সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সর্দার সরোবর বাঁধ প্রকল্পকে সামনে রেখে ফের আন্দোলন মঞ্চের সর্বাগ্রে এলেন সমাজকর্মী মেধা পাটেকর। নতুন করে উজ্জীবিত বহু আলোচিত নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন। বাঁধ তৈরির পর বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে প্রচুর অর্থ ওড়ানো হয়েছে, এই অভিযোগ সামনে এনে ফের নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করলেন বর্ষীয়ান সমাজকর্মী।
[আরও পড়ুন: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার ছক কষেছিলেন মনমোহনও! প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য]
নর্মদার সর্দার সরোবর বাঁধ প্রকল্প দীর্ঘদিনের। সেই ইতিহাসে বিস্তারিত না গিয়ে সমস্যাটা বরং আরেকবার দেখে নেওয়া যাক। বিশ্বব্যাংকের সাহায্যে নর্মদার ধারে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে নির্মিত সর্দার সরোবর বাঁধ গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ-সহ পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যের সেচ ও অন্যান্য কাজ হয়। বিভিন্ন সময়ে এর ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে সুবিধা হয়েছে বলে দাবি নির্মাতাদের। আর এখানেই সমাজকর্মীদের আপত্তি। নর্মদার নিজস্ব ধারা ব্যাহত হবে, এই আশঙ্কায় তাঁরা নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনে নামেন। দীর্ঘদিনের এই আন্দোলনের প্রভাব পড়েছিল বহু স্তরে। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মেধা পাটেকর। নদী বাঁচাতে তাঁর টানা অবস্থান বিক্ষোভ সর্বজনবিদিত।
সদ্যই মহাসমারোহে নিজের ৬৯ বছর জন্মদিন পালন করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই আবহে ফের উসকে উঠেছে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন। তাঁর অভিযোগ, আজও বাঁধ তৈরির জন্য উচ্ছেদকারীদের যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করেই চলছে এই বঞ্চনা। মেধার কথায়, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন একটা উৎসবের মতো করে উদযাপন করা হয়েছে।অথচ বাঁধ নির্মাণের জন্য জমিজায়গা ছেড়ে দেওয়া মানুষগুলোর এখনও ঠিকঠাক পুনর্বাসন হয়নি। আরও উল্লেখযোগ্য, মোদির জন্মদিনে বাঁধের জল সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে।’ চলতি মাসের ১৭ তারিখ সর্দার সরোবর বাঁধের জলস্তর ছুঁয়েছে ১৩৮.৬৮ মিটারে।
এদের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা কে করবে, এনিয়ে গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশ সরকারের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এবার আন্দোলনে নেমে মেধা পাটেকর সেই দ্বন্দ্বকেই হাতিয়ার করছেন। পুনর্বাসনের জন্য গুজরাটের থেকে ১৮৫৭ কোটি টাকা চেয়েছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। কিন্তু এখনও তা মেলেনি বলে খবর। এর জন্য মধ্যপ্রদেশের পূর্বতন শিবরাজ সিং চৌহানের সরকারকেই দায়ী করেছেন মেধা পাটেকর। তিনি বলছেন, ‘শিবরাজ সিং চৌহানের সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে সকলের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেবে। একজনও এর বাইরে থাকবেন না। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি একেবারে ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়েছে। মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’
[আরও পড়ুন: তবরেজ হত্যা কাণ্ডে নয়া মোড়, ১২ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফের রুজু খুনের মামলা]
গুজরাটের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পুনর্বাসন নিয়ে সমস্ত ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু এখনও যে পরিস্থিতিতে আছে, তাতে টার্গেট পূরণ করা মুশকিল বলে মনে করছেন মেধা পাটেকর। তাঁর কথায়, হাজারটা লোক ভেসে যাচ্ছে একজনের জন্মদিন পালন করতে। এত আন্দোলনের পরও এই সমস্যার সমাধানের জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, কে জানে!
সর্বশেষ খবর
-
ঘুমে ব্যাঘাত ঘটানোই কাল! কাকার হাঁসুয়ার কোপে মৃত্যু আরও ৩ শিশুর
-
৫-৬টি ধাপের স্কিনকেয়ার রুটিন, তবু ত্বক ভরছে দাগ-ব্রণতে, রূপচর্চায় এই ভুলগুলি করছেন না তো?
-
বাবার মৃত্যুতে শোক নয়, সম্পত্তি হাতানোই মোক্ষ! মৃতদেহ থেকেই আঙুলের ছাপ নিল ত্যাজ্য ছেলে
-
‘ব্রাজিলকে বাদ দিয়ে এএফসির জন্য ইস্টবেঙ্গলকে টাকা দিক ফেডারেশন’, বিস্ফোরক বাইচুং
-
বোমা মেরে ওড়ানো হবে দিল্লি হাই কোর্ট! স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে হুমকি ই-মেলে চাঞ্চল্য