Telegram Ban

‘যথেষ্ট কারণ রয়েছে’, টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে সিলমোহর, সংস্থার দাবি খারিজ আদালতে

টেলিগ্রাম অ্যাপ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ দেশে। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সংস্থাটি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১৯, ২০২৬, ১৬:২১

options
link
‘যথেষ্ট কারণ রয়েছে’, টেলিগ্রাম নিষিদ্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে সিলমোহর, সংস্থার দাবি খারিজ আদালতে
বৃহস্পতিবার আদালতে টেলিগ্রামকে অভিযুক্ত করে বিস্ফোরক দাবি করে কেন্দ্র।

টেলিগ্রাম অ্যাপ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ দেশে। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল সংস্থাটি। যদিও কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়ে মামলা খারিজ করে দিল আদালত। শুনানি শেষে রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি তেজস কারিয়া মন্তব্য করেন, টেলিগ্রাম অ্যাপ নিষিদ্ধ (Telegram Ban) করার যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে সরকারের কাছে। আরও বলা হয়, নিট পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসনে সরকারের পদক্ষেপ যৌক্তিক এবং সুচিন্তিত।

Advertisement

বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতে টেলিগ্রামকে অভিযুক্ত করে বিস্ফোরক দাবি করেছিল কেন্দ্র। জানানো হয়, টেলিগ্রাম এখন নতুন ডার্ক ওয়েবে পরিণত হয়েছে। এবং সেখানে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। এমনকী, চাইল্ড পর্ন, জঙ্গি গোষ্ঠীর এজেন্ডা ছড়াতেও তা ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস করার মঞ্চও হয়ে উঠেছে টেলিগ্রাম। কেন্দ্রের বক্তব্য, ‘টেলিগ্রাম এখন নতুন ডার্ক ওয়েব। অপরাধীরা দ্রুত টেলিগ্রামে এমন সব লিঙ্ক পোস্ট করে দিচ্ছে যেখানে ক্লিক করলে ডার্ক ওয়েবে ঢোকা যায়। প্রশাসনের পক্ষে এই ধরনের গতিবিধি শনাক্ত করা ও অপরাধীদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’

Advertisement

‘নিট’ পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) জানিয়েছে, বহু টেলিগ্রাম চ্যানেলের উপরে গত কয়েক মাস ধরেই নজরদারি চালানো হচ্ছে।

‘তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০’-এর ৬৯এ ধারার কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা করেছিল টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ। বিচারপতি তেজস কারিয়া সেই মামলাই শুক্রবার খারিজ করে দেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি বলেন, ন্যূনতম বিধিনিষেধের পদক্ষেপ করেছে সরকার। এই আদেশকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলা যায় না।

Advertisement

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, টেলিগ্রামে পরিচয় গোপন রাখার সুবিধাই একে অপরাধী চক্রের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কেন্দ্রের মতে, ইউজাররা প্রাইভেসি সেটিংসের মাধ্যমে ফোন নম্বর ও টেলিগ্রাম আইডির মতো তথ্য গোপন রাখতে পারেন। ফলে তদন্তকারীদের পক্ষে অ্যাকাউন্টগুলোর নেপথ্যে থাকা প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে মোদি সরকারের স্পষ্ট অভিযোগ, মাদক পাচার, সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, চাইল্ড পর্নের মতো নানা ভয়ংকর অপরাধের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

এদিকে ‘নিট’ পরীক্ষার আয়োজক সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) জানিয়েছে, বহু টেলিগ্রাম চ্যানেলের উপরে গত কয়েক মাস ধরেই নজরদারি চালানো হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, ‘পেপার লিকড লিট’, ‘রি-নিট ২০২৬’, ‘রি নিট মাফিয়া’র মতো নামের চ্যানেলগুলি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল প্রকাশ্যে। পরীক্ষার্থীদের থেকে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে। তবে এনটিএ জানিয়েছে, এই ধরনের প্রতিশ্রুতি আসলে প্রতারণা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.