Supreme Court

‘বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক থাকলেই চরিত্র খারাপ বলা যায় না’, তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

সওয়াল-জবাব চলাকালীন প্রশ্ন ওঠে, কোনও ব্যক্তি যদি বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকেন, সেটার ভিত্তিতে তাঁর চরিত্র বিচার করা যায় কি?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৯, ২০২৬, ১৮:৪৬

options
link
‘বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক থাকলেই চরিত্র খারাপ বলা যায় না’, তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের
সুপ্রিম কোর্ট, ফাইল ছবি।

বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো দিয়ে কারোর চরিত্র বিচার করা যায় না। গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। তেলেঙ্গানার এক পুলিশকর্মীর নিয়োগ নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি ছিল শীর্ষ আদালতে। সওয়াল-জবাব চলাকালীন প্রশ্ন ওঠে, কোনও ব্যক্তি যদি বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকেন, সেটার ভিত্তিতে তাঁর চরিত্র বিচার করা যায় কি? এই প্রাচীনপন্থী চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত বলেই জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

Advertisement

তেলেঙ্গানার কনস্টেবল গজুলা তিরুপতির নিয়োগ নিয়ে দায়ের হয় মামলা। কিন্তু গজুলার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা ছিল, যার সূত্রপাত তাঁর এক সম্পর্ক থেকে। যদিও সেই সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়নি। মামলার শুনানি চলাকালীন প্রশ্ন ওঠে, বিয়ের আগে যদি কারও শারীরিক সম্পর্ক থাকে তাহলে সেটাকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করে শাস্তি দেওয়া উচিত কি? সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট জবাব, ‘না’। বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রর বেঞ্চের মত, “সব সম্পর্ক তো বিয়ে পর্যন্ত যায় না। কিন্তু বিয়ে হয়নি বলেই সেই সম্পর্কে কেউ প্রতারণা করেছে এমনটা ধরে নেওয়া যায় না।”

Advertisement

এখানেই না থেমে দুই বিচারপতির বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, “দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক যদি একে অপরের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায়, তাহলে সেই সম্পর্ককে হাতিয়ার করে তাদের চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা যায় না। অবিবাহিতরা নিজের পছন্দমতো সম্পর্কে জড়াতে পারবেন না, এমন কোনও আইন নেই।” বেঞ্চের মতে, বর্তমান সমাজে বিয়ের আগেও সম্পর্ক হতে পারে। সেটাকে মাথায় রেখেই সামাজিক সংগঠনগুলিকেও বদলাতে হবে। পুরনো ধ্যানধারণা আঁকড়ে থাকলে চলবে না। কারওর বিচার করতে গেলেও সমাজের বদলে যাওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

Advertisement

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে কনস্টেবল হিসাবে নিযুক্ত হন গজুলা। কিন্তু তিনি জানান, প্রাক্তন প্রেমিকা তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন। সেই দেখে গজুলার চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়। পরের বছর ধর্ষণের অভিযোগ প্রত্যাহার হয়। কিন্তু গজুলার চাকরি আর ফেরেনি। সেই নিয়ে দীর্ঘ আইনি যুদ্ধের পর সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হন গজুলা। সেখানে চাকরি ফিরে পেয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে সামাজিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যও করল শীর্ষ আদালত।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.