Indian Stock Market

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে শঙ্কিত অর্থনীতি! এক সপ্তাহে ভারতের বাজার থেকে হাওয়া ৩১ লক্ষ কোটি

মধ্য়প্রাচ্যে অস্থিরতা জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম ২৫ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছে। ব্যারেল প্রতি জ্বালানি তেলের দাম ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। অন্যতম কারণ ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৯, ২০২৬, ১৬:৩২

options
link
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে শঙ্কিত অর্থনীতি! এক সপ্তাহে ভারতের বাজার থেকে হাওয়া ৩১ লক্ষ কোটি
যুদ্ধের জেরে গোটা বিশ্বের তেলের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত।

যুদ্ধের আগুন পুড়ছে শেয়ার বাজার! সোমবার সকালে একধাক্কায় ২০০০ পয়েন্টের বেশি নেমেছে সেনসেক্স। নিফটি পড়েছে ৬৪৭.৬০ পয়েন্টে। এক ডলারের দাম হয়েছে ৯২.৩০ টাকা, যা ভারতীয় মুদ্রার পতনে সর্বকালীন নজির। নতুন খবর, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা যুদ্ধের জেরে ভারতের বাজার (Indian Stock Market) থেকে হাওয়া হয়ে গিয়েছে বিনিয়োগকারীদের ৩১ লক্ষ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাপী সংঘাতের পরিস্থিতি, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাজার থেকে অর্থ তুলে নেওয়া ভারতের মতো বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশের জন্য আর্থিক বিপর্যয় ডেকে আনছে।

Advertisement

কেবল আজ, সোমবারের বাজার মূলধনের প্রায় ১২.৭৮ ট্রিলিয়ন টাকার ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে এই ক্ষতির পরিমাণ ৩১ লক্ষ কোটি টাকা বলে দাবি। উল্লেখ্য, সোমবার সকাল ৯টা বেজে ১৮ মিনিট অবধি সেনসেক্স পড়েছে ২,১৭৭.৬১ পয়েন্ট। এর ফলে সেনসেক্স দাঁড়িয়েছে ৭৬,৭৪১.২৯ পয়েন্টে। অন্যদিকে নিফটি ৬৪৭.৬০ পয়েন্টে পড়ে হয়েছে ২৩,৮০২.৮৫ পয়েন্ট। শেয়ার বাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, যুদ্ধের বাজারে সবচেয়ে বেশি করে রক্তাক্ত হয়েছে ব্য়াঙ্কিং, আইটি সেক্টর এবং ধাতব সংস্থার স্টকগুলি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

মধ্য়প্রাচ্যে অস্থিরতা জেরে অপরিশোধিত তেলের দামের ২৫ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছে। ব্যারেল প্রতি জ্বালানি তেলের দাম ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। অন্যতম কারণ ইরান যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী তেল বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া। এদিকে গত চারটি ট্রেডিং সেশনে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় ইক্যুইটি থেকে প্রায় ২১,০০০ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। এই পরিমাণ গত ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে যুদ্ধের আশঙ্কায় বাজার নিয়ে অবিশ্বাসের আবহ তৈরি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

Advertisement

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা দু’হাজার ছাড়িয়েছে। রাশিয়া, চিন, স্পেন, ভারত-সহ একাধিক দেশ শান্তিপ্রস্তাব দিলেও কোনও পক্ষই যুদ্ধ থেকে সরতে রাজি নয়।

এই অবস্থায় গোটা বিশ্বের তেলের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত। একে তো মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলিও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, অন্যদিকে বন্ধ হয়ে গিয়েছে হরমুজ প্রণালী। ফলে নতুন করে কোনও তেলবাহী জাহাজ ভারত মহাসাগরে ঢুকতে পারছে না। সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের ঝুঁকি বাড়ছে। সাবধানী বিনিয়োগকারীরা বাজার থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছেন। এই সব কিছুই প্রতিফলিত হচ্ছে শেয়ার বাজারে। ধাক্কা খাচ্ছে দেশের অর্থনীতি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.