Sabarimala Case

ঘুরিয়ে শবরীমালায় মহিলা প্রবেশে বিরোধিতা কেন্দ্রের, সতীদাহ মনে করিয়ে তোপ সুপ্রিম কোর্টের

কেন্দ্রের তরফে দাবি করা হয়, কোনও ধর্মীয় আচার কুসংস্কার কি না সেটার বিচার ধর্মনিরপেক্ষ আদালতে হতে পারে না। কারণ বিচারপতিদের ধর্মীয় জ্ঞান নেই।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১৬:৪৬

options
link
ঘুরিয়ে শবরীমালায় মহিলা প্রবেশে বিরোধিতা কেন্দ্রের, সতীদাহ মনে করিয়ে তোপ সুপ্রিম কোর্টের
শবরীমালা মন্দির। ফাইল ছবি।

শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশাধিকার মামলায় সতীদাহ প্রথার উদাহরণ টানল সুপ্রিম কোর্ট। ২০১৮ সালে কেরলের ওই মন্দিরে সব বয়সের মহিলার প্রবেশাধিকার দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হয়েছে নতুন পিটিশন। ৯ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে চলছে মামলার শুনানি। বেঞ্চের তরফ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ধর্মীয় আচার যদি সংবিধান বিরোধী হয় তাহলে সেটার বিরোধিতার দায়িত্ব রয়েছে আদালতের।

Advertisement

শবরীমালা মন্দির নিয়ে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সুপ্রিম কোর্টে বলেন। মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সি মহিলাদের প্রবেশে বাধার দেওয়া নেপথ্যে ‘লিঙ্গবৈষম্য’ নেই। মন্দিরের আরাধ্য দেবতা আয়াপ্পার সঙ্গে প্রচলিত ধর্মীয় রীতিনীতি, প্রথার ফলেই এই বিধিনিষেধ। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ধর্মের আস্থা ও নিজস্ব নিয়মের অন্তর্গত। এখানে আদালতের হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কেন্দ্রের এই জবাবের পালটা কড়া বার্তা দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

প্রধান বিচারপতি বলেন, “ধর্ম বিশেষজ্ঞ আমরা নই। কিন্তু ডাইনিবিদ্যা, নরবলি, নরমাংস ভক্ষণ, সতীদাহ প্রথার মতো কিছু বিষয় যদি থাকে যা আদালতের বিবেককে নাড়া দেয় তাহলে আর কোনও আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজনই থাকে না।”

বুধবার শুনানি চলাকালীন বিচারপতিদের বেঞ্চের মত, কোনও আচারকে কুসংস্কার বলা যায় কিনা সেটা অবশ্যই আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারপর আদালতের সিদ্ধান্ত কীভাবে বাস্তবায়িত হবে সেটা আইনসভা ঠিক করবে। কিন্তু আদালতে দাঁড়িয়ে আইনসভার প্রতিনিধি বলতে পারেন না যে এই ইস্যুতে শেষ কথা তাঁরাই বলবেন। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী প্রশ্ন করেন, ধর্মীয় আচারের নামে যদি ডাইনিপ্রথা চালিয়ে যাওয়া হয়, সেটা কি কুসংস্কার বলবেন না? জবাবে সলিসিটর জেনারেল জানান, “হ্যাঁ, বলতে হবে।” সতীদাহ, নরবলির মতো প্রথার উদাহরণও এদিন উল্লেখ করেছে শীর্ষ আদালত।

Advertisement

প্রধান বিচারপতি বলেন, “ধর্ম বিশেষজ্ঞ আমরা নই। কিন্তু ডাইনিবিদ্যা, নরবলি, নরমাংস ভক্ষণ, সতীদাহ প্রথার মতো কিছু বিষয় যদি থাকে যা আদালতের বিবেককে নাড়া দেয় তাহলে আর কোনও আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজনই থাকে না।” উল্লেখ্য, কেন্দ্রের তরফে দাবি করা হয়, কোনও ধর্মীয় আচার কুসংস্কার কি না সেটার বিচার ধর্মনিরপেক্ষ আদালতে হতে পারে না। কারণ বিচারপতিদের ধর্মীয় জ্ঞান নেই। সেটার পালটা দিয়েই বিচারপতিদের বেঞ্চ জানিয়েছে, ধর্মীয় আচার যদি সংবিধানের আদর্শের বিরোধী হয় তাহলে সেটা যাচাই করা আদালতের দায়িত্ব।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.