Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬

স্বাধীনতার পর ‘আদর্শচ্যুত’ কংগ্রেসকে ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন গান্ধীজি: প্রধানমন্ত্রী

কংগ্রেসকে তুলোধোনা মোদির।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৯, ১১:০২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৯, ১১:০২

options
link
স্বাধীনতার পর ‘আদর্শচ্যুত’ কংগ্রেসকে ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন গান্ধীজি: প্রধানমন্ত্রী zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মুখে মহাত্মা গান্ধীর কথা বলে। কিন্তু কংগ্রেসের সংস্কৃতিই হল গান্ধীজির আদর্শের বিপরীত পথে চলা। কংগ্রেস আর দুর্নীতি সমার্থক। ঐতিহাসিক ডান্ডি অভিযানের বর্ষপূর্তির দিনেই ব্লগ লিখে এভাবেই প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এবং গান্ধী পরিবারকে তুলোধোনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঠিক যখন ডান্ডি অভিযানকে সামনে রেখে কংগ্রেস মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য গুজরাতের আমেদাবাদে ভোটের কৌশল ঠিক করতে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক করছে, ঠিক তখন মোদির এই ব্লগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

[শত্রুর আতঙ্ক পিনাক, অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ করল ভারত]

Advertisement

১৯৩০ সালের এই দিনেই ডান্ডি অভিযান শুরু করেছিলেন গান্ধীজি। সেই অভিযানের ৮৯তম বর্ষপূর্তির দিনে কংগ্রেসের আদর্শ নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। দাবি করলেন, ‘স্বাধীনতার পর গান্ধীজিই কংগ্রেস ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন।’ কারণ? ‘গান্ধীজির অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যের নীতিই মানেনি কংগ্রেস। দলের চরিত্র গান্ধীজি ভালভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন।’ গান্ধীজির নীতি-আদর্শকে তুলে ধরে মোদির ব্লগের ছত্রে ছত্রে রয়েছে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ। দুর্নীতি, জাতিভেদ, পরিবারতন্ত্রের মতো অভিযোগ তুলে কংগ্রেসকে একের পর এক কটাক্ষ করেছেন তিনি। শুরুটা হয়েছিল দেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মহান সর্দার প্যাটেল’কে দিয়ে। মোদির মত, ‘ডান্ডি অভিযানের প্রতিটি মিনিটের খুঁটিনাটি থেকে একদম শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা করেছিলেন প্যাটেল।’ গুজরাতের নর্মদায় বল্লভভাই প্যাটেলের বিশ্বের সর্বোচ্চ ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ মূর্তি তৈরি করেছে কেন্দ্র। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গান্ধী-নেহরু-প্যাটেলের মতো কংগ্রেসের ‘মুখ’কে রাজনৈতিক হাতিয়ার করেছেন মোদি। বিরোধীদের আক্রমণ, অভিযোগকে বিশেষ পাত্তা দেননি। লোকসভা নির্রাচনের আগেও তাতে ছেদ পড়ল না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ডান্ডি অভিযান এবং গান্ধীজিকে স্মরণ করার নামে আসলে নিজের ব্লগে কংগ্রেসেকে আক্রমণ করাই ছিল মোদির মূল উদ্দেশ্য।

ব্লগে গান্ধীজির আদর্শ-ভাবনা ও কংগ্রেসের সংস্কৃতির তফাত একের পর এক পয়েন্ট করে তুলে ধরেন মোদি। লেখেন, ‘গান্ধীজি তাঁর অনেক লেখায় বলেছেন, তিনি অসাম্য এবং জাতিগত বিভেদের বিপক্ষে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করতে কংগ্রেস কখনও দ্বিধা করেনি। সবচেয়ে ভয়ংকর জাতিগত দাঙ্গা ও দলিত হত্যার ঘটনা কংগ্রেস জমানাতেই ঘটেছে।’
কেউ কেউ মনে করছেন, নাম না করে শিখ বিরোধী দাঙ্গার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। গান্ধীজিকে উদ্ধৃত করে মোদি আরও বলেন, দুর্নীতি আর অপশাসন সমার্থক। তাই তাঁর সরকার দুর্নীতি রুখতে সমস্ত পদক্ষেপ করেছে। আর এমন কোনও ক্ষেত্র নেই যেখানে কংগ্রেস দুর্নীতি করেনি–প্রতিরক্ষা, সেচ, টেলিকম, ক্রীড়া থেকে শুরু করে কৃষি, গ্রামোন্নয়ন, সর্বত্র। গরিব মানুষের জীবনধারণের নূ্যনতম পরিষেবা দেওয়ার বদলে ওই অর্থে কংগ্রেস নেতারা নিজেদের অ্যাকাউন্ট ভরেছে, বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর আরও অভিযোগ করেন, গান্ধীজি পরিবারতন্ত্রের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। অথচ কংগ্রেস পরিবারতন্ত্রকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেয়। কংগ্রেস শাসন কালে সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ইন্দিরা গান্ধীর জমানার ‘জরুরি অবস্থা’। সেই প্রসঙ্গেও কংগ্রেসকে এক হাত নিয়েছেন মোদি। জরুরি অবস্থার ঘোষণা গণতন্ত্রের পবিত্রতা নষ্ট করেছে, এই অভিযোগ তুলে মোদির দাবি, ‘কংগ্রেস বহুবার ৩৫৬ ধারার অপব্যবহার করেছে। যখনই কোনও নেতাকে পছন্দ হয়নি, তখনই সেই সরকার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আর সব সময় পরিবারতন্ত্রের পক্ষে সওয়াল করেছে। তাদের কাছে গণতন্ত্রের কোনও মূল্য নেই।’ গান্ধীজির স্বরাজের মন্ত্র, তাঁর নীতি-আদর্শ বিজেপিই সঠিকভাবে রূপায়ণ করছে বলে মোদি দাবি করেন। মঙ্গলবারই সাবরমতী আশ্রম পরিদর্শন করে আমেদাবাদে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক করেন সোনিয়া, রাহুল, প্রিয়াঙ্কারা। তার আগে জাতির জনকের আদর্শ থেকে কংগ্রেসের বিচ্যুতির কথা তুলে ধরে ভোট রাজনীতির অঙ্কে মোদি বাজিমাত করতে চেয়েছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

[পুলওয়ামার অপরাধী মাসুদ আজহারকে ‘জি’ বলে সম্বোধন, ফের বিতর্কে রাহুল]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.