৩৭০ ধারা বিলুপ্তির বর্ষপূর্তি উদযাপন নেই কাশ্মীরে

অযোধ্যা আবেগে ম্লান কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির বর্ষপূর্তি, কারফিউয়ে বন্দি উপত্যকাবাসী

এদিন উপত্যকায় কোনও অশান্তি চোখে পড়েনি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৫, ২০২০, ২০:৪৬

options
link
অযোধ্যা আবেগে ম্লান কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির বর্ষপূর্তি, কারফিউয়ে বন্দি উপত্যকাবাসী

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ৫ আগস্ট দিনটি যেন বারবার নতুন মাহাত্ম্য নিয়ে আসে। ঠিক এক বছর আগে এই দিনটায় দেশের ইতিহাসে রচিত হয়েছি এক নতুন অধ্যায়। জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা (Article 370) বিলুপ্ত হয়ে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ। সঙ্গে যথাযথ অধিকার প্রাপ্তি, সুবিধাপ্রাপ্তি। তারপর থেকে ভূস্বর্গের জীবন অনেকটাই পালটেছে। আজ সেই ঐতিহাসিক ঘটনারই বর্ষপূর্তি। কিন্তু কোথায় কী? বর্ষপূর্তির আনন্দ উদযাপনের কোনও সুযোগই ছিল না। একে জারি কারফিউ, তারউপর আজকের দিনেই অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভূমিপুজোর মতো মেগা ইভেন্ট। জোড়া ঘটনায় চাপাই পড়ে গেল কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলুপ্তির বর্ষপূর্তি উদযাপন।

Advertisement

KashmirSecurity-1

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

দেশের উত্তরাংশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কাশ্মীর উপত্যকা থেকে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর তার মানচিত্র বদলেছে। কিছুটা পালটেছে জীবনযাপনের ধরনও। কিন্তু আসলে এই পরিবর্তন উপত্যকাবাসীকে কতটা মুক্তির আনন্দ দিতে পেরেছে? তার তত্বতালাশ করতে গিয়ে দেখা গেল, এই এক বছরে খুব বদল কিছু হয়নি এখানকার সাধারণ মানুষের। প্রথমদিকে নিরাপত্তার যুক্তিতে কাশ্মীরের সঙ্গে বাকি দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বন্ধ ছিল মোবাইল পরিষেবা, ইন্টারনেট। জারি ছিল কারফিউ। গৃহবন্দি করে ফেলা হয়েছিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দিকে সামান্য ঝুঁকে থাকা রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের। আমজনতার সুরক্ষার জন্যই এত কড়াকড়ি। ফলে তখনকার মতো আনন্দ উদযাপনের সুযোগ মেলেনি।

Advertisement

[আরও পড়ুন: নিয়মের গেরো, এবার কংগ্রেসের হাতছাড়া হতে চলেছে দিল্লির সদর দপ্তরও]

ধাপে ধাপে সব নিষেধাজ্ঞা উঠে ছন্দে ফেরে উপত্যকা। যদিও বরাবরের মতো সেনাবাহিনীর টহল জারি ছিলই। তবে ততদিনে বছর শেষ। বিক্ষিপ্তভাবে সীমান্তে পাক সেনা, জঙ্গিদের হামলা লেগেই আছে। লেগে আছে মৃত্যুভয়ও। চলতি বছরের প্রায় গোড়া থেকে করোনার কামড়। যার জেরে গোটা দেশের সঙ্গে লকডাউনে আটকে পড়ে জম্মু-কাশ্মীর। ওখানে অবশ্য এটা নতুন কিছু নয়। বছরের অধিকাংশ সময়ে কারফিউয়ের ঘেরাটোপে থাকা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ। কখনও ইদ, কখনও জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি ছিল কাশ্মীরে। আর ৫ আগস্ট যত এগিয়েছে, ততই আরও কঠোর হয়েছে সুরক্ষা বলয়। বেড়েছে জলপাই পোশাক আর ভারী বুট পরিহিত চেনা লোকেদের আনাগোনা। সম্প্রতি আবার এক জওয়ান অপহৃত হয়েছেন শ্রীনগর থেকে। তাতে আতঙ্কের পরিবেশ। তাই ৩৭০ ধারা বিলোপের বর্ষপূর্তিতেও ভয়ের আবহই বিরাজ করছিল ভূস্বর্গে।

[আরও পড়ুন: সেনা বৈঠকের পরও লাদাখের প্যাংগং লেকের ফিঙ্গার ৫ থেকে সরেনি লালফৌজ]

আর এবছরের ৫ আগস্ট দেশে আরেক ইতিহাসের সূচনা। বহু প্রতীক্ষীত রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে। সেটাই মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল। কাশ্মীরবাসীর ইতিহাসের দিন আর ক’জনই বা মনে রেখেছেন? ফলে যা হওয়ার তাই। এক বছর ঘুরলেও সেলিব্রেশনের পরিবেশ নেই। কারণ, করোনার প্রকোপ ফের বাড়তে থাকায় মঙ্গলবার থেকে সেখানকার কয়েকটি জায়গায় লকডাউন জারি হয়েছে। তবে এই দিনটায় কাশ্মীরের কোথাও কোনও অশান্তি চোখে পড়েনি। প্রাপ্তি বলতে এটুকুই।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন