Karnataka

মাঝপথে খারাপ সরকারি বাসের হেডলাইট, মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়েই ৮৪ কিমি পাড়ি! তুঙ্গে বিতর্ক

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এমন ঘটনা যে রাস্তায় চলতি অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, তা বলা বাহুল্য।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৯, ২০২৬, ১৫:৪৬

options
link
মাঝপথে খারাপ সরকারি বাসের হেডলাইট, মোবাইলের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়েই ৮৪ কিমি পাড়ি! তুঙ্গে বিতর্ক
এআই দ্বারা নির্মিত ছবি।

অন্ধকার রাতে চওড়া হাইওয়ে ধরে ছুটে চলেছে এমন এক বাস, যার একটিও হেডলাইট জ্বলছে না! যে কোনও পথচারীর কাছে এ যেন দুঃস্বপ্ন! নিঃসন্দেহে বাসের মতো অতিকায় যান দেখতে পাওয়া যাবে দূর থেকেই। তবু এত বড় এক গাড়ি অন্ধের মতো ছুটে এলে, প্রাণ ভয়ে গুটিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

Advertisement

সিনেমার দৃশ্য নয়, এ ঘটনা কর্নাটকের। কর্নাটকের সরকারি পরিবহণ সংস্থা কল্যাণ কর্নাটক রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (KKRTC)-এর একটি বাসকে ঘিরে সম্প্রতি ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত কর্নাটকের কালাবুরাগি থেকে চিঞ্চোলি রুটে চলাচল করে এই বাসটি। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পথের মাঝেই খারাপ হয়ে যায় বাসটির দু’টি হেডলাইট। এমন অবস্থায় অবশ্যই যাত্রা থামানোর প্রয়োজন ছিল। যাত্রীদের সতর্ক করার প্রয়োজন ছিল, বা কাছাকাছি থাকা অন্য কোনও বাসে তাদের তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করার দরকার ছিল।

Advertisement
Karnataka government bus runs 84 km without headlights using mobile torch
সূত্র: সোশাল মিডিয়া

কিন্তু এসবের কিছুই হয়নি। নষ্ট হয়ে যাওয়া হেডলাইট নিয়েও যাত্রা স্থগিত করেনি বাসের চালক। কিন্তু রাতের অন্ধকারে পথ দেখা সম্ভব কীভাবে হয়? এ কাজে কন্ডাক্টরের সাহায্য নিয়েছে চালক। বাসের কন্ডাক্টর সামনে এগিয়ে বসে, অন করেছে তার মোবাইলের টর্চ! আর এই সামান্য আলোয় ভরসা করেই বাস পাড়ি দিয়েছে ৮৪ কিলোমিটার পথ! এ সমস্ত ঘটনাটিই ধরা পড়েছে কোনও এক যাত্রীর মোবাইল ক্যামেরায়, যা পরে সোশাল মিডিয়ায় আপলোড হলে, ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগে না।

Advertisement

স্বাভাবিকভাবেই, কেবল ওই একজন যাত্রী নয়, এমন কঠিন পরিস্থিতিতে উপস্থিত সকল যাত্রীর মনেই নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলি থেকে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট বাসটিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল এবং যাত্রীরা তা নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। অনুমান করা যায়, পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং পুরোনো বাস চলাচল অব্যাহত রাখার ফলেই এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এমন ঘটনা যে রাস্তায় চলতি অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, তা বলা বাহুল্য। ঘটনার পর কল্যাণ কর্নাটক রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমের কাছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.