‘চিকেনস নেক’ অর্থাৎ ‘শিলিগুড়ি করিডর’-এর মাথায় একেবারে চিন সীমান্তে বসে পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ‘ইসলামিক স্টেট’ (আইএস)-এর জন্য সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা! তাও আবার কিনা পান দোকানের আড়ালে বসে। এমনকী ‘গ্রুপ অফ ইসলামিক মেম্বারস’ নামে ইনস্টাগ্রাম গ্রুপ খুলে লাগাতার ভারত বিরোধী প্রচার চালানো হচ্ছিল বলেও অভিযোগ। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ দল এবং গ্যাংটক পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার মহম্মদ আরজু নামে এক যুবক। গ্যাংটক শহরের নাম নাং এলাকা থেকে উনিশ বছরের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। সিকিম পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আরজু বাবার সঙ্গে লোয়ার এমজি মার্গের কাছে একটি পানের দোকান চালাত। ব্যবসার আড়ালেই এহেন ষড়যন্ত্রে ওই যুবক যুক্ত ছিলেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে দফায় দফায় ধৃত ওই যুবককে জেরা করা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন সিকিমের বিধায়ক কলা রাই। তিনি বলেন, “খুবই উদ্বেগজনক ঘটনা। সিকিম আন্তর্জাতিক সীমান্ত ঘেরা। এখানে পাক এজেন্ট ধরা পড়া মামুলি ঘটনা নয়। এখন থেকে প্রতিটি দোকান, কে কোথায় কি করছে সেটা খতিয়ে দেখা জরুরি।”
আরও পড়ুন:
তদন্তকারী গোয়েন্দারা ‘গ্রুপ অফ ইসলামিক মেম্বারস’ নামে ইনস্টাগ্রাম গ্রুপকে চিহ্নিত করেছেন। অভিযোগ, ওই গ্রুপটি ভারত বিরোধী সন্ত্রাসী বিষয়বস্তু আদান-প্রদান এবং স্থানীয় পর্যায়ে সদস্য সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হত। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সিকিমের গ্যাংটক শহর থেকে ১১২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ‘চিকেনস নেক’। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টারের সঙ্গে যোগাযোগের ওই সঙ্কীর্ণ ভূখণ্ডের দিকেই কুনজর রয়েছে পাকিস্তান ও চিনের মদতপুষ্ট বাংলাদেশি জঙ্গিদের। এই প্রেক্ষাপটে গ্যাংটক শহর থেকে মহম্মদ আরজু গ্রেপ্তারের পর চিন্তা বেড়েছে। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর নেটওয়ার্কের তদন্তে নেমে দিল্লির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দল গ্যাংটকের মহম্মদ আরজুর নাম জানতে পারে। অভিযোগ, ওই যুবক ইনস্টাগ্রাম গ্রুপ ব্যবহার করে উগ্রবাদী প্রচার চালিয়ে সদস্য সংগ্রহ এবং তথাকথিত ‘ইসলামিক রাষ্ট্র’-র মতাদর্শ প্রচারে সক্রিয় ছিল। এরপরই গ্যাংটক পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে নামে দিল্লি থেকে আসা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দলটি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় মহম্মদ আরজুর আচরণ সন্দেহজনক ছিল। এরপর তদন্তকারীরা মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষা করে এমন কিছু অ্যাপ, জিআইএম গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত কথোপকথন, জঙ্গি গোষ্ঠীর অর্থ প্রদান সংক্রান্ত আলোচনা এবং ভারত ও পাকিস্তানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পেয়ে গেলে যুবককে গ্রেপ্তার করে। গ্যাংটক পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও সিআইডি-র তরফে বুধবার জানানো হয়েছে অনলাইনে উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়া এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উগ্রবাদী প্রচার চালানোর অভিযোগে সিকিম পুলিশ এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন-১৯৬৭ এবং তথ্য প্রযুক্তি আইন-২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় সদর থানায় ৫৮/২০২৬ নম্বরযুক্ত এই এফআইআরটি দায়ের করা হয়েছে।। অন্যদিকে এই ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন সিকিমের বিধায়ক কলা রাই। তিনি বলেন, “খুবই উদ্বেগজনক ঘটনা। সিকিম আন্তর্জাতিক সীমান্ত ঘেরা। এখানে পাক এজেন্ট ধরা পড়া মামুলি ঘটনা নয়। এখন থেকে প্রতিটি দোকান, কে কোথায় কি করছে সেটা খতিয়ে দেখা জরুরি।”
সর্বশেষ খবর
-
সিকিমজুড়ে রয়েছে জনশ্রুতি! অবশেষে ক্যামেরাবন্দি বিলুপ্তপ্রায় ‘ইউরেশিয়ান লিংক্স’
-
আদালতে ১৫টি নথি জমা দিয়েও ভারতীয় নাগরিক প্রমাণে ব্যর্থ, কী ভুল হল অসমের ব্যক্তির?
-
জ্বালানির বাজারে বিশ্বগুরু! ‘তৈলভাণ্ডার’ রাশিয়ার সংকটে গ্যাসোলিন পাঠাচ্ছে ‘বন্ধু’ ভারত
-
বাদল অধিবেশনেই ফিরছে ‘দাগি’ মুখ্যমন্ত্রীদের গদি কাড়ার বিল, ফাঁস সাংসদ ভাঙানোর আসল কারণ
-
হাসপাতালে ভর্তি বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়! হয়েছে অস্ত্রোপচার, কোন রোগে আক্রান্ত অভিনেতা?