Tripura

‘চিনা নই, আমি ভারতীয়’, শেষ এটাই বলেছিলেন দেরাদুনে গণপিটুনিতে মৃত ত্রিপুরার পড়ুয়া

চাকমার মৃত্যুর বিচার চেয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ২৮, ২০২৫, ১৯:৫৭

options
link
‘চিনা নই, আমি ভারতীয়’, শেষ এটাই বলেছিলেন দেরাদুনে গণপিটুনিতে মৃত ত্রিপুরার পড়ুয়া
দুষ্কৃতী হামলায় মৃত এমবিএ পড়ুয়া অ্যাঞ্জেল চাকমা।

প্রণব সরকার, আগরতলা: ‘আমিও ভারতীয়’, হামলাকারীদের উদ্দেশে শেষ এটাই বলেছিলেন বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়ে মৃত ত্রিপুরার পড়ুয়া। চিনা নাগরিক সন্দেহে গত ৯ ডিসেম্বর উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে ২৪ বছরের এমবিএ পড়ুয়া অ্যাঞ্জেল চাকমার উপর হামলা চালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। গণপিটুনির পাশাপাশি ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি হামলা চালানো হয়েছিল তাঁর উপর। ১৪ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর গত শুক্রবার মৃত্যু হয়েছে তাঁর। চাকমার মৃত্যুর বিচার চেয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি।

Advertisement

জানা গিয়েছে, গত ৯ ডিসেম্বর দেরাদুনের সেলাকুই এলাকায় স্থানীয় বাজারে গিয়েছিলেন অ্যাঞ্জেল ও তাঁর ছোট ভাই মাইকেল চাকমা। অভিযোগ, সেখানে জনা ছয়েক যুবক তাঁদের রাস্তা আটকে বর্ণবিদ্বেষী কটুক্তি করে। দুই ভাইকে চাইনিজ বলে কটাক্ষ ও গালিগালাজ করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অ্যাঞ্জেল ওই যুবকদের বলেন, ”আমরা চিনা নই, আমরা ভারতীয়। সেটা প্রমাণ করতে আপনাদের কোন নথি দেখাতে হবে?” এরপরই পরিস্থিতি লাগামছাড়া আকার নেয়। দুই ভাইয়ের উদ্দেশে গালিগালাজ করার পাশাপাশি তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। বেধড়ক মারধর করেই থামেনি হামলাকারীরা। ছুরির কোপ মারা হয় দুজনের উপর।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এই ঘটনায় অ্যাঞ্জেলের ঘাড় ও মেরুদণ্ডে আঘাত লাগে। গুরুতর জখম হন মাইকেল। দেরাদুনের হাসপাতালে দু’সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার মৃত্যু হয়েছে অ্যাঞ্জেলের। আশঙ্কাজনক তাঁর ভাই মাইকেলও। শনিবার অ্যাঞ্জেলের দেহ দেরাদুন থেকে আগরতলা নিয়ে আসার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ত্রিপুরার নাগরিকরা। ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে উত্তর-পূর্বের অন্যান্য রাজ্যগুলিতেও।

Advertisement

এই ঘটনায় মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিপ্রা মথা পার্টির শীর্ষ নেতা প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেববর্মা। তিনি বলেন, “উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের লক্ষ্য করে এই ধরনের বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই হামলা আমাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করছে। আমরা এর বিচার চাই।” অন্যদিকে এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৫ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ২ জন নাবালক। জানা গিয়েছে, হামলায় মূল অভিযুক্ত যজ্ঞ আওয়াস্থি এখনও পলাতক। অভিযুক্তের ২৫ হাজার টাকা মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, এই যুবক নেপাল পালিয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.