কালীঘাট তৃণমূলকে কোণঠাসা করে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রদবদলে অনুমোদন দিয়েছে লোকসভা। গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানের পদে বসানো হয়েছে এনসিপিআই সাংসদকে। যদিও লোকসভার হিসেবে তিনি এখনও তৃণমূল। এই ঘটনায় আপত্তি জানিয়ে এবার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, যাঁকে এই কমিটির মাথায় বসানো হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে সাংসদ পদ খারিজের আবেদন স্পিকারের কাছে বিচারাধীন। তাহলে কোন যুক্তিতে এই সাংসদকে স্ট্যান্ডিং কমিটির মাথায় বসানো হল?
আরও পড়ুন:
শনিবার লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় চেয়ারম্যান করা হয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। এই ঘটনায় স্পিকারের উদ্দেশে অভিষেক লিখেছেন, “২৩ সেপ্টেম্বর চিঠি দিয়ে আমি অনুরোধ করেছিলাম যে ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে মামলা চলছে, তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদে এদের যেন বিবেচনা করা না হয়। যারা বর্তমানে কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন তাঁরাই যেন দায়িত্বে থাকেন। কিন্তু এই নিয়োগ সেই আপত্তির পরিপন্থী।” একইসঙ্গে তিনি লিখেছেন, “সংসদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী এখনও লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ২৮ জন। কিন্তু যাঁকে কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে তিনি নিজেকে এনসিপিআই সদস্য বলে দাবি করেছেন। এই সংক্রান্ত মামলাও চলছে। তাহলে কোন দলের কোটায় তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হল? যদি তৃণমূলের কোটায় দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দলের মনোনীত প্রার্থীকে কেন সরানো হল? যদি এনসিপিআই-এর কোটায় দেওয়া হয়, তাহলে কোন আদেশে তাদের দলীয় পরিচয় স্বীকৃত হল, আর কোন যুক্তিতে এনসিপিআই চেয়ারম্যানশিপ পেল?”
শনিবার লোকসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় চেয়ারম্যান করা হয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে।
তিনি আরও লিখেছেন, “লোকসভার সদস্যের পরিচয় সংক্রান্ত বিতর্ক ঝুলিয়ে রেখে কাউকে চেয়ারম্যান করা সংসদীয় রীতির পরিপন্থী। এটাকে কোনওভাবেই তৃণমূলকে দেওয়া ‘চেয়ারম্যান’ হিসাবে ধরা যায় না।” অভিষেকের দাবি, “এই নিয়োগ খারিজ করে যথাযথভাবে মনোনীত সদস্যকে চেয়ারম্যান পদ ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং দ্রুত সাংসদ পদ বাতিলের আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করা হোক।”
অন্যদিকে, বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হয়েছে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী। লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও ৮টি সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। সেখানে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণনকে চিঠি লিখেছেন তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যসভায় বিজেপি সবচেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কংগ্রেস। এরপরই তৃতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল। ২০১৯ সালেও তৃতীয় বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূলকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। পরে তা সংশোধন হলেও, আবার একই ঘটনা ঘটল।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কেন কালীঘাট এলাকার একাধিক ব্যক্তির নামে সিম তুলেছিলেন সুমিত? নেপথ্যে বড় লেনদেন! তদন্তে পুলিশ
-
মেসি-ম্যাচে বঞ্চিত দর্শকদের শুভেন্দুর উপহার, উরুগুয়ে ম্যাচে ২২ হাজার টিকিট মিলবে বিনামূল্যে
-
ভারতের লড়াইকে ‘বাহবা’ দিলেন ব্রাজিল কোচ, হেরে খালিদ দুষলেন মনঃসংযোগের অভাবকে
-
‘লেনিন, মার্কস, হো চি মিন, এরা কারা?’ রাস্তার নাম বদল নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী
-
‘গাজা যুদ্ধ শেষ হোক চাননি নেতানিয়াহু, বন্দি মুক্তিতেও আগ্রহ ছিল না’, বিস্ফোরক প্রাক্তন সেনাকর্তা