Cyber Crime

বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে চিনা সাইবার অপরাধীরা! টার্গেট ভারতীয়রা? কড়া নজর গোয়েন্দাদের

ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে। সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতারণার ছক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১৮:৩৬

options
link
বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে চিনা সাইবার অপরাধীরা! টার্গেট ভারতীয়রা? কড়া নজর গোয়েন্দাদের
ছবি এআই দ্বারা নির্মিত।

ডিজিটালাইজেশনের যুগে সাইবার প্রতারণা বড়সড় মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠছে নিরাপত্তা আধিকারিকদের কাছে। এরমধ্যেই বাংলাদেশের মাটিতে চিনা সাইবার মাফিয়াদের উপস্থিতি চিন্তা বাড়াচ্ছে ভারতীয় গোয়েন্দাদের। বিশেষ করে, সেখানে বসে লক্ষ লক্ষ ভারতীয়কে টার্গেট করে প্রতারণার জাল ছড়ানো হচ্ছে বলে খবর। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের দুটি ঘটনা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। যা বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দাদের অনুমান, বাংলাদেশ থেকে চিনা মাফিয়াদের সাইবার জালিয়াতির বড়সড় কেলেঙ্কারি শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও গভীরে গিয়ে শীর্ষ গোয়েন্দা আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে। সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতারণার ছক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে যাতে সাধারণ মানুষ সতর্ক থাকে, তা জানানো হয়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট বেশ কিছু অভিযান চালায়। তার মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ভারতীয় উপদূতাবাসের খুব কাছের একটি আবাসন থেকে ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। যার মধ্যে বেশিরভাগই বিদেশি নাগরিক। ওপার বাংলার এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ধৃতদের মধ্যে যেমন চিনা, পাকিস্তানের নাগরিক ছিল। তেমন লাওস, নেপাল এবং ভিয়েতনামের বাসিন্দারাও রয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে একাধিক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ-সহ একগুচ্ছ যন্ত্রপাতি উদ্ধার করেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ওই আবাসনই হয়ে উঠেছিল প্রতারণার বড় কেন্দ্র! কার্যত সেখানে বসেই ধৃতরা বিভিন্ন সাইবার প্রতারণা করতেন। টার্গেট ভারতীয়রা? যদিও তদন্তকারীদের অনুমান, এর পিছনে রয়েছে বড় মাথারা। কারণ ধৃত কারোর কাছ থেকে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। তদন্তে জানা যায়, পাসপোর্ট সবই মূল চক্রীর কাছে নাকি রয়েছে। কিন্তু কে তিনি?

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এই বিষয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু হতেই আরও এক চক্রের পর্দাফাঁস হয়। এই ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই কক্সবাজারের একটি বিলাসবহুল হোটেলে হানা দেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। সেখান থেকে পাঁচজন চিনা নাগরিক এবং তাইওয়ানের নাগরিককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার হয় প্রায় ২ হাজারটি আইফোন এবং ৪০টি ল্যাপটপ। সেগুলি খতিয়ে দেখে সাইবার প্রতারণার বড়সড় পর্দাফাঁস করে সে দেশের দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা। এমনকী বাংলাদেশে বসেই সমস্ত কেলেঙ্কারি যে চলছে, তাও জানান সে দেশের আধিকারিকরা। যদিও এই বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা। শুধু তাই নয়, পুরো ঘটনার উপর কড়া নজর রাখছে ভারতের সাইবার অপরাধ দমন শাখাও।

Advertisement

এক আধিকারিকের কথায়, বাংলাদেশের মতো দেশগুলিকে টার্গেট করছে চিনা সাইবার মাফিয়ারা। চিনের একাধিক বিনিয়োগ যেমন রয়েছে, তেমনই একাধিক প্রকল্পের কাজও চলছে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চিনা সাইবার অপরাধী ঘাঁটি তৈরি করছে। এক্ষেত্রে সন্দেহের কোনও অবকাশ থাকে না। কেন্দ্রীয় ওই গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকদের কথায়, প্রকল্প এবং বিনিয়োগের কারণ চিনা নাগরিকদের ভিসার নিয়ম অনেক বেশি শিথিল। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছেন প্রতারকরা। এমনকী এর আগে শ্রীলঙ্কা থেকেও এমনও একাধিক অভিযোগ সামনে আসছিল। যদিও সেখানে বড়সড় অভিযান চলছে। এই পরিস্থিতিতে অপরাধীরা বাংলাদেশকে সাইবার প্রতারণার কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে বেছে নিচ্ছে বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে। সমাজমাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতারণার ছক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে যাতে সাধারণ মানুষ সতর্ক থাকে, তা জানানো হয়েছে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.