UN map

রাষ্ট্রসংঘের নয়া মানচিত্রে ভারতের অংশ নয় অরুণাচল, আকসাই চিন! কড়া বার্তা নয়াদিল্লির

জম্মু ও কাশ্মীরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখাকে ডটেড লাইন হিসেবে দেখানো হয়েছে। মানচিত্রের নিচে সেই ডট লাইনের ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও অরুণাচল ও আকসাই চিন নিয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি রাষ্ট্রসংঘ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১৯:১৭

options
link
রাষ্ট্রসংঘের নয়া মানচিত্রে ভারতের অংশ নয় অরুণাচল, আকসাই চিন! কড়া বার্তা নয়াদিল্লির
এআই ছবি।

ভারতের সমর্থনে রাষ্ট্রসংঘে পাশ হয়েছে ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ প্রস্তাব। এরপরই বিশ্বের নয়া মানচিত্র প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ। তবে সেই মানচিত্র ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। দেখা যাচ্ছে, নয়া মানচিত্রে চিন সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশ ও আকসাই চিনকে ভারতের অংশ হিসেবে না দেখিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যবর্তী আলাদা অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, অরুণাচল প্রদেশ সঙ্গে নাগাল্যান্ডের সীমানাও মুছে দেওয়া হয়েছে ম্যাপে। এই ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি।

Advertisement

অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে ভারত-চিনের। তবে ভারত বরাবর জানিয়ে এসেছে জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, আকসাই চিন ও অরুণাচল ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই পরিস্থিতিতেই রাষ্ট্রসংঘের তরফে যে মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে অরুণাচল প্রদেশ ও আকসাই চিনকে ভারতের অংশ হিসেবে না দেখিয়ে ভারত ও চিনের মধ্যবর্তী আলাদা অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে নাগাল্যান্ডের সীমানা মুছে রাজ্যটির দক্ষিণ সীমানা দেখানো হয়েছে ‘চাইনিজ লাইন’ এবং উত্তর সীমানা ‘ইন্ডিয়ান লাইন’ হিসেবে। একইভাবে আকসাই চিনের পূর্ব সীমানা ‘ইন্ডিয়ান লাইন’ ও পশ্চিম সীমানা ‘চাইনিজ লাইন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখাকে ডটেড লাইন হিসেবে দেখানো হয়েছে। মানচিত্রের নিচে সেই ডট লাইনের ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও অরুণাচল ও আকসাই চিন নিয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি রাষ্ট্রসংঘ।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

জম্মু ও কাশ্মীরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখাকে ডটেড লাইন হিসেবে দেখানো হয়েছে। মানচিত্রের নিচে সেই ডট লাইনের ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও অরুণাচল ও আকসাই চিন নিয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি রাষ্ট্রসংঘ।

এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে ভারতের তরফে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, “কোনও প্রস্তাবকে সমর্থনের অর্থ এটা নয় যে, আমরা নির্দিষ্ট মানচিত্রের সীমানাকে সমর্থন করছি। ভারতের সরকারি মানচিত্র অনুযায়ী দেশের সার্বভৌম এলাকা দেখাতে হবে। জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, আকসাই চিন এবং অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এ নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।”

Advertisement
New UN map projects Arunachal and Aksai Chin outside Indian borders
রাষ্ট্রসংঘের প্রকাশিত নয়া ম্যাপ।

মানচিত্র বদল সংক্রান্ত ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ নামের প্রস্তাবটি রাষ্ট্রসংঘে পেশ করেছিল আফ্রিকার দেশ টোগো। জি-২০ গোষ্ঠীতে আফ্রিকান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘে ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্রকে সমর্থন জানানো— সবক্ষেত্রেই ভারত বারবার আফ্রিকান ইউনিয়নের দেশগুলির সহযোগী হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রস্তাবিত বিশ্ব মানচিত্রের ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিল ১৬৫টি দেশ। এর মধ্যে একমাত্র আমেরিকাই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিলেও বাকি দেশগুলিই প্রস্তাবের সপক্ষে ভোট দিয়েছে। ভোটাভুটি থেকে বিরত ছিল ৬টি দেশ। সব মিলিয়ে ১৬৪-১ ফলাফলে পাশ হয়ে যায় প্রস্তাব।

উল্লেখ্য, প্রথাগত ‘মার্কেটর মানচিত্র’ তৈরি হয়েছিল ১৫৬৯ সালে। তৈরি করেছিলেন জেরার্ডাস মার্কেটর। সমুদ্রপথে নাবিকদের যাতে চলাচলে সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। তবে গোলাকার পৃথিবীকে সমতল মানচিত্রে দেখাতে গিয়ে মহাদেশগুলির তুলনামূলক আয়তনের ভারসাম্য লঙ্ঘিত হয় বলেই দাবি। যেমন আফ্রিকাকে গ্রিনল্যান্ডের প্রায় সমান দেখানো হয় এই মানচিত্রে। অথচ বাস্তব ছবিটা একেবারেই আলাদা। গ্রিনল্যান্ডের চেয়েও আফ্রিকা প্রায় ১৪ গুণ বড়। নতুন মানচিত্রে মহাদেশগুলির আয়তনের তুলনামূলক দিকটিকে মাথায় রাখা হয়েছে। তবে সেখানে ভারতের মানচিত্রে রাষ্ট্রসংঘের এই কারসাজিতে ক্ষুব্ধ ভারত।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.