প্রায় ১৫ হাজার বিষ ক্যাপসুল বানিয়ে মহরমের শোভাযাত্রায় গণহত্যার ছক। শুধু তাই নয়, সেই ক্যাপসুল খেয়ে অন্তত ১১ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে সূত্রের খবর। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বইয়ে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম ফায়াজ প্রেমজি।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার মহরম উপলক্ষে মুম্বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় শোভাযাত্রা বেরিয়েছিল। তার মধ্যে বাইকুল্লা এলাকায় একটি বড় শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন ফায়াজ। অভিযোগ, সেখানেই তিনি বিষাক্ত ওই ক্যাপসুল খাবার মধ্যে লুকিয়ে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিলোচ্ছিলেন। সেই ক্যাপসুল খেয়ে অন্তত ১১ জন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অধিকাংশই বমি করতে শুরু করেন এবং পেটে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন। এরপরই বাকিদের সন্দেহ হয়। তড়িঘড়ি তাঁরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। অসুস্থরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জানা গিয়েছে, ক্যাপসুলগুলিতে জিঙ্ক ফসফাইড ছিল, যা একটি বিষাক্ত রাসায়নিক। মূলত ইঁদুর মারার বিষ তৈরি করতে এটি ব্যবহিৃত হয়। পুলিশের দাবি, জেরায় ফায়াজ জানিয়েছেন, মহরমের দিন প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে বিষ খাইয়ে খুন করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন তিনি। গণহত্যার জন্য তিনি প্রায় ৩০ হাজার বিষ ক্যাপসুল বানিয়েছিলেন। তবে ধৃতের কাছ থেকে ১৪ হাজার ৯০০টি ক্যাপসুল উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু কী কারণে তিনি এই ষড়যন্ত্র করেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর সঙ্গে কোনও জঙ্গি সংগঠনের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তদন্ত উঠে এসেছে, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ফায়াজ একাধিকবার ইরান ও ইরাক যাত্রা করেছেন। শুধুমাত্র গত এক বছরেই তিনি ১৯ বার ইরান ও ইরাকে গিয়েছেন। এখান থেকেই তদন্তকারীদের আশঙ্কা তিনি কোনও সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তাদের নির্দেশেই ভারতে এই গণহত্যার ছক করেছিলেন। তবে জানা গিয়েছে, ফায়াজের বোন ইরানে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসাবে কর্মরত। তাঁর মা-ও বর্তমানে ইরানে রয়েছেন। বর্তমানে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, তাঁর মোবাইল ফোন, ডিজিটাল নথিপত্র, আর্থিক লেনদেন সমস্ত কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সর্বশেষ খবর
-
ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত বিক্রি! এক সপ্তাহে তদন্ত শেষের নির্দেশ হাই কোর্টের
-
শোভনের হাতে পায়েস মুখ, সোহিনীর সাধভক্ষণে কী ছিল মেনুতে?
-
অন্নপূর্ণার আবেদন ‘আন্ডার প্রসেস’, বাতিল হবে না তো? জেনে নিন এই সময়ে কী করণীয়
-
যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যই মূল, ঢেলে সাজানো হচ্ছে শিয়ালদহ-বহরমপুর ডিভিশন
-
সোশাল মিডিয়ার ‘পরীক্ষা’য় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের রিপোর্ট কার্ড, ‘ফ্রেন্ডস’ ভিডিও ডিলিটেও ফার্স্ট বয় মোদি!