Sikkim Landslide

ভূমিধসে বিধ্বস্ত সিকিম, পাহাড় থেকে নামছে কাদার স্রোত! বন্ধ রিম্বি-ইয়াকসুম প্রধান সড়ক

রিম্বি-ইউকসম সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক, উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ। তাই এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ১৩:০৫

options
link
ভূমিধসে বিধ্বস্ত সিকিম, পাহাড় থেকে নামছে কাদার স্রোত! বন্ধ রিম্বি-ইয়াকসুম প্রধান সড়ক
ভুমিধসে বিধ্বস্ত সিকিম। বন্ধ সড়ক।

পাহাড় থেকে কিছুতেই বিপদের মেঘ কাটছে না। রবিবার সকালে উত্তর সিকিমে ভূমিধসে (Sikkim Landslide) চ্যাকুং ও তিস্তা নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে হড়পা বানের আশঙ্কা তৈরি হয়। এরপর মিরিক পাহাড়ের রংভাং নদীতে তৈরি গভীর হ্রদ ঘিরে উদ্বেগের রেশ না-কাটতে ফের ভূমিধসের বিপর্যয় সিকিমে। পশ্চিম সিকিমের রিম্বি-ইউকসম প্রধান সড়কে হুড়মুড়িয়ে নামলো পাহাড়। যার জেরে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় ওই রুটের যান চলাচল। এরমধ্যেই শুরু হয় ভারী বর্ষণ। যার ফলে নতুন করে আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিপদের শঙ্কায় স্থানীয়রা।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষায় এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাই শুধু ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে সড়ক চালু করলেই স্থায়ী সমাধান মিলবে না। এই এলাকায় বারবার ভূমিধস রোধ করতে ঢাল সুরক্ষা, পাহাড় সংরক্ষণ এবং স্থায়ী নিরাপত্তা পরিকাঠামো নির্মাণের মতো দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউকসম-তাশিডিং নির্বাচনী এলাকার রিম্বি গ্রামে বিশাল ভূমিধস নেমে। পাহাড় থেকে নেমে আসা পাথর-মাটিতে তলিয়ে রিম্বির সঙ্গে ইউকসম ও খেচুপরি সংযোগকারী প্রধান রাস্তা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সড়কের উপর দিয়ে রীতিমতো কাদার স্রোত বয়ে গিয়েছে। এর ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে। পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে রাস্তার ওপর এসে পড়ায় পুরো এলাকা মাটি, পাথর ও ভারী ধ্বংসস্তূপে ঢেকেছে। ব্যাপক ভূমিধসে রাস্তার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ পথটি দিয়ে হেঁটে যাতায়াত করাও রীতিমতো বিপজ্জনক হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের পাদদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও ভূমিধসের ঘটনা ঘটতে পারে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

প্রসঙ্গত, রিম্বি-ইউকসম সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক, উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ। তাই এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়েছে, ভূমিধসের পরও ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ের ঢাল পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। স্বভাবতই সড়কের কাছাকাছি বসবাসকারী বাসিন্দারা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তাঁরা কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঢালটি দ্রুত পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষায় এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাই শুধু ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে সড়ক চালু করলেই স্থায়ী সমাধান মিলবে না। এই এলাকায় বারবার ভূমিধস রোধ করতে ঢাল সুরক্ষা, পাহাড় সংরক্ষণ এবং স্থায়ী নিরাপত্তা পরিকাঠামো নির্মাণের মতো দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষ বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া এবং ভূমিধস-প্রবণ অংশটিকে নিরাপদ ঘোষণা না করা পর্যন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত এই অংশে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Advertisement

এদিকে রবিবার সকালে চ্যাকুং চু-তে ভূমিধসের জেরে অবরুদ্ধ তিস্তা নদীর গতিপথ খুলেছে। তবে উদ্বেগ কাটেনি। চুংথাং-এর মহকুমা শাসক অরুণ ছেত্রীর নেতৃত্বে একটি দল মঙ্গলবার ওই এলাকা পরিদর্শন করে। আরও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে কিনা, ‘টুং-পারটেম’ সড়ক নির্মাণ কাজে কতটা সমস্যা হতে পারে সেটা ওই দল খতিয়ে দেখে। চুংথাং মহকুমা শাসকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরিদর্শনের সময় অরুণ ছেত্রীর সঙ্গে ছিলেন জিআরইএফ-এর অফিসার কমান্ডিং লেফটেন্যান্ট কর্নেল রবিশ অত্রি, ক্যাপ্টেন সুরজ এবং রাজস্ব বিভাগের কর্মীরা। দলটি ভূমিধস শুরুর স্থানটি পরিদর্শন করে। ক্ষতিগ্রস্ত ঢালু অংশের স্থিতিশীলতা খতিয়ে দেখে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.