TCS

গর্ভবতী দোহাই দিয়ে লাভ হল না, জামিন পেলেন না টিসিএস ধর্মান্তরণ কাণ্ডে অভিযুক্ত নিদা খান!

পাশাপাশি ২৭ এপ্রিলের মধ্যে নিদার আবেদনের ভিত্তিতে জবাব দাখিল করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১৯:২০

options
link
গর্ভবতী দোহাই দিয়ে লাভ হল না, জামিন পেলেন না টিসিএস ধর্মান্তরণ কাণ্ডে অভিযুক্ত নিদা খান!
পলাতক নিদার খোঁজে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

নাসিকের টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসের (টিসিএস) ধর্মান্তরণ কাণ্ডে (TCS Conversion Case) অন্যতম অভিযুক্ত এইচআর কর্মী নিদা খান আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। যদিও সেই আবেদন গ্রাহ্য হল না নিম্ন আদালতে। পাশাপাশি ২৭ এপ্রিলের মধ্যে নিদার আবেদনের ভিত্তিতে জবাব দাখিল করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে বিচারক।

Advertisement

নাসিক টিসিএস সংক্রান্ত নয়টি যৌন নির্যাতন, হেনস্তার মামলার তদন্ত করছে মহারাষ্ট্র পুলিশের বিশেষ দল। পলাতক নিদার খোঁজে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালাচ্ছে তারা। এর মধ্যেই গত শনিবার আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন অভিযুক্তের আইনজীবী। দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা জানিয়ে শারীরিক অসুস্থতার ভিত্তিতে জামিনের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।

Advertisement

সোমবার নিম্ন আদালতের শুনানিতে নিদা খানের আইনজীবী রাহুল কাসলিওয়াল অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার জন্য সওয়াল করেন। যতক্ষণ না মূল মামলাটির নিষ্পত্তি হচ্ছে, ততক্ষণ গ্রেপ্তারি এড়াতে আগাম জামিনের দাবি করেন তিনি। যদিও দায়রা আদালতের বিচারক কোনও ধরনের নির্দেশিকাই জারি করেননি এদিন। ২৭ এপ্রিলের মধ্যে নিদার আবেদনের ভিত্তিতে পুলিশের জবাব চেয়েছেন তিনি।

Advertisement

সূত্রের খবর, নিদা খান দাপ্তরিক ভাবে এইচআর প্রধান পদে ছিলেন না, তিনি টেলিকলার হিসাবেই সংস্থায় যোগ দেন। যদিও কার্যক্ষেত্রে এইচআর প্রধানের কাজ করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একটি চক্রের হয়ে ‘কর্পোরেট জেহাদ’ পরিচালনা করতেন। সংস্থার মহিলা কর্মীদের জোর করে ধর্মান্তরণের চেষ্টা করতেন। এমনকী হিন্দু কর্মীদের আমিষ খাবার খেতে বাধ্য করতেন বলেও অভিযোগ। জবরদস্তি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্য চাপ দিতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, নিদা খান (Nida Khan) বর্তমানে মুম্বইয়ে কোনও অজ্ঞাতবাসে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, যৌন নির্যাতন, মানসিক হেনস্তা এবং ধর্মান্তরণের অভিযোগ আইটি জায়েন্ট সংস্থার নাসিক কেন্দ্রের বেশ কিছু কর্মীর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ এনেছেন টিসিএসের কমপক্ষে ন’জন মহিলা কর্মী। এই বিষয়ে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিশ মহাজনের দাবি, “কোম্পানির চার-পাঁচজন মুসলিম কর্মী এবং কিছু কর্মকর্তা চাকরি, ভালো বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়েদের প্রলুব্ধ করেছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, মহিলাদের “নমাজ পড়তে ও রোজা রাখতে বাধ্য করা হয়েছিল।” গোট ঘটনায় মুখ পুড়েছে ভারত বিখ্যাত তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থার। ইতিমধ্যে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্তে নেমেছে নাসিক পুলিশ।

একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফআইআর করেছেন ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি টিসিএস-এর মহিলা কর্মীরা। গত দুই থেকে তিন বছর ধরে তাঁদের উপর নির্যাতন চলেছে বলে অভিযোগ। গ্রেপ্তার হওয়া ছয় অভিযুক্তের মধ্যে টিসিএসের ইঞ্জিনিয়ার পদমর্যাদার আধিকারিকও রয়েছেন। আরও কয়েক জনের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। প্রয়োজনে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। এএনআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শ্লীলতাহানি ও ধর্মান্তরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে টিসিএসের বিভিন্ন পদে থাকা আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং অশ্বিন চাইনানিকে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.