কুকুর

পথের সারমেয়কে খাওয়ানোর অপরাধে তিন লক্ষ ৬০ হাজার জরিমানা মহিলার!

স্থানীয়দের রোষের মুখে পড়তে হল এক মহিলাকে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১৫, ২০১৯, ১১:৩৯

options
link
পথের সারমেয়কে খাওয়ানোর অপরাধে তিন লক্ষ ৬০ হাজার জরিমানা মহিলার!
ছবি: প্রতীকী

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পথের সারমেয়কে পিটিয়ে মারার ঘটনায় সম্প্রতি উত্তাল হয়েছিল শহর কলকাতা। নিন্দার ঝড় উঠেছিল দেশজুড়ে। অবলা প্রাণীকে ভালবাসার বার্তাই ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন পশুপ্রেমীরা। এমন সমাজে ধরে নেওয়াই যায় সারমেয়র প্রতি ভালবাসা দেখালেই প্রশংসা পাওয়া যাবে। কিন্তু এদেশের অন্য এক মহানগরীতেই ঘটল একেবারে উলটো ঘটনা। মারধর করে নয়, সারমেয়কে ভালবেসেই স্থানীয়দের রোষের মুখে পড়তে হল এক মহিলাকে।

Advertisement

ঘটনা মুম্বইয়ের কান্দিভালির। নিস্বর্গ হেভেন সোসাইটি চত্বরে এক মহিলা ভালবেসে একটি পথের কুকুরকে খাবার খাওয়াচ্ছিলেন। এতে যে বড়সড় অপরাধ করে ফেলেছেন, তা তিনি বুঝতেই পারেননি। আর অপরাধ যখন করেই ফেলেছেন, তখন শাস্তি তো ভোগ করতেই হবে। শাস্তিস্বরূপ তিন লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হল ওই মহিলাকে। শুনলে অবাকই হতে হয়। কিন্তু এটাই সত্যি।

Advertisement

[আরও পড়ুন: দিল্লির গদি দখলে ‘মিষ্টি’ লড়াই, কলকাতায় ক্ষীরের মোদি-মমতা ঘিরে উন্মাদনা]

নেহা দাতওয়ানি পেশায় একজন অ্যাডভার্টাইজিং এক্সিকিউটিভ। নিস্বর্গ হেভেন সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটেই থাকেন। কিন্তু পশুপ্রেমী এই মহিলাকে কেন এমন মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হল? সোসাইটির চেয়ারম্যান মিতেশ বোরা বলেন, “সোসাইটি চত্বরে রাস্তার সারমেয়কে খাওয়ানোর যাবে না। সোসাইটির ৯৮ শতাংশ বাসিন্দার অনুমতি নিয়েই এই নিয়মে সিলমোহর লাগানো হয়েছিল। নির্দেশ ছিল, নিয়মভঙ্গ করলে অভিযুক্তকে জরিমানা দিতে হবে। সকলে নিয়ম পালন করছেন কিনা, চেয়ারম্যান হিসেবে তা লক্ষ্য রাখা আমার দায়িত্ব।” সেই কারণেই তিন লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হচ্ছে সোসাইটির পশুপ্রেমীকে। তবে কি পশুপ্রেম অপরাধ? স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বোরা বলেন, “চত্বরের বাইরে পথকুকুরদের খাবার খাওয়ানো নিয়ে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। আমরাও পশুপ্রেমী। পশুর অধিকার নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। কিন্তু মানবাধিকারকেও গুরুত্ব দিতে হবে।”

Advertisement

নেহা বলেন, “আমায় তিন লক্ষ ৬০ হাজার টাকার একটা মেনটেন্যান্স বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাস্তার সারমেয়কে খাওয়ানোর অপরাধে প্রতিদিন আমায় আড়াই হাজার টাকা করে দিতে হবে। পশু সুরক্ষা দপ্তরেও বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।” নেহা এও জানান, ওরা রাস্তার কুকুর নয়। সোসাইটির ভিতরই জন্মেছে তারা। তখন থেকেই ওদের দেখভাল করতেন তিনি। কিন্তু আচমকা নতুন নিয়ম চালু করে দেওয়া হয়। নিজের এমন ‘অপরাধ’-এর জন্য কোনও জরিমানা দিতে রাজি নন নেহা।

[আরও পড়ুন: তৃণমূলের দেওয়াল লিখনে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি, বিতর্ক তুঙ্গে]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.