PM Modi

‘বাংলার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা’, আসন পুনর্বিন্যাস আটকানোয় তৃণমূলকে তোপ মোদির

প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বিল পাশ হলে প্রতিটি রাজ্যের জনপ্রতিনিধির সংখ্যা বাড়ত। পশ্চিমবঙ্গেও জনপ্রতিনিধির সংখ্যা বাড়ত। বিল আটকে দিয়ে রাজ্যের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে তৃণমূল ডিএমকের মতো দলগুলি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৮:৫৩

options
link
‘বাংলার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা’, আসন পুনর্বিন্যাস আটকানোয় তৃণমূলকে তোপ মোদির
ফাইল ছবি।

মহিলা সংরক্ষণ বিল ও আসন পুনর্বিন্যাস বিল সংসদে পাশ না হওয়ায় বিরোধীদের বিরুদ্ধে বেনজির আক্রমণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। জানালেন, আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে দেশবাসীকে ভুল বোঝাচ্ছে কংগ্রেস, তৃণমূল, ডিএমকের মতো রাজনৈতিক দলগুলি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বিল পাশ হলে প্রতিটি রাজ্যের জনপ্রতিনিধির সংখ্যা বাড়ত। পশ্চিমবঙ্গেও জনপ্রতিনিধির সংখ্যা বাড়ত। বিল আটকে দিয়ে রাজ্যের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে তৃণমূল, ডিএমকের মতো দলগুলি।

Advertisement

মহিলা সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গে শুরু থেকে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, মহিলা সংরক্ষণের মোড়কে ভারতের ভোট মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে মোদি সরকার। সেই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ”আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে লাগাতার মিথ্যা ছড়ানো হয়েছে, ওরা দাবি করছে আসন পুনর্বিন্যাসে একাধিক রাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও সরকার প্রথম থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে কোনও রাজ্যে আসনের অনুপাত বদলাবে না, পরিনিধি কমানো হবে না, বরং সব রাজ্যের আসন সমানুপাতিক হারে বাড়বে।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এই বিল সব দল ও রাজ্যগুলির কাছে সুযোগ ছিল। এটা পাশ হলে তামিলনাড়ু, বাংলা এবং উত্তরপ্রদেশ-সহ সব রাজ্যের আসন বাড়ত। কিন্তু স্বার্থপর রাজনৈতিক কারণে এই নিজের রাজ্যের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল।

এরপরই সুর চড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এরপরও কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূলের মতো দলগুলি এর বিরোধিতা করল। এই বিল সব দল ও রাজ্যগুলির কাছে সুযোগ ছিল। এটা পাশ হলে তামিলনাড়ু, বাংলা এবং উত্তরপ্রদেশ-সহ সব রাজ্যের আসন বাড়ত। কিন্তু স্বার্থপর রাজনৈতিক কারণে এই নিজের রাজ্যের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল। ডিএমকের কাছে সুযোগ ছিল আরও বেশি তামিল সাংসদকে লোকসভায় নির্বাচিত করার। তৃণমূলের কাছে সুযোগ ছিল বাংলার জনগণকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু সেই সুযোগ এরা নষ্ট করেছে।” সমাজবাদী পার্টিকে তোপ দেগে মোদি আরও বলেন, “সমাজবাদী পার্টি ইতিমধ্যেই রামমনোহর লোহিয়াকে ভুলে গিয়েছে। কিন্তু এখন নারীশক্তি বিলের বিরোধিতা করে তারা লোহিয়ার স্বপ্নকে পদদলিত করল। উত্তরপ্রদেশের এবং দেশের নারীরা এটা কখনোই ভুলবে না।”

Advertisement

যদিও প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণের পর মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে পালটা মোদিকে তোপ দেগেছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘আসন পুনর্বিন্যাস বিলটি পাশ করাতে মহিলাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল মোদি সরকার। মহিলাদের জন্য এটা সবচেয়ে বড় অপমান।’ এই মন্তব্যের ব্যাখ্যায় ইংরেজিতে ‘DECOY’ শব্দ ব্যবহার করেছেন ডেরেক। যার অর্থে ডেরেক লিখেছেন, ‘এমন কোনও বস্তু বা ব্যক্তি যা ব্যবহার করে কাউকে প্রতারিত করে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করানো হয়।’

তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করাতে উঠেপড়ে লেগেছিল মোদি সরকার। যার প্রথমটি ছিল, লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ। এই বিলের নাম ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। দ্বিতীয়টি ছিল, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল। এবং তৃতীয়টি ছিল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। তবে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, মহিলা সংরক্ষণের মোড়কে ভারতের ভোট মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে মোদি সরকার। বিলটির বিরোধিতায় একজোট হয় বিরোধী শিবির। ভোটাভুটি চলাকালীন বিলটির পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি। ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিলেন ৫২৮ জন সাংসদ। বিলটি পাশ করাতে প্রয়োজন ছিল দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন অর্থাৎ ৩৫২টি ভোটের। তা না মেলায় শেষ পর্যন্ত পাশ করানো যায়নি বিলটি। বিরোধীদের তরফে দাবি জানানো হয়, ২০২৩ সালে যে মহিলা সংরক্ষণ বিল সর্বসম্মতিতে পাশ হয়েছিল তা অবিলম্বে লাগু করা হোক।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন