করোনা ভাইরাস

করোনা মোকাবিলায় আপস নয়, ২২ দিনের সন্তান কোলে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন আধিকারিক

লড়াইয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন আইনজীবী স্বামী এবং মা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০২০, ১৬:২০

options
link
করোনা মোকাবিলায় আপস নয়, ২২ দিনের সন্তান কোলে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন আধিকারিক

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পেশাগত দায়িত্ব আগে নাকি একেবার সদ্যোজাত সন্তানকে নিজের হাতে বড় করে তোলাই একজন মহিলার প্রধান কর্তব্য? তা নিয়ে অবশ্য মতবিরোধের শেষ নেই। কারণ, কারও মতে একজন মহিলার অধিকার রয়েছে নিজেকে সফল হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য চাকরিক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ উজাড় করে দেওয়ার। আবার কারও মতে, একজন মহিলার ছোট্ট সন্তানের সুবিধা-অসুবিধার কথা ভেবে চাকরি সামলানো প্রয়োজন। তাতে যদি পেশাগত দায়দায়িত্ব জলাঞ্জলি যায় তো যাক! তবে গ্রেটার বিশাখাপত্তনম পুরসভার কমিশনার জি সৃজনা এত দ্বন্দ্বের মধ্যে থাকতে চান না। এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সময় নষ্ট ছাড়া বিশেষ কোনও লাভ নেই, তা জানেন তিনি। তাই করোনা পরিস্থিতিতে নিজের দুধের সন্তানকে বাড়িতে রেখে পেশাগত দায়িত্ব সামলাতে ব্যস্ত ওই আধিকারিক।

Advertisement

করোনা যুদ্ধে একেবার সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করছেন পুরকর্মীরা। সেই সারিতেই রয়েছেন ২০১৩ সালে আইএএস ব্যাচের আধিকারিক জি সৃজনা। নিজের পেশাগত দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রে কোনওদিন আপস করেননি তিনি। গত বছর অন্তঃসত্ত্বা হন। সেই সময় আর পাঁচজন মহিলার মতো তাঁরও নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। তবে তার পরোয়া করেননি। পরিবর্তে প্রায় প্রতিদিনই অফিস করেছেন সৃজনা।

Advertisement

মাত্র ২২ দিন আগেই মা হন তিনি। একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন ওই আধিকারিক। এই সময় তাই মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকার কথা তাঁর। কিন্তু সৃজনা মনে করেন, করোনা পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য তাঁর পেশাগত দায়িত্বকে ভুললে চলবে না। তাই তো ২২ দিনের সন্তানকে কোলে নিয়ে আবারও চাকরিতে যোগ দেন তিনি। এক হাতে তোয়ালে জড়ানো সন্তান আর অন্য হাতে ফোন, সেভাবেই সারাদিন ধরে কাজ সামলে যাচ্ছেন গ্রেটার বিশাখাপত্তনমের কমিশনার।

Advertisement

[আরও পড়ুন: বিপদে ফের ঝাঁপাল এয়ার ইন্ডিয়া, ভারত থেকে সবজি-ফল নিয়ে পাড়ি ইউরোপের দুই দেশে]

সৃজনা জানান, চাকরির পাশাপাশি সন্তান সামলানোর চ্যালেঞ্জে তিনি পাশে পেয়েছেন আইনজীবী স্বামী এবং মাকে। তাঁরা মনোবল জুগিয়েছে তাঁকে। যেদিন সন্তান বাড়িতে রেখে অফিস যান সেদিন খুদের দেখভাল করেন দু’জনে। সেদিন অবশ্য ঘণ্টাচারেক অন্তর অফিস থেকে বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। দুধের সন্তানকে খাবার খাইয়ে সটান অফিস। তবে একরত্তির যাতে কোনও শারীরিক সমস্যা না দেখা দেয় তাই সমস্ত রকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন তিনি এবং তাঁর পরিজনেরা। সৃজনার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় নিমেষেই। কোলে সন্তান নিয়ে দশভূজার মতো দায়িত্ব সামলানো দেখে অবাক প্রায় সকলেই। সৃজনার পেশাগত এবং সাংসারিক দায়িত্ব পালনের ভঙ্গিমা মন কেড়ে নিয়েছে নেটিজেনদের। অনেকেই বলছেন, একজন মা যে চাইলে সমস্ত রকম প্রতিকূল পরিবেশ জয় করতে পারেন তা নাকি সৃজনাকে দেখলেই বোঝা যায়।

[আরও পড়ুন: করোনার উপসর্গ শুনেই অ্যাম্বুল্যান্স দিতে অস্বীকার হাসপাতালের! বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু রেলকর্মীর]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.