গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্ত্রীর, প্রয়োজন নেই স্বামীর অনুমতির

একটি মামলায় এমনই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২৯, ২০১৭, ০৮:২০

options
link
গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্ত্রীর, প্রয়োজন নেই স্বামীর অনুমতির
ছবি: প্রতীকী

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিবাহ বিচ্ছেদ মামলায় লোক আদালত একসঙ্গে থেকে মনোমালিন্য মিটিয়ে নিতে বলেছিল। সেটা সম্ভব হয়নি। ফলে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে দাঁড়ি টানাই অনিবার্য ছিল। আইনি বিচ্ছেদ না হলেও তাঁরা ফের আলাদা থাকতে শুরু করেন। তবে একসঙ্গে থাকার সময় সহবাসে মহিলার গর্ভে সন্তান আসে। ওই মহিলা সেই অনাকাঙ্খিত সন্তানের জন্ম দিতে চাননি। গর্ভপাত করান। এরপর মহিলার স্বামী তাঁর অনুমতি ছাড়া গর্ভপাতের জন্য মানসিক আঘাতের কথা বলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট ঘুরে সুপ্রিম কোর্টে আসেন। শীর্ষ আদালতের রায় তাঁর বিপক্ষেই গিয়েছে।

Advertisement

একজন মহিলা গর্ভপাত করাবেন কিনা, সেটি তাঁর একার সিদ্ধান্ত। এই ব্যাপারে গর্ভস্থ শিশুর পিতার অনুমতির প্রয়োজন নেই। এই মামলায় এমনই রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের কথায়, কোনও প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা যদি তাঁর গর্ভস্থ ভ্রুণের জন্ম দিতে না চান, সেক্ষেত্রে বিষয়টিতে অন্য কারও হস্তক্ষেপের অধিকার নেই। এমনকী, সেই মহিলা যদি মানসিক ভারসাম্যহীন হন তাতেও। সরকারি বা বেসরকারি ক্লিনিকে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা গর্ভপাত করাতে গেলে গর্ভস্থ ভ্রুণের পিতার অনুমতি আবশ্যিক। অর্থাৎ, প্রতিক্ষেত্রেই মহিলার সঙ্গীকে বিষয়টি জানানো এবং তাঁর অনুমতি প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর মহিলাদের সেই অনুমতি নেওয়ার দরকার হবে না। অর্থাৎ, কোনও মহিলাকে গর্ভপাতের জন্য যেমন বাধ্য করা যায় না, তেমনই সেই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপও করা যাবে না। এইভাবে শীর্ষ আদালত দু’টি বিষয়কে সামঞ্জস্যপূর্ণ করল।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আসন্ন সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে বিশ্বকে চমকে দিতে তৈরি ভারত]

চণ্ডীগড়ের এক মহিলা ১৯৯৪ সালে বিয়ে করেন। পরের বছরই তাঁদের একটি পুত্রসন্তান আসে। এরপরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। ’৯৯ সাল থেকে তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন। বিষয়টি গড়ায় আদালতে। বিচ্ছেদের মামলা চলাকালীন চণ্ডীগড়ের লোক আদালত তাঁদের আবার কিছুদিন একসঙ্গে থেকে নিজেদের মধ্যে সমস্যা মিটিয়ে নিতে বলে। ২০০২ সালের নভেম্বর থেকে তাঁরা সেই মতো একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। ওই সময় মহিলা গর্ভবতী হয়ে পড়েন। কিন্তু ঘরবন্ধনে থেকেও সেই সম্পর্কে কোনও উন্নতি হয়নি। মহিলা ফের স্বামীকে ছেড়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। এই অবস্থায় মহিলা গর্ভপাত করাতে চান। সে কথা স্বামীকে জানালে তিনি রাজি হননি এবং সম্মতি দেননি। কিন্তু মহিলা একক সিদ্ধান্তেই গর্ভপাত করান। এরপর তাঁর অনুমতি ছাড়া স্ত্রী গর্ভপাত করানোর জন্য যে মানসিক যন্ত্রণা পেয়েছেন তার ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৩০ লক্ষা টাকা দাবি করে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানে আবেদন খারিজ হলে আসেন সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু শীর্ষ আদালতও সেই হাই কোর্টের রায়ের পক্ষে সায় দিয়ে বলল, “উনি মা এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক, যিনি বলছেন মা হতে গর্ভ রাখতে চান না, কীভাবে তিনি বা অন্যদের এর জন্য দায়ী করা যাবে? এমনকী, একটি মানসিক প্রতিবন্ধী মহিলা গর্ভপাতের অধিকার রাখেন। কীভাবে বাবা-মা এবং চিকিৎসকরা দায়বদ্ধ হতে পারেন?”

Advertisement

[যোগীর রাজ্যে শিশুকে পিষল মন্ত্রীর কনভয়, ক্ষতিপূরণের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর]

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.