স্থানীয় জেহাদিদের বাড়বাড়ন্তেই রক্তাক্ত উপত্যকা, বলছে পুলিশের পরিসংখ্যান

বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর কাশ্মীরে স্থানীয় জেহাদির সংখ্যা বৃদ্ধি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯, ১৭:১৪

options
link
স্থানীয় জেহাদিদের বাড়বাড়ন্তেই রক্তাক্ত উপত্যকা, বলছে পুলিশের পরিসংখ্যান

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পাক জঙ্গি নয়, সন্ত্রাসদমন অপারেশনে নিকেশ হয়েছে অধিকাংশ স্থানীয় যুবক। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে খবর এমনই। পুলওয়ামা হামলার পর জঙ্গি বিরোধী অভিযান নিয়ে রীতিমতো তথ্য, পরিসংখ্যান ঘাঁটতে বসেছে পুলিশ। তাতেই দেখা গিয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সেনা-পুলিশ যৌথ অভিযানে জঙ্গি নিকেশের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। তার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে পাক জঙ্গিদের চেয়ে অভিযানে বেশি মৃত্যু হয়েছে স্থানীয় যুবকদের, যাদের মগজধোলাই করে জেহাদি বানিয়ে দেশের মাটি রক্তাক্ত করার পাঠ দেওয়া হচ্ছিল।

Advertisement

সন্ত্রাস রুখতে একসুরে কথা বলবে দেশ, সিদ্ধান্ত সর্বদলীয় বৈঠকে

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালে কাশ্মীর উপত্যকায় নিহত জঙ্গির সংখ্যা ছিল ১৩০। ২০১৭এ তা বেড়ে হয় ২০০, ২০১৮এ এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪০এ। আরও বিশদে খতিয়ে দেখলে যে হিসেব পাওয়া যাচ্ছে, মাত্র ৯০ জন বিদেশি অর্থাৎ পাক জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে। আর নিহত দেশি যুবকের সংখ্যা ১৩০। সূত্রের খবর, জেহাদি তৈরির লক্ষ্যে জইশ-ই-মহম্মদ যেসব কাশ্মীরি যুবককে নিয়োগ করেছে, তারাই সেনা-পুলিশের যৌথ অভিযানে বেশি সংখ্যায় নিহত হয়েছে। আত্মঘাতী হিসেবে প্রশিক্ষণ দিতে জইশ বেছে নিচ্ছে স্থানীয় যুবকদের। যেমন, পুলওয়ামার মূল হামলাকারী আদিল আহমেদ দার। সে জম্মুরই বাসিন্দা। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশেকর এক উচ্চপদস্থ কর্তার কথায়, ‘২০১৩ সালে কাশ্মীর উপত্যকায় সবচেয় কম ছিল স্থানীয় জেহাদির সংখ্যা, মাত্র ৭৮। আর এখন সেই সংখ্যা অনেকটা বেড়ে গেছে। প্রায় ২৫০।’ ২০১৬এর মাঝামাঝিতে কাশ্মীরি তরুণ বুরহান ওয়ানির কথা নিশ্চই এখনও মনে আছে?  দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রে এত প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় স্তরে এই তরুণ কেমন জনপ্রিয় ছিল? এই বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর থেকে উপত্যকায় আরও বেশি করে তরুণ, যুবক জেহাদি মন্ত্রে নিজেদের উজ্জীবিত করে তুলছে। স্থানীয় যুবকদের সন্ত্রাস বিরোধী কাজে নিয়োগ করার রাস্তা আরও প্রশস্ত হয়েছে জইশের কাছেও। আর স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর মূল টার্গেট ওই স্থানীয় যুবকরাই, যারা স্বভূমিতে দাঁড়িয়ে দেশবিরোধী কাজে শামিল। তাদেরই যথাযথ শাস্তি দিয়ে আসলে পাক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে যৌথবাহিনী।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

অ্যাকশনে ‘লো প্রোফাইল’ জঙ্গিরা, জইশের নয়া কৌশলে উদ্বিগ্ন গোয়েন্দারা

Advertisement

পুলওয়ামা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এইসব তথ্য সামনে আসছে। আর তাতেই হাজারও প্রশ্ন উঠছে। পাক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির প্রভাব কি বাড়ছে কাশ্মীরের সাধারণ যুব সম্প্রদায়ের উপর? তাহলে কি  ওপার থেকে উসকানিমূলক কোনও কাজের ইঙ্গিত পেলে, সে সম্পর্কে দেশবাসী এবং সুরক্ষা বাহিনীকে সতর্ক করার বদলে বিদেশি জঙ্গিদের সঙ্গেই হাত মেলানোর প্রবণতা বাড়ছে? প্রশ্ন উঠছে আরও। রাষ্ট্রপতি শাসন জারির আগে জম্মু-কাশ্মীর সরকারের অন্যতম প্রধান শরিক ছিল কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপি। অশান্ত উপত্যকায় জনসংযোগ বাড়াতে বিজেপি-র তৎপরতা বেড়েছিল সাময়িকভাবে। লক্ষ্য ছিল, স্থানীয় স্তরে দেশবিরোধী ক্ষোভ প্রশমিত করা এবং জেহাদি মনোভাব থেকে দূরে টেনে আনা। কিন্তু প্রশাসনের সেই কৌশল যে একেবারেই লাভজনক হয়নি, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ পুলওয়ামার নৃশংস জঙ্গি হামলা।  

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন