Pune Murder Case

জুনের ভ্যাপসা গরমে হুডি! একটা ‘ক্লু’-তেই পুণে হত্যাকাণ্ডের কিনারা পুলিশের

প্রি ওয়েডিং ফটোশুটে গিয়ে হবু স্বামীকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্ত্রী এবং প্রেমিক চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। বিয়ের আগে বাগদত্তা তরুণীর জন্মদিন উদযাপন করতে পুণের লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন কেতন। ৩৫০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, পা ফস্কে পড়ে গিয়ে কেতনের মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement ad
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২৪, ২০২৬, ১৪:৫৮

options
link
জুনের ভ্যাপসা গরমে হুডি! একটা ‘ক্লু’-তেই পুণে হত্যাকাণ্ডের কিনারা পুলিশের zoom
পুণে হত্যাকাণ্ডে তোলপাড় গোটা দেশ।

জুনের ভ্যাপসা গরমে পরনে কেন হুডি? এই একটি প্রশ্নই ভাবিয়ে তুলেছিল তদন্তকারীদের। সেটাই মোড় ঘুরিয়ে দেয় গোটা তদন্তের। এই প্রশ্নের সূত্র ধরেই পুণে হত্যাকাণ্ডের (Pune Murder Case) কিনারা করে পুলিশ। তদন্তকারীদের জালে ধরা পড়েন নিহত কেতন বিশাল আগরওয়ালের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন।

প্রি ওয়েডিং ফটোশুটে গিয়ে হবু স্বামীকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার স্ত্রী এবং প্রেমিক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। বিয়ের আগে বাগদত্তা তরুণীর জন্মদিন উদযাপন করতে পুণের লোহাগড় দুর্গে গিয়েছিলেন কেতন। ৩৫০ ফুট উঁচু থেকে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, পা ফস্কে পড়ে গিয়ে কেতনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তদন্তে অগ্রগতি হলে ধীরে ধীরে সন্দেহের তির গিয়ে পড়ে কেতনের বাগদত্তা সিয়ার উপর। কারণ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তরুণীর বয়ানে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। 

পুলিশ জানিয়েছে, কেতনের খুনকে নিছক দুর্ঘটনা বলে সাজানোর পরিকল্পনা ছিল সিয়া এবং তাঁর প্রেমিকের। তদন্তকারীদের চোখে ধুলো দেওয়ারও চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। একটি হুডিই তাঁদের ধরিয়ে দেয়। কীভাবে এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করল পুলিশ? আসলে তদন্তের সূত্রে লোহাগড়ের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। তখনই তাঁদের মাথা ঘুরে যায়। ফাঁস হয়ে যায় সব ষড়যন্ত্র। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কেতন এবং সিয়ার গাড়ি অনুসরণ করছেন এক যুবক। তাঁর গতিবিধি যথেষ্ট সন্দেহজনক ছিল। চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, জুন মাসের ভ্যাপসা গরম, বাইরে যখন তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তখন ওই যুবকের পরনে ছিল হুডি। এত গরমে কেন তিনি হুডি পরেছিলেন? তা ভাবিয়ে তোলে তদন্তকারীদের। সেখান থেকেই তদন্তের মোড় ঘোরে।

যেখানে কেতনের মৃত্যু হয়েছিল, সেই এলাকার আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজেও ধরা পড়েন ওই যুবক। তখনই পুলিশের সন্দেহ আরও গভীর হয়। সিয়ার সঙ্গে যে ওই যুবকের কোনও যোগ রয়েছে, তা স্পষ্ট হতে শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে সিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রথমে তিনি তদন্তকারীদের দাবি অস্বীকার করেন কিন্তু পরে চাপের মুখে ভেঙে পড়েন তরুণী। স্বীকার করে নেন খুনের কথা। তখনই জানা যায়, ওই যুবক আর কেউ নন চেতন।এরপর সিয়ার মোবাইল ফোনের রেকর্ড, সমাজমাধ্যমের পোস্ট এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখে তাঁর সঙ্গে চেতনের সম্পর্কের কথাও প্রকাশ্যে আসে। উল্লেখ্য, আগামী নভেম্বরে বিয়ের কথা ছিল সিয়া-কেতনের। তার জন্য ১৭ কোটি টাকা দিয়ে প্রাসাদও বুক করা হয়েছিল।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন