Uttarakhand

নেপালের পর উত্তরাখণ্ডে হড়পা বানে মৃত ৭, অসমে ধসে মৃত্যু ৪ জনের, বন্যার শঙ্কা উত্তরপ্রদেশ-ঝাড়খণ্ডেও

বিহার ও উত্তরপ্রদেশে দুর্যোগের পিছনে নেপালের প্লাবনকে দায়ী করা হচ্ছে। 

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১৪:৪৫

options
link
নেপালের পর উত্তরাখণ্ডে হড়পা বানে মৃত ৭, অসমে ধসে মৃত্যু ৪ জনের, বন্যার শঙ্কা উত্তরপ্রদেশ-ঝাড়খণ্ডেও
ছবি: সংগৃহীত।

ফের বর্ষাকালীন বিপর্যয় উত্তরাখণ্ডে। টানা বৃষ্টির জেরে হড়পা বান এবং ধসে নতুন করে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে দেবভূমে। বন্ধ ১৭২টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জনজীবন। অন্যদিকে নতুন করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে অসমে। গুয়াহাটিতে দু’টি জায়গায় ধস নেমে মত্যু হয়েছে ৪ জনের। এছাড়াও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ঝাড়খণ্ড, বিহার ও উত্তরপ্রদেশেও। এর মধ্যে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে দুর্যোগের পিছনে নেপালের প্লাবনকেই দায়ী করা হচ্ছে।

Advertisement

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে শঙ্কিত উত্তরাখণ্ড প্রশাসন। কারণ নতুন করে অলমোড়া, বাগেশ্বর, টিহরী, নৈনীতাল, উধম সিং নগর এবং পৌড়ীতে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। দুর্যোগে রাজ্যের যে ১৭২ রাস্তা আপাতত অবরুদ্ধ তার মধ্যে রয়েছে পিথোরাগড়, নৈনীতাল এবং বাগেশ্বরে দু’টি হাইওয়েও। লাগাতার বৃষ্টির কারণে ২৭ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে গোলা নদীতে। এই মুহূর্তে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে জল। এর ফলে পার্শ্ববর্তী এলাকা হলদোয়ানী, উধম সিং নগর, পুলভট্টা, শান্তিপুরী এবং সূর্যনগর ভাসবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আলমোড়ায় দু’টি বাড়ির দেয়াল ধসে পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে বন্যার জলের তোড়ে একটি গাড়ি ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে দুজনের।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

অসমে ভয়ংকর বন্যার করালগ্রাস কাটতে না কাটতেই নতুন করে বিপর্যয়। গুয়াহাটিতে দু’টি পৃথক ভূমিধসের ঘটনায় চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। মাথঘারিয়াতে ভূমিধসে চাপা পড়ে একটি বাড়ি। এই ঘটনায় এক দম্পতি এবং তাঁদের ১১ বছর বয়সি মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের একমাত্র সদস্য ১৯ বছরের যুবককে মাটি সরিয়ে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে আরও একটি ধস নামার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের। অসমের রাজধানী শহরের বহু রাস্তা জলের তলায়।

Advertisement

এদিকে উত্তরপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ডেও দুর্যোগের দাপট চলছে। উত্তরপ্রদেশে গঙ্গার জলস্তর বাড়তে থাকায় নদী সংলগ্ন বহু এলাকা প্লাবিত। বারাণসীর ৮৪টি ঘাট জলের তলায়। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে গঙ্গার জল। চিত্রকূট এবং মন্দাকিনী নদীর জল বিপদসীমার চার ফুট উপর দিয়ে বইছে। প্লাবিত রামঘাট, নির্মোহী আখড়া-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। শক্তি বাড়ানো জলস্রোতে ক্ষতি হয়েছে রামঘাট এবং নয়াগাঁওয়ের সংযোগকারী সেতুর। নদী সংলগ্ন বহু এলাকা থেকে স্থানীয়দের সরানো হয়েছে। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলিতে ঠাঁই হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের।

মৌসম ভবন জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের গরওয়া, পলামু, লাতেহার, লোহারডাগা, গুমলা, সরাইকেলা-খারসওয়ান, পূর্ব সিংভূম, সিমডেগা, খুঁটি, পশ্চিম সিংভূমে হড়পা বান আসতে পারে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গরওয়া, পলামু, সিমডেগা এবং পশ্চিম সিংভূমে জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। গোটা রাজ্যজুড়েই টানা বৃষ্টি চলছে। দুর্যোগ বিপর্যস্ত সাধারণ জনজীবন।

বিহারে গণ্ডক নদীর জল বিপদসীমা ছাপিয়ে গিয়েছে। জলমগ্ন বহু এলাকা। ২১ আগস্টের হড়পা বানে নেপালের ত্রিশূলী নদীর জল বহু গুণ বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই বিহারের উত্তরাঞ্চলের গণ্ডক এবং কোসি নদী ফুঁসছে। পার্শ্ববর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে অপরিচিত প্রজাতির মাছ দেখা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, সেই মাছ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন গ্রামবাসীরা। বিহারের প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য সম্পদ বিভাগ বন্যাকবলিত এলাকার জল থেকে মাছ ধরা, কেনা, বিক্রি বা খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে সাধারণ মানুষকে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.