Ram Temple Funds Theft

রাম মন্দিরের ‘চোরদের’ পক্ষে সওয়াল করলেই ৫ লক্ষ জরিমানা, বড় সিদ্ধান্ত অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশনের 

অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশন হুঁশিয়ারি দিয়েছে, চুরির ঘটনায় নাম জড়ানো রাম মন্দির ট্রাস্টি বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান চম্পত রায়, সদস্য অনিল মিশ্র ও গোপাল রায়কে অবিলম্বে অযোধ্যা ছাড়তে হবে। এর জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তিনজন অযোধ্যা থেকে চলে না গেলে রাম জন্মভূমি অচল করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আইনজীবীদের সমিতি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৯, ২০২৬, ১৮:৫৮

options
link
রাম মন্দিরের ‘চোরদের’ পক্ষে সওয়াল করলেই ৫ লক্ষ জরিমানা, বড় সিদ্ধান্ত অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশনের 
ক্রমশ রাম মন্দিরে অনুদান চুরি নিয়ে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।

অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান চুরিতে ধৃতদের পক্ষে মামলা লড়বেন না কোনও আইনজীবী। সোমবার সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিল অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশন। এমনকী কোনও আইনজীবী যদি এই সিদ্ধান্ত অমান্য় করে অভিযুক্তদের বাঁচাতে আদালতে দাঁড়ান, তবে তাঁকে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে। বলা বাহুল্য, ক্রমশ রাম মন্দিরে অনুদান চুরি নিয়ে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।

Advertisement

নিজেদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানিয়ে অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট কালিকা প্রসাদ মিশ্র বলেন, “চম্পত রাই, গোপাল রাও এবং অনিল মিশ্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাশাপাশি সিবিআই তদন্তের দাবি জানানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে… প্রয়োজনে অযোধ্যা আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশন নিজস্ব খরচে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবে।” আইনজীবী অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি রাজেশ কুমার উপাধ্যায়ের অভিযোগ, “যাঁদের জেলে পাঠানো হয়েছে তাঁরা চালক ও সাফাইকর্মী। তাঁরা অপরাধী নয়। মূল অভিযুক্তরা হলেন চম্পত রায়, অনিল মিশ্র ও গোপাল রাও। কর্তৃপক্ষ তাঁদের আড়াল করছে।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৭৫ নম্বর ধারার অধীনে চম্পত, গোপাল এবং অনিলের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইনজীবী সমিতি। উল্লেখ্য, এই ধারাটি একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে কোনও নির্দিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশকে এফআইআর নথিভুক্ত ও তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে।

Advertisement

এখানেই শেষ নয়। অযোধ্যা বার অ্যাসোসিয়েশন হুঁশিয়ারি দিয়েছে, চুরির ঘটনায় নাম জড়ানো রাম মন্দির ট্রাস্টি বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান চম্পত রায়, সদস্য অনিল মিশ্র ও গোপাল রায়কে অবিলম্বে অযোধ্যা ছাড়তে হবে। এর জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তিনজন অযোধ্যা থেকে চলে না গেলে রাম জন্মভূমি অচল করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আইনজীবীদের সমিতি।

প্রসঙ্গত, সিটের রিপোর্টে উঠে এসেছে, রামমন্দিরে নগদ প্রণামী জমা পড়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি, সঙ্গে অগণিত সোনা-রুপোর গয়না৷ এই ধনরাশির একটা বড় অংশের কোনও হদিশ মিলছে না৷ নগদ টাকা এবং গয়নার পাশাপাশি মন্দিরের হেফাজত থেকে গায়েব দানে পাওয়া রুপোর তৈরি ভূষূণ্ডির কাকও। তদন্ত চলাকালীন আরও জানা গিয়েছে, ট্রাস্টের একাধিক শীর্ষকর্তা জানতেন মন্দিরের অনুদান চুরির বিষয়টি। কিন্তু পুলিশে কেন অভিযোগ দায়ের হল না? তাহলে কি চুরির ঘটনা আড়াল করতে চাইছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ? কার স্বার্থে বা কাকে বাঁচাতে অভিযোগ দায়ের হয়নি? সূত্রের খবর, অনুদান গোনার কর্মীদের বদলাতে চেয়েছিল ব্যাঙ্ক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। 

এখানেই প্রশ্ন রাঘব বোয়ালরা আড়ালে থেকে যাচ্ছেন না তো? কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লার সাফ কথা, “এ পর্যন্ত যারা গ্রেপ্তার হয়েছে, তারা নিতান্তই চুনোপুঁটি। রাঘব বোয়ালরা এখনও আড়ালে। যে চুরির অঙ্কটা কয়েকশো কোটি ছাড়িয়ে কয়েক হাজার কোটির গণ্ডিতে, সেই চুরিতে বড় মাথারা জড়িত আছেই। তাঁদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিতেই হবে।” কংগ্রেস নেতার দাবি, দরকার পড়ল শীর্ষ আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ করুক। আদালতের তত্ত্বাবধানে তদন্ত হোক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত, নিজে হস্তক্ষেপ করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.