বেঁচে উঠবে মৃত কিশোর, তান্ত্রিকের আশ্বাসে তিনদিন শব আগলে পরিবার

এ কোন সমাজ?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯, ১৮:৪৭

options
link
বেঁচে উঠবে মৃত কিশোর, তান্ত্রিকের আশ্বাসে তিনদিন শব আগলে পরিবার
প্রতীকী ছবি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ঘরের ভিতর তিনদিন ধরে রেখে দেওয়া হয়েছে কিশোরের মৃতদেহ। কেন? কারণ তান্ত্রিক আশ্বাস দিয়েছে, কিশোর ফের বেঁচে উঠবে!

Advertisement

বিজ্ঞানের কল্যাণে উন্নতির সিঁড়ি চড়ছে সমাজ। অথচ এই সমাজেরই একাংশে এখনও জ্ঞানের আলো পৌঁছয়নি। আর সেখানেই বহাল তবিয়তে বিরাজমান অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার। ঝাড়খণ্ডের সিমদেগা জেলায় এমনই এক ঘটনার কথা সামনে এল। যা শুনে শিউরে ওঠতে হয়।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[প্যারাডাইস পেপারস তদন্ত করবে যৌথ তদন্তকারী দল]

কাজের সূত্রে দিল্লিতে থাকেন কিশোরের মা। তাই অষ্টম শ্রেণির ওই বালক ঝাড়খণ্ডে নিজের ঠাকুরমার সঙ্গেই থাকত। কয়েকদিন আগেই সে বাড়িতে জানিয়েছিল তার পেটে অসম্ভব যন্ত্রণা হচ্ছে। যন্ত্রণা এতটাই বাড়ে যে, ঘরোয়া টোটকায় কোনও কাজ হয়নি। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে কিশোরের ঠাকুরমা তাকে নিয়ে যান এক তান্ত্রিকের কাছে। ওষুধ নয়, কিশোরকে সুস্থ করতে একটি তাবিজ দেয় তান্ত্রিক। ওই পরিবারকে তান্ত্রিক জানায়, সেই তাবিজের অপরিসীম শক্তিতেই নাকি কিশোর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি। কোনও জাদুই কাজ করেনি। ফলে গত বুধবার ফের পেটের অসহ্য যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়ে কিশোর। এবারও তান্ত্রিকেরই দ্বারস্থ হন কুসংস্কারাচ্ছন্ন ঠাকুরমা। তান্ত্রিক আরেক ধাপ এগিয়ে জানিয়ে দেয়, কিশোরের শরীরে অশরীরী ভর করাতেই বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছে সে। কিশোরের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটার ইঙ্গিতও পরিবারকে জানিয়ে রাখে সেই তান্ত্রিক। শুধু ঠাকুরমাই নয়, সব দেখার পরও কিশোরের পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাননি। ফলে শুক্রবার সকালে বিনা চিকিৎসায় অন্ধবিশ্বাসের বলি হতে হল ওই কিশোরকে।

Advertisement

[পাঠানকোটের বদলা নিল সেনা, পুলওয়ামায় খতম মাসুদ আজহারের ভাইপো]

কিশোরের মৃত্যুর পরও অবশ্য তান্ত্রিকের প্রতি বিশ্বাস হারায়নি পরিবার। তার নির্দেশেই তিনদিন ধরে ঘরের মধ্যে রেখে দেওয়া হয় কিশোরের মৃতদেহ। এই বিশ্বাসে, যে সে আবার বেঁচে উঠবে। চোখ খুলবে। শেষমেশ গ্রাম প্রধান এসে পরিবারকে শেষকৃত্যের কাজ করতে অনুরোধ জানালে তবে কিশোরকে দাহ করা হয়। অন্ধবিশ্বাসের জন্য যে সমাজে তাজা প্রাণ বলি দেওয়া হয়, সে সমাজ কি সত্যিই কাম্য? প্রশ্নটা উঠেই গেল।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.