Sikkim

সিকিমজুড়ে রয়েছে জনশ্রুতি! অবশেষে ক্যামেরাবন্দি বিলুপ্তপ্রায় ‘ইউরেশিয়ান লিংক্স’

ছবিতে দেখা গিয়েছে, প্রাণীটি মাঝারি আকারের। কানের উপরের দিকে লোমগুচ্ছ এবং ছোট লেজ রয়েছে। এটি অত্যন্ত ঠান্ডা ও পাহাড়ের উঁচু এলাকায় টিকে থাকতে পারে।

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য
বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: জুলাই ১, ২০২৬, ২১:৪৯

options
link
সিকিমজুড়ে রয়েছে জনশ্রুতি! অবশেষে ক্যামেরাবন্দি বিলুপ্তপ্রায় ‘ইউরেশিয়ান লিংক্স’
ক্যামেরায় ধরা দেওয়া ইউরেশিয়ান লিংক্স-এর ছবি।

সিকিম পাহাড়ে এই প্রথম বিলুপ্তপ্রায় বিড়াল প্রজাতির প্রাণী ইউরেশিয়ান লিংক্স-এর ছবি সমীক্ষক দলের ফাঁদ ক্যামেরা বন্দি হল। বৃহস্পতিবার সিকিমের বন ও পরিবেশ দপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওই খবর জানানো হয়েছে। উত্তর সিকিমের মঙ্গন জেলার ৫ হাজার ২৫০ ফুট উঁচু তুষারাবৃত তসো লামোতে প্রাণীটি ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ওই সময় রাজ্যের বন ও পরিবেশ দপ্তর এবং ডব্লিউডব্লিউএফ ইন্ডিয়ার যৌথ উদ্যোগে স্নো লেপার্ড পর্যবেক্ষণের জন্য বসানো একটি ফাঁদ ক্যামেরায় ছবি ধরা পড়ে বিরল প্রজাতির এই প্রাণ। এর আগে ডব্লিউডব্লিউএফ ইন্ডিয়ার সমীক্ষায় অরুণাচল প্রদেশে প্রথম ইউরেশিয়ান লিংক্সের ছবি ক্যামেরা বন্দি হয়।

Advertisement

ডব্লিউডব্লিউএফ ইন্ডিয়ার হিমালয় কর্মসূচির প্রধান ঋষিকুমার শর্মা জানান, অরুণাচল প্রদেশে ২০২৫ সালে ইউরেশিয়ান লিংক্সের ছবি সামনে এসেছিল। এরপর সিকিমের নতুন নজির নিশ্চিত করে পূর্ব হিমালয়ে ওই প্রাণীর উপস্থিতি গল্প নয়, বাস্তব। 

সিকিমের প্রধান বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী) উদয় গুরুং জানান, তসো লামো এলাকায় ইউরেশিয়ান লিংক্সের উপস্থিতি আলোকচিত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়েছে। এটা সিকিমের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। ডব্লিউডব্লিউএফ ইন্ডিয়ার হিমালয় কর্মসূচির প্রধান ঋষিকুমার শর্মা জানান, অরুণাচল প্রদেশে ২০২৫ সালে ইউরেশিয়ান লিংক্সের ছবি সামনে এসেছিল। এরপর সিকিমের নতুন নজির নিশ্চিত করে পূর্ব হিমালয়ে ওই প্রাণীর উপস্থিতি গল্প নয়, বাস্তব। লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই দুর্লভ বন বিড়ালজাতীয় প্রাণীটি সম্পর্কে সিকিমে বহু বছর থেকে বিভিন্ন জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। ছবিতে দেখা গিয়েছে, প্রাণীটি মাঝারি আকারের। কানের উপরের দিকে লোমগুচ্ছ এবং ছোট লেজ রয়েছে। এটি অত্যন্ত ঠান্ডা ও পাহাড়ের উঁচু এলাকায় টিকে থাকতে পারে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, কয়েক বছর থেকে সিকিম রাজ্য সরকারের বন ও পরিবেশ দপ্তর এবং ডব্লিউডব্লিউএফ ইন্ডিয়া যৌথ উদ্যোগে তুষার চিতা ও তৃণভূমি পর্যবেক্ষণের কাজ করছে। ওই সমীক্ষায় তুষার চিতা ও সংশ্লিষ্ট উঁচু পাহাড়ি এলাকায় থাকা প্রাণীদের সংখ্যার পরিবর্তন ও ঋতুভেদে তাদের বিচরণক্ষেত্রের উপর নজর রাখা হচ্ছে। এজন্য বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর ফাঁদ ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সেই ক্যামেরায় ইতিমধ্যে ধরা পড়েছে স্নো লেপার্ড, প্যালাসের বিড়াল, তিব্বতি নেকড়ে, তিব্বতি স্যান্ড ফক্স, তিব্বতি গেজেল, তিব্বতি আরগালি এবং সাউদার্ন কিয়াং-এর মতো বিরল প্রজাতির প্রাণী। এবার ইউরেশিয়ান লিংক্স-এর ছবি রেকর্ড হতে বন্যপ্রাণী গবেষক মহল উচ্ছ্বসিত। তারা জানিয়েছেন, উত্তর সিকিমের মঙ্গন জেলার তসো লামো চরম ঠান্ডা ও কম জনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেখানে ট্রান্স-হিমালয়ান বন্যপ্রাণীর এমন এক বৈচিত্র্যময় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে যা আগে জানা ছিল না। ডব্লিউডব্লিউএফ-ইন্ডিয়ার হিমালয় কর্মসূচির প্রধান জানান, এখানকার প্রকৃতি ও প্রাণীদের বুঝতে ও রক্ষা করতে দীর্ঘমেয়াদী ও সুশৃঙ্খল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা অপরিহার্য। 

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.