চিহ্নিত করেছেন ঐতিহাসিকরা। ইউনেস্কোর ঐতিহ্যবাহী এলাকা হিসাবেও স্বীকৃত এই গ্রাম। এখানে দীর্ঘ খননকাজে উদ্ধার হয়েছে বহু সমাধি ক্ষেত্র। কিন্তু, কোনওটিই চারকোণ বিশিষ্ট নয়। সুরেশ ভান্ডারির মতে, বিষয়টি গবেষণা করে দেখার মতো বইকী। প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা জেনেছেন, ওই সমাধি ক্ষেত্রের বয়স কম করে হলেও ৪৬০০-৫২০০ বছরের মধ্যে। ওই সমাধিক্ষেত্র থেকে উদ্ধার হওয়া এক ব্যক্তির কঙ্কালের বয়সও কম করে ৫০০০ বছর বলে জানিয়েছেন ভূতাত্ত্বিকরা। সেক্ষেত্রে হরপ্পা সভ্যতার একেবারে আদি সময়েই ওই সমাধিক্ষেত্রটি তৈরি হয়েছিল বলে অনুমান বিজ্ঞানীদের। সেক্ষেত্রে ওই একই সময়ে কাছাকাছি এলাকায় গড়ে ওঠা নগর কেন্দ্র ধোলাবীরার সমাধিক্ষেত্রের বৈশিষ্ট্য আলাদা হবে কেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[এবার ভারতেও নিষিদ্ধ ‘অভিশপ্ত’ বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স এইট বিমান]

দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক গবেষকদের টিম জানিয়েছে, ৩০০X৩০০ বর্গমিটার ওই বিশাল এলাকায় ২৫০ টি সমাধি রয়েছে। যার প্রত্যেকটিতেই মৃতদেহগুলিকে শোয়ানো রয়েছে পূর্বদিকে মাথা এবং পশ্চিমদিকে পা রেখে। পূর্ণবয়স্কদের পাশাপাশি বেশকিছু শিশুর সমাধিও রয়েছে সেখানে। সবচেয়ে বড় সমাধিটি ২২ ফুটেরও কিছু বেশি দীর্ঘ। সবচেয়ে ছোট সমাধিটি প্রায় চার ফুটের। এই সমাধিগুলির মধ্যে ২৬টি সমাধিতে খনন চালানো হয়েছে। বাকিগুলিতে খননের কাজ এখনও বাকি। এর মধ্যে যে পূর্ণাকৃতি কঙ্কালের খোঁজ গবেষকরা পেয়েছেন, তার উচ্চতা ছয়ফুট বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ওই কঙ্কালটিকে কচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আরও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তার সঠিক বয়স, মৃত্য়ুর কারণ এবং লিঙ্গ নির্ধারণ করার জন্য। এছাড়া ওইসব সমাধিস্থলের ভিতরে যেসমস্ত মাটির পাত্র, পাথর বা সামুদ্রিক ঝিনুক, শাঁখ দিয়ে তৈরি গয়না পাওয়া গিয়েছে, সেগুলি নিয়েও গবেষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন ভূতাত্ত্বিকরা। অবশ্য হরপ্পা সভ্যতায় মৃতকে সমাহিত করার সময় মাটির পাত্রে নানারকম জিনিসপত্র মৃতদেহের সঙ্গে দেওয়া নতুন বিষয় নয়।

Advertisement

আগেই গবেষকরা এই প্রথার কথা জেনেছেন। যত বেশি মাটিরপাত্র, তত প্রভাবশালী মৃত ব্যক্তি এমনই ধারণা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দামি পাথর, মাটি ও ঝিনুকের গয়না ছাড়াও সোনার গয়না দেওয়া হত মৃতের সমাধিতে। কচ্ছের এই খাটিয়াগ্রামের হরপ্পান সমাধিক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৯টি মাটির পাত্র দেওয়া সমাধি মিলেছে। আর সবচেয়ে কম তিনটি মাটির পাত্র দেওয়া হয়েছে সমাধিগুলিতে। গবেষকদের ধারণা, প্রভাবশালী এবং সাধারণ মানুষ নির্বিশেষ হরপ্পান অধিবাসীদের সমাহিত করা হয়েছে এই এলাকায়। তবে খাটিয়া গ্রাম সংলগ্ন এলাকা নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে রাজি নন ভূতাত্ত্বিকরা। তাঁরা জানিয়েছেন, এই গ্রামের আবিষ্কার তাঁদের সামনে গবেষণার বর দরজা খুলে দিয়েছে। এমনও হতে পারে হরপ্পা সভ্যতার বিলকুল না জানা এক নগর কেন্দ্র আবিষ্কার করে ফেলতে পারেন তাঁরা। এখনও পর্যন্ত ইতিহাসবিদ চিহ্নিত এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত এমন পাঁচটি এলাকা রয়েছে, যেগুলি হরপ্পার নগর কেন্দ্র হিসাবে মর্যাদা পেয়েছে। গুজরাতের ধোলাবীরা ছাড়া যার মধ্যে হরপ্পা, মহেঞ্জোদড়ো, গানেরিওয়ালা, চোলিস্তান এবং রাখিগাড়ি।

[স্বাধীনতার পর ‘আদর্শচ্যুত’ কংগ্রেসকে ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন গান্ধীজি: প্রধানমন্ত্রী]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন