ট্রে ভর্তি নানারকম ফড়িংভাজা আর রেশম কীট। আর অক্টোপাস বা স্কুইড রয়েছেই। অর্ডার দিলে সঙ্গে সঙ্গেই গরম গরম চলে আসবে হাতে। সবই খাবার জন্য মশলা মাখিয়ে তৈরি। খাদ্যরসিকরা অর্ডার দিলেই তাঁর সামনে ভেজেভুজে বা সিদ্ধ করে হাজির করা হবে প্লেট।

চিনের ইউনান প্রদেশের বহু বাসিন্দার কাছেই বড্ড প্রিয় এই পদগুলি। তাই কুনমিং হোক বা দালি, ইউনানের এই শহরগুলিতে ঢালাও বিক্রি হয় এই খাবার। কুনমিং শহরের তিয়ান চি লেক থেকে রাস্তাটি সোজা চলে গিয়েছে, সেই তিয়ান চি রোডের কাছেই ফুড কোর্ট। এখানে যেমন রয়েছে সারি দিয়ে ফলের বাজার, তেমনই রয়েছে খাবারের দোকান। রাস্তার ধারে রেস্তরাঁর উলটোদিকে পরপর সার দিয়ে বসানো বড় বড় ছাতা। সন্ধ্যার পর তার তলায় গোল টেবিল ঘিরে বসে যুবক-যুবতী, প্রৌঢ়-প্রৌঢ়া।

সাধারণত চিনের বাসিন্দারা সন্ধ্যার মধ্যেই রাতের খাবার খেয়ে নেওয়া পছন্দ করেন। তবে কখনও রেস্তরাঁয় রাত পর্যন্তও চলে পানাহার। টেবিলের মাঝখানে বসানো হটপট। জমে উঠেছে আড্ডা। রেস্তরাঁয় শিক থেকে ঝুলছে রকমারি মাংসের পদ। রয়েছে চিংড়ি আর বিভিন্ন রকমের মাছও। বাদ পড়েনি শামুক-ঝিনুকও। আর রয়েছে মুরগির পায়ের পাতা, রকমারি সবজি।
আবার যদি কেউ চান, তবে তিনি টেবিল হটপট বা স্টোভে ফুটন্ত কড়াইয়ে নিজেও রান্না করে নিতে পারেন পছন্দমতো পদ। কোনও রেস্তরাঁর সামনে রয়েছে প্রমাণ মাপের অ্যাকোয়ারিয়াম। সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে মাছ। অর্ডার দিলেই সেই জীবন্ত মাছ ধরে কেটেকুটে রান্না করে দেওয়া হবে পাতে! এছাড়া রয়েছেই বিভিন্ন রকমের ‘মিয়েন তিয়াও’, যা আসলে স্যুপে ডোবানো চাউমিন। ওই ফুডকোর্ট থেকে কিলোমিটার চারেক দূরে তাংজিশিয়াং মেট্রো স্টেশনের কাছেই নানছিয়াং পেডেস্ট্রিয়ান স্ট্রিট। সেখানে চলে শুধু মানুষ। সন্ধ্যার পর সেই রাস্তা সেজে ওঠে আলোয়। অনেকটা যেন পুজো বা বড়দিন-নববর্ষের পার্ক স্ট্রিটের কথা মনে করিয়ে দেয়।

সেই রাস্তার দু’পাশে সার দিয়ে খাবারের দোকান। কোনও দোকানদার পথচারী খাদ্যরসিকদের সাধছেন, তাঁর দোকানের সিদ্ধ বা ভাজা চিংড়ির স্বাদ নিতে। আবার কেউ বা বলছেন তাঁর দোকানের ফড়িংভাজা খুবই সুস্বাদু। আবার কেউ বা বলছেন, তাঁর দোকানের রকমারি রেশম কীট শুধু মুচমুচেই নয়, যথেষ্ট রসালোও। আবার অনেক জায়গায় শুধু ফল কেটে মশলা মাখিয়েও বিক্রি হয়। আট বা দশটি ফড়িংভাজা কাঠিতে গেঁথে তুলে দেওয়া হয় খাদ্যরসিকের হাতে। এই রাস্তার উপরই রয়েছে ১৯০৯ সালে তৈরি একটি শূকরের মাংসের দোকান, যেখানে বিক্রি হচ্ছে প্রাণীটির আস্ত পা! মাপ বুঝে তার দাম ১১৯ ইউয়ান থেকে শুরু করে ৫৩৮ ইউয়ান পর্যন্ত।

কুনমিংয়ের মতো দালিতেও রয়েছে হাঁটাচলার রাস্তা। দালির রিনমেন রোড লাগোয়া সেই রাস্তায় শুধুমাত্র চলতে পারে সাইকেল, স্কুটি আর ই-রিকশা। সেখানেও রাস্তার পাশে কোথাও বিক্রি হচ্ছে রকমারি ফল, কোথাও বা মাছ, মাংস, অক্টোপাস, ঝিনুকের পদ। কোনও দোকানে রয়েছে প্রমাণ মাপের অল্প মিষ্টি গোল রুটি, যা একসঙ্গে বসে খেতে পারে সারা পরিবার। রাত পর্যন্ত সেখানে গানের সুর ওঠে পানশালা বা বিয়ার পাবে।

এছাড়াও কিছু রেস্তরায় পাওয়া যায় ক্রস-ব্রিজ রাইস নুডলস, যা আসলে চিনে ‘ডেলিকেসি’ বলেই ধরা হয়। এই পদটির পিছনে রয়েছে স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার গল্প। বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধ মাছ, মাংস, চিংড়ি, সবজির পদ, কাঁচা ডিম ও রাইস নুডলস একসঙ্গে ঢেলে দেওয়া হয় স্যুপভর্তি প্রচণ্ড গরম একটি বাটিতে। গরম স্যুপের মধ্যে থাকতে থাকতে আরও রান্না হতে থাকে সেই সিদ্ধ খাবার, রাইস নুডলস ও ডিম। সরাসরি সেই বাটি থেকে দু’টি কাঠিতে নুডলস ও একটি বড় চামচে স্যুপ খাওয়াই রেওয়াজ।
সর্বশেষ খবর
-
এবছরই দেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার, কী বলল ঢাকা?
-
‘বিয়ে করতে জেলে যাচ্ছি’, টোপর পরিয়ে ‘জামাই আদর’, তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে জনরোষ!
-
বাড়বে স্ক্রিনের সংখ্যা! ভারতীয় সিনে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতিতে একগুচ্ছ ঘোষণা কেন্দ্রের
-
বাংলার ভাষাবিদের ইতালি জয়, সাঁওতালি ভাষা ও সাহিত্যে প্রথম ভারতীয় হিসাবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার!
-
২ তৃণমূল কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হতেই পদত্যাগের ঢল! ডামাডোম পানিহাটি পুরসভায়