concensual relation

‘বহুদিন সম্পর্ক থাকলে ধর্ষণ নয়’, বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস মামলায় রায় এলাহাবাদ হাই কোর্টের

দীর্ঘদিন ধরে দুই ব্যক্তি শারীরিক সম্পর্কে থাকার পর যদি বিয়ে না হয় তাহলে সেই সহবাসকে ধর্ষণ বলে ধরে নেওয়া যায় না। কারণ ওই শারীরিক সম্পর্কে দুপক্ষেরই সম্মতি থাকে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২০, ২০২৬, ১৩:০৬

options
link
‘বহুদিন সম্পর্ক থাকলে ধর্ষণ নয়’, বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস মামলায় রায় এলাহাবাদ হাই কোর্টের
সঞ্জয় কুমার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে উঠেছিল ধর্ষণের অভিযোগ।

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস, তারপর বিয়ে না হওয়ায় ধর্ষণের মামলা দায়ের-এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে দেশের নানা প্রান্তে। এমনই এক অভিযোগে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। উচ্চ আদালতের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দুই ব্যক্তি শারীরিক সম্পর্কে থাকার পর যদি বিয়ে না হয় তাহলে সেই সহবাসকে ধর্ষণ বলে ধরে নেওয়া যায় না। কারণ ওই শারীরিক সম্পর্কে দুপক্ষেরই সম্মতি থাকে।

Advertisement

সঞ্জয় কুমার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে উঠেছিল ধর্ষণের অভিযোগ। ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত পাঁচ বছর ধরে তিনি একটি সম্পর্কে ছিলেন। বিয়ের পরিকল্পনাও ছিল তাঁদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেঁকে বসেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে প্রেমিকা বলেন, বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। তাঁর কিছু অশ্লীল ভিডিও তুলেছেন। তারপর বিয়ের প্রসঙ্গ তুললে সঞ্জয় তাঁকে হুমকি দিয়েছেন, মারধর করেছেন বলে অভিযোগ আনেন ওই তরুণী। ২০২০ সালে পুলিশ এই এফআইআরে চার্জশিট দেয়। ২০২১ থেকে শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া।

Advertisement

যাবতীয় প্রক্রিয়া খারিজ করার আবেদন জানিয়ে এলাহাবাদ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন সঞ্জয়। তাঁর আবেদন মঞ্জুর করে উচ্চ আদালত জানিয়েছে, দুপক্ষের সম্মতিতে অন্তত পাঁচ বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। সঞ্জয় যে বিয়ে করবেন না, প্রথম থেকে এমন উদ্দেশ্য ছিল না। পাঁচ বছরের সম্পর্কে প্রত্যেকবার বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েই শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে এটা ধরে নেওয়া খুবই কঠিন। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে অভিযোগকারিনী ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ তোলেননি। বিয়ে না হওয়ার পরেই তিনি মুখ খুলেছেন।

Advertisement

এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায়, সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া একেবারে বন্ধ করতে হবে। কারণ দীর্ঘ মেয়াদি সম্পর্ক পূর্ণতা না পেলেই সেটা নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করে ফেলাটা আইনের অপব্যবহার। এই ক্ষেত্রে দু’জনের সম্মতিতে সম্পর্ক শুরু হয়েছিল, তারপর সম্পর্কে অবনতি হয়। কোনও মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই সম্পর্ক তৈরি হয়নি। বরং সঞ্জয়কে বিয়ে করতে বাধ্য করার জন্য ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। রাগের বশে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, যেখানে আদতে ধর্ষণের ঘটনাই ঘটেনি। এই অভিযোগে তদন্ত চালিয়ে যাওয়াটা বিচারপ্রক্রিয়ারই অপব্যবহার।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.