রসায়নের অধ্যাপকের পর এবার সিবিআইয়ের জালে বায়োলজির লেকচারার। নিট প্রশ্নফাঁসের তদন্তে নেমে এবার গ্রেপ্তার হলেন মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে নামে এক অধ্যাপিকা। অভিযুক্ত এই শিক্ষিকা এনটিএ-র পেপার সেটিং কমিটির সদস্যা ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, ওই শিক্ষিকার কাছে উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণীবিদ্যার প্রশ্নপত্রের অ্যাক্সেস ছিল। অর্থাৎ, তদন্তে স্পষ্ট যে নিটের প্রশ্নফাঁসে সর্ষের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল ভূত।
আরও পড়ুন:
শনিবার সিবিআইয়ের তরফে এই বিবৃতি জারি করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, বিশদে তদন্তের পর মনীষা নামে ওই শিক্ষিকাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইনি নিট পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁকে নিযুক্ত করেছিল এনটিএ। তদন্তকারীদের তরফে জানানো হয়েছে, মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে গত এপ্রিল মাসে পুণেতে মনীষা ওয়াঘমারের সাহায্যে নিট পরিক্ষার্থীদের জোগাড় করে নিজের বাসভবনে কোচিং ক্লাস শুরু করেন। সেখান থেকেই ফাঁস করা হয় উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণীবিদ্যার প্রশ্নপত্র। এই চক্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত মধ্যে মনীষা ওয়াঘমার। একটি বিউটি পার্লারের মালিক মনীষা ওয়াঘমারকে গত ১৪ মে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। এরপরই সামনে আসে এই চক্রে জড়ির একের পর এক শিক্ষকের নাম।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই শিক্ষিকার কাছে উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণীবিদ্যার প্রশ্নপত্রের অ্যাক্সেস ছিল।
গতকাল পিভি কুলকর্নি নামে পুণের বাসিন্দা এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, ইনি একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং এনটিএ-র তরফে নেওয়া নিট পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেকচারার হিসেবে কর্মরত। বেশ কয়েকবছর ধরে নিটের প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। রিপোর্ট বলছে, অভিযুক্ত মনীষা ওয়াঘমারের সাহায্য নিয়ে গত এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে নিজের বাড়িতে একটি কোচিং ক্লাসের আয়োজন করেন ওই অভিযুক্ত। সেখান থেকে ফাঁস করা হয় প্রশ্ন।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে নিট ইউজির পরীক্ষা নিয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। প্রায় ২৩ লক্ষ পড়ুয়া এই পরীক্ষায় বসেন। জানা যায়, পরীক্ষার অন্তত একমাস আগে কিছু ছাত্রছাত্রীর হাতে এসেছিল একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র। ওই সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রে ৪১০টি প্রশ্ন ছিল। পরীক্ষার পর দেখা যায় ১২০টি রসায়ন প্রশ্ন আসল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। শুধু প্রশ্ন নয়, মিলে গিয়েছে উত্তরের অপশনও। এহেন দুর্নীতি যেন আর না হয় সেটা নিশ্চিত করতেই অনলাইন পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
কড়ি ফেললেই আফগান হচ্ছে ভারতীয়! বার্থ সার্টিফিকেট তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার মালবাজারে পুরকর্মী
-
লাইন এড়িয়ে আউটডোরের টিকিট কাটার টোপ! এসএসকেএমে জালচক্রের রমরমা, গ্রেপ্তার ৩
-
রক্তপাতহীন বই-হত্যা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধ্বংসযজ্ঞ!
-
প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে ভরসা বাড়ছে, এইমসের আদলে বঙ্গে এবার আয়ুর্বেদ হাসপাতাল!
-
‘এমন সিদ্ধান্ত কেন নেন যাতে বিতর্ক হয়’, খাম প্রতীক জটিলতায় কমিশনকে প্রশ্ন হাই কোর্টের