ED on Rajeev Kumar

আইপ্যাক মামলায় ‘অসহযোগিতা’, রাজীব কুমারের সাসপেনশন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে নয়া আর্জি ইডির

আজ বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে তল্লাশি নিয়ে ইডির দায়ের করা মামলার শুনানি রয়েছে।

সোমনাথ রায়
সোমনাথ রায়

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১৪:১৮

options
link
আইপ্যাক মামলায় ‘অসহযোগিতা’, রাজীব কুমারের সাসপেনশন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে নয়া আর্জি ইডির

আইপ্যাক-কাণ্ডে (I-PAC Case) রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের সাসপেনশন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED on Rajeev Kumar)। আজ বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে তল্লাশি নিয়ে ইডির দায়ের করা মামলার শুনানি রয়েছে। তার আগেই নতুন আর্জি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। যেখানে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার-সহ যে সমস্ত শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা আইপ্যাক-কাণ্ডে তল্লাশির সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁদের সাসপেনশনের আবেদন জানানো হয়েছে। এমনকী এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকেরও হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে ইডির নয়া আবেদনে।

Advertisement

গত ৮ জানুয়ারি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দপ্তর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু ফাইল নিয়ে আসেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওইসব তাঁর দলের নথিপত্র। তাতে নির্বাচনী রণকৌশলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রয়েছে। সেসব ছিনতাইয়ের ষড়যন্ত্র করেছে ইডি, এই অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দলের স্বার্থে তিনি সেসব ফাইল সঙ্গে নিয়ে গেলেন। যা নিয়ে ইডির সঙ্গে সংঘাতের সূত্রপাত।

Advertisement

যা গড়ায় কলকাতা হাই কোর্ট পর্যন্ত। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে নথি ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের হয় আদালতে। পালটা মামলা করে ইডিও। সেই মামলার শুনানিতে বুধবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট জানায়, লাউডন স্ট্রিটের প্রতীকের জৈনের বাড়ি বা সল্টলেকে আইপ্যাকের দপ্তর থেকে কিছুই বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। হাই কোর্টের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টেও মামলা দায়ের হয়। পুরনো কয়লা পাচার মামলায় ওই তল্লাশি, তা দাবি করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা অভিযোগ তোলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং তদন্তের কাজে বাধা দিয়েছেন। এবং তাঁকে সেই কাজে সহায়তা করেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এর বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা দায়ের হয়। একটি ইডির তরফে, অপর মামলাটি আলাদাভাবে দায়ের করেন ইডির তিন অফিসার।

Advertisement

আজ বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি রয়েছে। ফলে মামলা কোনদিকে মোড় নেয় সেদিকে সবার নজর রয়েছে। এর মধ্যে নয়া আবেদন ইডি। আবেদনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রাজীব কুমার-সহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ। এই অফিসাররাই তথ্য প্রমাণ চুরি করতে মুখ্যমন্ত্রীকে সাহায্য করেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ। শুধু তাই নয়, কলকাতা পুলিশ কমিশনার পদে থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে ধরনাতেও রাজীব কুমারকে দেখা গিয়েছে বলেও উল্লেখ। ফলত কেন্দ্রীয় সরকারের পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং বিভাগ (DoPT) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক যাতে ওই আধিকারিকদের বরখাস্তের নির্দেশ দেয় সেই আর্জিও নয়া আবেদনে জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.