সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নুন আনার প্রশ্নই নেই। ফুরিয়ে যাওয়ার মতো পান্তাও নেই ঘরে। এক মুঠো ভাত জোগাড় করাও দুঃসহ। কোনওমতে তা জোগাড়ের জন্য আট মাসের কন্যা সন্তানকে বিক্রি করে দিলেন বাবা। তাও মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে! জলের দরে! মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ত্রিপুরার তেলিয়ামুড়ার মহারানিপুরে। ত্রিপুরায় সর্বহারাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতাসীন বাম সরকার। সেখানেই বিপিএল কার্ড চেয়েও তা না পাওয়া এক বাবার মেয়ে-বিক্রির ঘটনায় তোলপাড় দেশ। নিন্দার ঝড় উঠেছে মানিক সরকারের প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
[মাঝ-আকাশে বেঘোরে মৃত্যু বৃদ্ধের, জানেন কীভাবে?]
ঘরে এক কণা খাবার না থাকায় একপ্রকার বাধ্য হয়েই সদ্যোজাত কন্যাকে বিক্রি করেন হতদরিদ্র কর্ণা দেববর্মা। অসহায় কর্ণার অভিযোগ, রাজ্য সরকারের কাছে একাধিকবার বিপিএল কার্ডের আবেদন জানানো হয় তাঁদের পরিবারের তরফে। তবে ঘুরেও তাকায়নি প্রশাসন। যদিও এই দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছে ত্রিপুরা সরকার। টাকার জন্য কন্যাসন্তান বিক্রির এই দাবি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না প্রশাসনিক কর্তারা। এই কাদা ছোড়াছুড়ির খেলায় অবশ্য উদাসীন কর্ণা। অসহায় বাবার স্বীকারোক্তি, “পেট চালান্ দিয়া দায়। অভাবের লিইগ্যে মাইয়াডারে বিক্রি কইরতে হইল।” তবে কন্যাশিশু বিক্রি নিয়ে চোখ বাঁকিয়েছেন অনেকেই। সমালোচকদের দাবি, কন্যাশিশু বলেই এমন অকপটে বিক্রি করে দেওয়া যায়। পুত্রসন্তান হলে এমন ব্যাপার হত না। সোনার আংটি বাঁকা হলেও সোনা কি না। এদিকে বামশাসিত ত্রিপুরা সরকারের বিরুদ্ধ স্বরও শোনা গিয়েছে অনেকের মুখে।
[অভিনব উদ্যোগ, এবার বিমানবন্দরে বসছে অন্তর্বাসের ভেন্ডিং মেশিন]
কলকাতার মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন সুনন্দা মুখোপাধ্যায় এক্ষেত্রে প্রশাসন ও রাষ্ট্রকে দোষী করেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার এতদিন পরও কর্ণার মতো প্রান্তিক শ্রেণির পরিবারকে সরকারি প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। বারংবার তাঁদের আবেদন সত্ত্বেও। “ঘটনাটি শুনতে অমানবিক হলেও তাঁদের জীবনের যন্ত্রণা আমরা বুঝি? ওঁরা সব হারিয়েছেন। এটি রাষ্ট্রব্যবস্থার অপরাধমূলক দৃষ্টিভঙ্গি।” কারও প্রশ্ন, ২০০ টাকায় পরিবারটির কতদিন চলবে? ক’দিন পেট ভরে খেতে পারবেন? অর্থের প্রয়োজনে সন্তান বিক্রির মতো চরমতম সিদ্ধান্ত যখন কর্ণা নিলেনই তখন কেন কোনও দম্পতিকে দত্তক দিলেন না? তাহলে তো আরও বেশি টাকা পেতে পারতেন। শিশুর ভবিষ্যৎও নিশ্চিত হতে পারত। তবে এসব প্রশ্নের উত্তর নেই ত্রিপুরার এক অপরিচিত গ্রামের প্রৌঢ় বাবার কাছে। সন্তানকে কোনওভাবে ফিরে পাওয়া সম্ভব কি না সে প্রশ্নও করেননি তিনি প্রশাসন বা সংবাদমাধ্যমের কাছে। উল্লেখ্য, এ বছর ত্রিপুরায় অর্থাভাবে সন্তান বিক্রির এটি তৃতীয় ঘটনা। শুধু দারিদ্র বৃদ্ধি বা হতদরিদ্র পরিবারের অনাহারে কাটানোর সমস্যা নয়, সম্প্রতি সাংবাদিক সুদীপ দত্ত ভৌমিকের খুনের ঘটনাতেও মুখ পুড়েছে ত্রিপুরার বাম সরকারের। বিষয়টি নিয়ে জরুরি রিপোর্ট তলব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।
[আবদুল্লাহকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে লালচকে তেরঙ্গা ওড়াল শিব সেনা]
সর্বশেষ খবর
-
এসআইআরের কাজ শেষ হতে ১২ বছর! সুপ্রিম কোর্টে ট্রাইব্যুনাল সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব কমিশনের
-
বিহারে পুলিশি এনকাউন্টার! কিশোরীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ মূল অভিযুক্ত
-
‘অরুণোদয় বলেছিল ঐশ্বর্য হতে পারবে না তবে…,’ বিতর্ক উসকে ফের মৌমিতার মুখে রাহুলের নাম
-
১৫ লাখ টাকা তোলাবাজি! হাই কোর্টের নির্দেশে সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি কীর্তি
-
‘সংকট মোকাবিলায় বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে’, রাষ্ট্রসংঘে সংস্কারের পক্ষেও সওয়াল জয়শংকরের