হাওড়া, হুগলির সঙ্গে গোটা দেশের যোগাযোগকারী রেল প্রকল্পগুলির কাজ কতদূর এগোল? লোকসভা অধিবেশন শুরু হওয়ার পর হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachana Banerjee ) এই প্রশ্ন করেছিলেন। বুধবার সংসদে তাঁর সেই প্রশ্নের দীর্ঘ জবাব দিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিণী বৈষ্ণব। লিখিত জবাবে জানানো হয়েছে, ভারতীয় রেলে ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজগুলি ট্র্যাফিক, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে কাজ হয়। এছাড়া রেল পরিষেবা আরও বিকাশের স্বার্থে সম্পাদন করা হয়।
আরও পড়ুন:
সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সংসদীয় এলাকায় রেলপথ সম্প্রসারণের কাজের গতিপ্রকৃতি কী, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন। হাওড়া-বালি-ডানকুনি-হুগলি করিডোরে অতিরিক্ত লাইন, ইয়ার্ড পুনর্গঠন এবং টার্মিনাল পরিকাঠামো উন্নয়ন-সহ ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ সরকার হাতে নিয়েছে কিনা বা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে কিনা? যদি প্রস্তাব দেওয়া হয়ে থাকে তবে তার বিবরণসহ ডানকুনি কোচিং টার্মিনাল এবং ফ্রেট হ্যান্ডলিং সম্প্রসারণ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা কী? কাজ শুরুর ও শেষের সম্ভাব্য তারিখ এবং এই করিডোরে চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলি সম্পন্ন হওয়ার পর সরকার শহরতলি ট্রেনের সংখ্যা ও পণ্য পরিবহণ ক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা মূল্যায়ন করেছে কিনা। তাঁর আরও প্রশ্ন, ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে পূর্ব রেলের হাওড়া-হুগলি শাখায় রেল পরিকাঠামো প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ কত?
এসবের উত্তরে রেল, তথ্য ও সম্প্রচার এবং ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিণী বৈষ্ণব জানান, ৯২.৮৫ কোটি টাকা খরচে নতুন ইন্টারলকিং সিস্টেম স্থাপন, চারটি প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ এবং সার্ভিস বিল্ডিং নির্মাণ-সহ হাওড়া ইয়ার্ড পুনর্গঠনের কাজ হচ্ছে। হাওড়া-ডানকুনি রেলপথে সেই কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ২৭.১৮ কোটি টাকা খরচে শান্টিং লাইনের সম্প্রসারণ এবং সিগন্যালিং ও ইন্টারলকিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ-সহ ডানকুনি ইয়ার্ড পুনর্গঠনের কাজের দায়িত্বও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডানকুনি কোচিং টার্মিনালের জন্য ডিটেলড প্রজেক্ট রিপোর্ট বা ডিপিআরের কাজ চলছে।
এই মুহূর্তে হাওড়া-ডানকুনি শাখায় বর্তমানে ১১৩টি ট্রেন চলে। রয়েছে বিশেষ পরিষেবাও। রেলমন্ত্রী অশ্বিণী বৈষ্ণব আরও জানিয়েছেন, নতুন ট্রেন চালু করা একটি প্রক্রিয়া, যা বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ওই শাখা কতটা জরুরি, উপযুক্ত পরিসর, প্রয়োজনীয় রোলিং স্টক, তার জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকাঠামো, রেললাইন এবং অন্যান্য সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সর্বোপরি ওই শাখার যাত্রীসংখ্যা ও ট্র্যাফিকের প্রয়োজনীয়তা। এছাড়া, হাওড়া-ডানকুনি সেকশনে দিনে ছ’টি মালগাড়ি চলাচল করে। হাওড়া-হুগলি সেকশনে এই সংখ্যা দিনে চারটি।
অশ্বিণী বৈষ্ণবের আরও জবাব, এই সেকশনে যাত্রী ও পণ্যবাহী উভয় ট্রেনেরই যানজট মুক্ত করা এবং যাতায়াতের গতি বাড়াতে বেশ কিছু কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ডানকুনি-বাল্টিকুড়ি তৃতীয় এবং চতুর্থ লাইন সম্প্রসারণ, ২০২৫-২৬ সালে ৪২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে যে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রকল্পটিকে বিশেষ রেল প্রকল্প হিসাবেও ঘোষণা করা হয়েছে।জমি অধিগ্রহণের জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চন্দনপুর-শক্তিসড়ক (শক্তিগড়) চতুর্থ লাইন সম্প্রসারণের কাজ হয়েছে, ২০২৪-২৫ সালে ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। পূর্ব ভারতের ডানকুনিকে পশ্চিমের সুরাটের সঙ্গে যুক্তকারী একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাজেটে। রেলমন্ত্রী জানান, এই করিডরের জন্য ডিপিআর প্রস্তুত করার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাথার দাম ১ কোটি, বঙ্গেই গা ঢাকা! মদনকে জেরায় মাওবাদী নেতা আকাশের তথ্য পেল পুলিশ
-
ভবানীপুরে বিজেপি কর্মীকে মারধর, মাকে শ্লীলতাহানি! পুলিশের জালে তৃণমূল নেতা
-
‘টোটো অবৈধ, এ বার ই-রিকশা’, ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের
-
বিচ্যুতি দেখলেই ‘অ্যাকশন’, ‘তোলাবাজ’ ধরতে জেলা পর্যবেক্ষকদের গুরুদায়িত্ব শমীকের!
-
যশের দ্বৈত চরিত্রে ঘায়েল দর্শক, ‘টক্সিক’-এর ট্রেলারে উঠে এল নয়ের দশকের অন্ধকার জগৎ