অতি ভারী বৃষ্টিতে হড়পা বান ও ভূমিধস। বিধ্বস্ত উত্তর সিকিমের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছে বেইলি ব্রিজ। ভেঙে গিয়েছে একাধিক রাস্তা। প্রবল প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে আটকে পড়েছেন শতাধিক পর্যটক। বিপর্যস্ত এলাকা থেকে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনী নেমেছে। উত্তর সিকিমের একাধিক জায়গা এই মুহূর্তে বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে খবর। পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে বয়ে চলেছে প্রবল জলের স্রোত। বাংলার পাশের রাষ্ট্র ভুটানের আবহাওয়াও অত্যন্ত খারাপ। প্রবল ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত ভুটান। প্রায় এক ফুট জলে তলিয়েছে ভারত-ভুটান সীমান্তের ফটক এলাকা। সিকিম, ভুটান থেকে জল ঢুকছে উত্তরবঙ্গে।
শনিবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে উত্তর সিকিমে। জংগু এলাকার ফিডাংয়ে ‘ফি খোলা’ নদীর উপর নির্মিত বেইলি ব্রিজ ভেসে গিয়েছে জলের তোড়ে। সড়কপথে ওই এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। ফিডাং-সঙ্কলং সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় কয়েকটি গ্রাম এই মুহূর্তে বিচ্ছিন্ন। জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পথও বন্ধ হয়েছে। উত্তর সিকিমের তারামচু এলাকায় চুংথাং-লাচেন সড়ক ভূমিধসে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় প্রচুর পর্যটক আটকে পড়েছেন। সেনাবাহিনী রাতেই পর্যটকদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয় এবং সাময়িকভাবে ডনকিয়ালা-লাচুং হয়ে বিকল্প পথে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে। উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কর্পসের জওয়ানরা।
আরও পড়ুন:

সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ফিডাং–সঙ্কলং সড়ক ফি খোলার বেইলি ব্রিজ ভেসে যাওয়ায় অবরুদ্ধ হয়েছে। চুংথাং–লাচেন সড়ক বড় ভূমিধসে তারামচুতে অবরুদ্ধ। সিংতাম–দিকচু সড়ক রাংচাংয়ে অবরুদ্ধ। রাকডং-টিনটেক হয়ে মঙ্গন–গ্যাংটক নামোক খোলায় অবরুদ্ধ। একের পর এক সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হতে প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের সিকিম পর্যটন দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভূমিধস নেমে কার্শিয়াংয়ের গয়াবাড়ি সড়ক অবরুদ্ধ হয়েছে। পর্যটকদের শিলিগুড়িতে ফেরার জন্য জিরো গোলাই, বুনকুলুং, মঞ্জু ফটক অথবা নল, দখালি বস্তি, দুধাই হয়ে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভুটানের একাংশ। ফুন্টশলিংয়ের তোর্সা হাউজিং কলোনি প্লাবিত হয়েছে। থ্রোমডে (স্থানীয় প্রশাসন) এবং রয়্যাল ভুটান পুলিশ ২০ জনেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে। ভারত-ভুটান ফটক প্রায় একফুট জলে তলিয়েছে। বন্যার জল বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে এবং যানবাহনগুলো জলের নিচে তলিয়েছে। টার্মিনালও জলে ভেসেছে। হড়পা বানের জলের সঙ্গে ভেসে আসা আবর্জনা ও ধ্বংসাবশেষের জন্য ফুন্টশলিং শহরের ঠিক উপরের দিকে ফুন্টশিলিং-থিম্পু মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়েছে। পাহাড়ে ভারী বর্ষণের জেরে উত্তরের সমতলে প্রতিটি নদীর জলস্তর বেড়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
সাবাশ খুদে কমরেড! জন্মদিনে পাওয়া অর্থ হকারদের জন্য বিমান বসুর হাতে দিল ২ বছরের কন্যা
-
ইসকনের সব পদ থেকে সরানো হল রাধারমণ দাসকে, কোন কাজের ‘শাস্তি’?
-
বুড়ো বয়সে চড়া মেক আপ-নাচ কেন? কটাক্ষ ধেয়ে আসতেই নিজের ‘গ্ল্যামার’ ছড়ালেন অপরাজিতা
-
ইন্দিরা পেরেছিলেন, রাজপাট-দল সব হারিয়ে ‘নিঃস্ব’ মমতা কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন?
-
দলে মেসি-ভিনি, চমক ডিফেন্সে! বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সেরা একাদশ বেছে নিল সংবাদ প্রতিদিন ডট ইন