রাম মন্দিরে দানের টাকা চুরির ঘটনায় বিজেপি ও আরএসএস-কে তুলোধোনা আসাদুদ্দিন ওয়েসির। ট্রাস্টের প্রধান চম্পত রাইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একইসঙ্গে এআইএমআইএম দলের সুপ্রিমোর তোপ, ওই ট্রাস্টে যদি কোনও মুসলিম থাকতেন, তবে দুর্নীতি সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গুলি করে মারা হত।
আরও পড়ুন:
সোমবার উত্তরপ্রদেশের বিজনোরে গিয়েছিলেন আসাদুদ্দিন। সেখানেই এক জনসভায় রাম মন্দিরের টাকা চুরির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এই বিষয়ে আমার বক্তব্য কী? আমি বলেছি ট্রাস্টে একটি ভুল হয়েছিল। আপনারা ওই ট্রাস্টে কোনও মুসলিমকে রাখতে পারতেন। এরপর এই কেলেঙ্কারি যখন সামনে আসত তখন আপনারা সেই মুসলিমকে এনকাউন্টারে হত্যা করে বুলডোজারে তাঁর বাড়ি গুঁড়িয়ে দিতেন। অবশেষে এই মামলা বন্ধ করে দিতেন।” ট্রাস্ট প্রধান চম্পত রাইকেও একহাত নেন ওয়েইসি। তাঁর কথায়, “চম্পত তো মজায় রয়েছেন। আপনারাই বলুন কী চলছে। কারও বাড়ি ভাঙা হচ্ছে না, যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁদের পুলিশ হেফাজতও দেওয়া হচ্ছে না। আজ আমি মুখ খোলার পর কাল হয়ত পুলিশ ওদের হেফাজতে নেবে। আপনারাই ভেবে দেখুন উত্তরপ্রদেশে ঠিক কী চলছে।”
ওয়েসি বলেন, ‘আপনারা ওই ট্রাস্টে কোনও মুসলিমকে রাখতে পারতেন। এরপর এই কেলেঙ্কারি অভিযোগে তাঁকে এনকাউন্টারে হত্যা করে বুলডোজারে তাঁর বাড়ি গুঁড়িয়ে দিতেন। এবং মামলা বন্ধ করে দিতেন।’
এরপর বিজেপি ও আরএসএসকে নিশানায় নিয়ে হায়দরাবাদের সংসদ বলেন, ”আমরা বিজেপি ও আরএসএসের কাছে জানতে চাই এই চম্পত কী আপনাদের আদরের সন্তান? আমাদের বেলায় তো বলেন, পাকিস্তানি, জেহাদি, বাংলাদেশি। তাহলে এই রাম মাধব কীভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনীতি চালাচ্ছেন? এ সেই পাকিস্তান, যারা পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন ভারতীয়কে গুলি করেছিল। এ সেই পাকিস্তান, যারা দিল্লির লালকেল্লায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় সমর্থন যুগিয়েছিল, যে ঘটনায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়।”
প্রসঙ্গত, রাম মন্দিরে চুরির ঘটনায় সিটের রিপোর্টে উঠে এসেছে, রাম মন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি, সঙ্গে অগণিত সোনা-রুপোর গয়না৷ এই ধনরাশির একটা বড় অংশের কোনও হদিশ মিলছে না৷ নগদ টাকা এবং গয়নার পাশাপাশি মন্দিরের হেফাজত থেকে গায়েব দানে পাওয়া রুপোর তৈরি ভূষূণ্ডির কাকও। তদন্ত চলাকালীন আরও জানা গিয়েছে, ট্রাস্টের একাধিক শীর্ষকর্তা জানতেন মন্দিরের অনুদান চুরির বিষয়টি। কিন্তু পুলিশে কেন অভিযোগ দায়ের হল না? তাহলে কি চুরির ঘটনা আড়াল করতে চাইছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ? কার স্বার্থে বা কাকে বাঁচাতে অভিযোগ দায়ের হয়নি? সূত্রের খবর, অনুদান গোনার কর্মীদের বদলাতে চেয়েছিল ব্যাঙ্ক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। এখানেই প্রশ্ন রাঘব বোয়ালরা আড়ালে থেকে যাচ্ছেন না তো? আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বকাপে ব্যর্থতাতেও নেতৃত্বে হরমনই, অলিম্পিকের ছক কষে ঘোষিত এশিয়াডে ভারতের মহিলা দল!
-
রক্ষাকবচ মামলায় হাই কোর্টে ধাক্কা অভিষেকের ‘বেপাত্তা’ আপ্তসহায়কের, খারিজ জরুরি শুনানির আর্জি
-
বুধবার থেকেই রাজ্যে চালু জি রাম জি, কারা সুবিধা পাবেন? মোট খরচ কত?
-
মুম্বইয়ে স্কুলের বাসের উপর ভেঙে পড়ল গাছ, মৃত্যু এক পড়ুয়ার, হাসপাতালে গুরুতর আহত ৫
-
মিলল না রক্ষাকবচ, কণ্ঠস্বরের নমুনা সংক্রান্ত মামলা থেকে সরলেন বিচারপতি, আরও বিপাকে অভিষেক!